• শুক্রবার, ২৬ জুন ২০২৬, ০৯:৫০ অপরাহ্ন

শিল্পাঞ্চলে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ নিশ্চিতে ৪,৯৭৩ কোটির প্রকল্প নিচ্ছে সরকার

Reporter Name / ৪ Time View
Update : শুক্রবার, ২৬ জুন, ২০২৬

ঢাকার পার্শ্ববর্তী শিল্পসমৃদ্ধ এলাকাগুলোতে ক্রমবর্ধমান বিদ্যুৎ চাহিদা মেটাতে এবং শিল্পায়ন প্রক্রিয়াকে গতিশীল রাখতে সরকার বড় ধরনের বিনিয়োগ পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে। পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ডের (আরইবি) বাস্তবায়নাধীন ‘আরইবির আওতায় ঢাকার পার্শ্ববর্তী ১৩টি পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির বৈদ্যুতিক বিতরণ ব্যবস্থার ক্ষমতাবর্ধন’ শীর্ষক এই প্রকল্পে ব্যয় ধরা হয়েছে ৪ হাজার ৯৭৩ কোটি ৭৩ লাখ টাকা। মূলত সাভার, গাজীপুর, নারায়ণগঞ্জসহ ঢাকার নিকটবর্তী সাতটি জেলার শিল্পাঞ্চলে নিরবচ্ছিন্ন ও নির্ভরযোগ্য বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করাই এই মেগা প্রকল্পের মূল লক্ষ্য।

পরিকল্পনা কমিশন সূত্রে জানা গেছে, প্রকল্পের আওতায় ঢাকা, গাজীপুর, ময়মনসিংহ, মানিকগঞ্জ, মুন্সীগঞ্জ, নারায়ণগঞ্জ ও নরসিংদী জেলাকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এই সাত জেলার ১৩টি পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির (পবিস) বিদ্যুৎ বিতরণ সক্ষমতা বাড়ানোর মাধ্যমে ২০৩১ সালের মধ্যে মোট ১ হাজার ২৬৫ এমভিএ বিদ্যুৎ ক্ষমতা বৃদ্ধির পরিকল্পনা রয়েছে। এই প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে প্রায় ৬০ লাখ ১০ হাজার গ্রাহকের জন্য বিদ্যুৎ সরবরাহ আরও স্থিতিশীল হবে এবং সিস্টেম লস ৫ দশমিক ৭৩ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৫ দশমিক ২ শতাংশে নামিয়ে আনা সম্ভব হবে।

প্রকল্পের অবকাঠামোগত উন্নয়ন পরিকল্পনার মধ্যে রয়েছে ৫২টি নতুন ৩৩/১১ কেভি সাবস্টেশন নির্মাণ এবং ১২টি বিদ্যমান সাবস্টেশনের সক্ষমতা বাড়ানো। এছাড়া, ৪ হাজার ২০০ কিলোমিটার বিদ্যুৎ লাইন নির্মাণ ও আপগ্রেডেশন, ১৫৮ কিলোমিটার আন্ডারগ্রাউন্ড কেবল স্থাপন, ৯০০টি ফল্ট লোকেটর এবং ৩টি সুইচিং স্টেশন স্থাপনের কাজ অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। আরইবির কর্মকর্তাদের মতে, ইনফ্রাস্ট্রাকচার ইনভেস্টমেন্ট ফ্যাসিলিটেশন কোম্পানির (আইআইএফসি) সম্ভাব্যতা সমীক্ষায় দেখা গেছে, ২০৩৩ সালের মধ্যে এই ১৩টি পবিস এলাকায় বিদ্যুতের চাহিদা ৫ হাজার ৮২ মেগাওয়াটে পৌঁছাবে। এই চাহিদা মোকাবিলা করতে ৯ হাজার ৭৬০ এমভিএ সক্ষমতা অর্জন করাই প্রকল্পের দীর্ঘমেয়াদী লক্ষ্য।

প্রকল্পটিতে অর্থায়নের ক্ষেত্রে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি) ২ হাজার ৪৪০ কোটি টাকা ঋণ দেবে বলে আশা করা হচ্ছে। এছাড়া সরকারি তহবিল থেকে ১ হাজার ৩১৬ কোটি ৯৫ লাখ টাকা এবং বাস্তবায়নকারী সংস্থা আরইবির নিজস্ব তহবিল থেকে ১ হাজার ২১৬ কোটি ৭৮ লাখ টাকা জোগান দেওয়া হবে। এরই মধ্যে প্রকল্প প্রস্তাব অনুমোদনের জন্য পরিকল্পনা কমিশনে পাঠানো হয়েছে এবং আগামী ২৮ জুন এ বিষয়ে প্রকল্প মূল্যায়ন কমিটির (পিইসি) সভা আহ্বান করা হয়েছে।

তবে পরিকল্পনা কমিশন প্রকল্পের মোট ব্যয় এবং বেশ কিছু খাতের যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। সমীক্ষায় প্রস্তাবিত ব্যয়ের চেয়ে ডিপিপিতে ২৩৯ কোটি ৯৯ লাখ টাকা বেশি ধরা হয়েছে এবং যন্ত্রপাতি ও সরঞ্জাম খাতে প্রকল্পের ৯৬ দশমিক ৫৫ শতাংশ ব্যয় দেখানোয় কমিশন এ বিষয়ে বিস্তারিত ব্যাখ্যা চেয়েছে। এছাড়া পরামর্শক ব্যয় ও প্রশিক্ষণ খরচের যৌক্তিকতা পুনর্বিবেচনার সুপারিশ করা হয়েছে।

এ বিষয়ে আরইবির প্রধান প্রকৌশলী (প্রকল্প) মো. শফিকুর রহমান জানান, শিল্প ও বাণিজ্যিক এলাকার ক্রমবর্ধমান লোড গ্রোথ বা চাহিদা বৃদ্ধির প্রবণতা বিবেচনা করেই প্রকল্পটি গ্রহণ করা হয়েছে। তিনি বলেন, “দ্রুত প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য অগ্রিম দরপত্র প্রক্রিয়া ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে। জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) চূড়ান্ত অনুমোদনের পরই নির্বাচিত ঠিকাদারকে কার্যাদেশ প্রদান করা হবে।” এই উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে ঢাকার পার্শ্ববর্তী শিল্পাঞ্চলগুলোতে বিদ্যুৎ বিভ্রাটের হার উল্লেখযোগ্য হারে কমবে এবং সামগ্রিক উৎপাদনশীলতা বাড়বে বলে আশা করছেন নীতিনির্ধারকরা।

তথ্যসূত্র: দ্যা বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category