• বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন ২০২৬, ০৩:১৭ অপরাহ্ন

প্রান্তিক কৃষকের সেচ সংকট দূর করছে খাল খনন

Reporter Name / ০ Time View
Update : বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন, ২০২৬

দীর্ঘদিনের অবহেলা ও পলি জমে নাব্যতা হারানো ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার খালগুলো আবারও সচল হতে শুরু করেছে। উপজেলার ২১টি ইউনিয়নের প্রায় ৯০ কিলোমিটার খাল পুনঃখননের বিশাল কর্মযজ্ঞ বর্তমানে পুরোদমে এগিয়ে চলছে। এর ফলে খালগুলো তাদের হারানো প্রাণ ফিরে পাওয়ার পাশাপাশি কৃষি ও মৎস্য উৎপাদনে নতুন আশার আলো দেখাচ্ছে। দীর্ঘদিনের সেচ সংকট ও বর্ষাকালের জলাবদ্ধতা দূর হওয়ায় হাজারো প্রান্তিক কৃষকের মুখে এখন স্বস্তির হাসি।

সরেজমিনে দেখা যায়, উপজেলার এওয়াজপুর, রসুলপুর, আমিরাবাদ, আসলামপুর, আহম্মদপুর ও ওসমানগঞ্জসহ বিভিন্ন এলাকায় খনন যন্ত্রের শব্দে মুখর চারপাশ। জোড়াখাল, মোরকখালী, আইচার খাল ও বোয়ালখালিসহ ঐতিহ্যের ধারক এসব খাল একসময় পলি জমে ভরাট হয়ে ডোবা-নালার রূপ নিয়েছিল। ফলে বছরের পর বছর ধরে কৃষকরা শুষ্ক মৌসুমে সেচের অভাবে এক ফসলি জমির ওপর নির্ভরশীল ছিলেন, আর বর্ষায় জলাবদ্ধতায় ফসল হারিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হতেন। এখন খালগুলো খননের ফলে শুষ্ক মৌসুমে যেমন সেচ সুবিধা মিলছে, তেমনি বর্ষায় পানি নিষ্কাশনের সুব্যবস্থা তৈরি হচ্ছে।

এই কর্মসূচির আওতায় বিএডিসি, স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি), পানি সম্পদ মন্ত্রণালয় ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের অধীনে প্রায় ৯০ কিলোমিটার খাল খনন করা হচ্ছে। গত ২৭ মে আসলামপুর ইউনিয়নে ৩৭ দশমিক ১৩ কিলোমিটার দীর্ঘ বোয়ালখালি খাল পুনঃখননের মাধ্যমে এই বিশাল কর্মসূচির উদ্বোধন করেন ভোলা-৪ আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ রুল ইসলাম। স্থানীয় কৃষক আবদুল কদ্দুছ ও রুবেলদের মতো ভুক্তভোগীরা জানান, আগে ময়লা-আবর্জনার স্তূপে খালগুলো মশার প্রজননক্ষেত্রে পরিণত হয়েছিল। এখন খননের ফলে কৃষিকাজের পাশাপাশি মৎস্য উৎপাদন ও জীববৈচিত্র্য রক্ষায়ও এটি ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ নাজমুল জানান, পানির সহজলভ্যতা ও জলাবদ্ধতা নিরসন হওয়ায় কৃষকরা এখন এক ফসলি জমিতে একাধিকবার ধানসহ নানা ধরনের ফসল চাষ করতে পারবেন। এতে স্থানীয় কৃষকরা অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী হয়ে উঠবেন। বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন কর্পোরেশনের (বিএডিসি) প্রকৌশলী আরিফ হোসেন জানিয়েছেন, প্রকল্প অনুযায়ী খালগুলো যথাযথভাবে খনন করা হচ্ছে, যা দীর্ঘমেয়াদে কৃষি ও পরিবেশ সংরক্ষণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

খালের খনন কার্যক্রমে স্বচ্ছতা ও মান নিশ্চিত করতে উপজেলা প্রশাসন সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রোমানা আফরোজ জানিয়েছেন, পুরো কার্যক্রম সার্বক্ষণিক মনিটরিং করা হচ্ছে, যাতে কোনো ধরনের অনিয়ম বা ত্রুটি না থাকে। সরকারি এই উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে চরফ্যাশনের কৃষি অর্থনীতিতে এক বিশাল পরিবর্তনের জোয়ার আসবে বলে আশা করছেন স্থানীয় সচেতন মহল। প্রশাসনের তদারকি ও খাল খননের এই সমন্বিত প্রয়াসকে বর্তমান সময়ে দেশের কৃষি উন্নয়নের একটি সফল মডেল হিসেবে দেখছেন বিশেষজ্ঞরা।

 

তথ্যসূত্র: ডেইলি অবজারভার


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category