ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে বন্দি অবস্থায় হঠাৎ অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে মারা গেছেন সাভারের ভয়ংকর সিরিয়াল কিলার হিসেবে পরিচিত মশিউর রহমান খান সম্রাট। ‘সাইকো সম্রাট’ নামে দেশজুড়ে পরিচিতি পাওয়া এই ব্যক্তির আসল নাম ছিল সবুজ শেখ। মুন্সীগঞ্জ জেলার লৌহজং থানাধীন মৌছামান্দা গ্রামের পান্না শেখের ছেলে তিনি। গতকাল সোমবার সকালে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
সাভার মডেল থানার পরিদর্শক (অপারেশন) মো. হেলাল উদ্দিন এই মৃত্যুর তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, কেরানীগঞ্জের ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে গতকাল ভোরে হঠাৎ করেই সম্রাটের বুকে প্রচণ্ড ব্যথা শুরু হয়। শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে কারা কর্তৃপক্ষ কালক্ষেপণ না করে তাকে দ্রুত ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখানে সকাল সাড়ে সাতটার দিকে দায়িত্বরত চিকিৎসক তাকে মৃত বলে ঘোষণা করেন।
অপরাধ জগতের এক ভয়াবহ নাম ছিলেন এই সম্রাট। পুলিশের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ থেকে ২০২৬ সালের মধ্যে সাভার এলাকায় অন্তত সাতটি রোমহর্ষক খুনের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত ছিলেন তিনি। তদন্তে বেরিয়ে আসে, সাভার পৌরসভার একটি পরিত্যক্ত কমিউনিটি সেন্টারকে তিনি নিজের ‘মৃত্যুফাঁদ’ বানিয়েছিলেন। নিরীহ মানুষদের সেখানে ডেকে নিয়ে খুন করা হতো। হত্যার পর কাঁধে করে লাশ গুম করতে যাওয়ার একটি সিসিটিভি ফুটেজ প্রকাশ্যে এলে সে সময় পুরো দেশে ব্যাপক চাঞ্চল্য ও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছিল।
পরবর্তীতে ২০২৬ সালের জানুয়ারি মাসে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর এক অভিযানে গ্রেপ্তার হন এই সিরিয়াল কিলার। সাভার মডেল থানায় তার বিরুদ্ধে পাঁচটি হত্যা মামলা দায়ের করা হয়। পুলিশ জানিয়েছিল, এসব মামলায় সম্রাটের নিজের স্বীকারোক্তি ছাড়াও সিসিটিভি ফুটেজসহ হত্যার শক্ত সব আলামত তাদের হাতে ছিল।
এদিকে সম্রাটের গ্রামের বাড়ি মুন্সীগঞ্জে হলেও স্থানীয় থানা পুলিশ তার মৃত্যুর বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানত না। লৌহজং থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনিরুল ইসলাম জানান, তারা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকের মাধ্যমে এই খবরটি পেয়েছেন। কারা কর্তৃপক্ষের নথিপত্রে সম্রাটের বর্তমান ঠিকানা হয়তো সাভার দেওয়া ছিল, আর সে কারণেই তাদের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো বার্তা আসেনি বলে ধারণা করছেন তিনি।