• শুক্রবার, ০৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৭:২৯ অপরাহ্ন
Headline
শিক্ষার আড়ালে রমরমা বাণিজ্য: মেডিকেলে বিদেশি শিক্ষার্থী ভর্তিতে বেপরোয়া আন্তর্জাতিক চক্র হাইপারভিজিল্যান্স: আপনার কি এরকম কখনো হয়েছে? তরুণ উদ্যোক্তাদের ২০ লাখ টাকা পর্যন্ত অর্থায়ন দেবে বাংলাদেশ ব্যাংক জাতীয় সংসদে ১০ স্থায়ী কমিটি গঠন, দায়িত্ব পেলেন যারা আকস্মিক বন্যায় নেপাল থেকে বাংলাদেশে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ আশুগঞ্জে শহীদ জিয়ার স্মৃতি বিজড়িত সেই গাড়িটি এখনো সচল প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে সভাপতি করে ২৫ সদস্যের এনসিসিএফ গঠন ন্যায়বিচার, সমতা ও মানবাধিকারই টেকসই শান্তির সংস্কৃতি গড়ার ভিত্তি : আইরিন খান যুক্তরাষ্ট্রের হামলায় ইরানে নিহত ১৮ ইরানের পাশে থাকার ঘোষণা পুতিনের

স্মার্ট প্যারেন্টিং: ছোটবেলা থেকেই সন্তানের মধ্যে গড়ে তুলুন সঞ্চয়ের অভ্যাস

Reporter Name / ৮১ Time View
Update : শুক্রবার, ৮ মে, ২০২৬

বর্তমান সময়ের আধুনিক ও ব্যস্ত জীবনে শিশুরা অনেক কিছুই খুব সহজে হাতের নাগালে পেয়ে যায়। চাইলেই খেলনা, বায়না করলেই দামি চকোলেট বা গ্যাজেট—সবই যেন হাজির হয় চোখের পলকে। কিন্তু সন্তানকে কি আমরা ‘টাকার মূল্য’ বা মানি ম্যানেজমেন্ট শেখাচ্ছি? গোছানো জীবনযাপন এবং একটি নিরাপদ ভবিষ্যতের জন্য ছোটবেলা থেকেই সন্তানের মধ্যে সঞ্চয় ও সঠিক খরচের অভ্যাস গড়ে তোলা একজন সচেতন অভিভাবকের অন্যতম প্রধান দায়িত্ব।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের অধ্যাপক ড. মেহতাব খানমের মতে, মানি ম্যানেজমেন্ট শিশুদের নিজস্ব প্রয়োজনগুলো বুঝতে শেখায়। কোনটি তার করা উচিত, কোন কাজে কত টাকা ব্যয় হবে—এসব বিষয়ে তাদের স্বচ্ছ ধারণা তৈরি হয়।

আপনার সন্তানকে কীভাবে টাকার সঠিক ব্যবহার ও সঞ্চয়ের পাঠ দেবেন, তা নিয়ে রইল কিছু দারুণ ও কার্যকরী লাইফস্টাইল টিপস।


কেন শেখাবেন মানি ম্যানেজমেন্ট?

সন্তানকে কেবল পকেট মানি দেওয়াই শেষ কথা নয়, সেই টাকা সে কীভাবে খরচ করছে তার ওপর নজর রাখাও জরুরি। এই শিক্ষার বেশ কিছু ইতিবাচক দিক রয়েছে:

  • প্রয়োজন ও বিলাসিতার পার্থক্য: মানি ম্যানেজমেন্ট জানলে শিশুরা বুঝতে শেখে কোনটি তাদের ‘প্রয়োজন’ (Need) আর কোনটি কেবলই ‘চাওয়া’ (Want)।

  • বাজে অভ্যাসের লাগাম টানা: সঠিক দিকনির্দেশনা ছাড়া হাতে টাকা এলে অনেক সময় কিশোর বয়সে শিশুরা ভুল পথে পা বাড়াতে পারে। মাদক বা খারাপ বন্ধুদের পাল্লায় পড়ার ঝুঁকি কমাতে টাকার হিসাব রাখা শেখানো জরুরি।

  • গণিতে দক্ষতা বৃদ্ধি: খুব মজার একটি বিষয় হলো, ছোটবেলা থেকে টাকার হিসাব-নিকাশ করতে গিয়ে শিশুরা প্র্যাকটিক্যালি যোগ-বিয়োগের মতো গাণিতিক বিষয়গুলো দ্রুত আয়ত্ত করতে পারে।

  • মানসিক বিকাশ ও ধৈর্য: টাকা জমাতে সময় লাগে, আর এই জমানো টাকা দিয়ে কাঙ্ক্ষিত কিছু কেনার অপেক্ষার প্রহর শিশুদের মধ্যে চরম ধৈর্যশীলতার জন্ম দেয়।


যেভাবে শুরু করবেন এই চর্চা

সন্তানকে টাকার মূল্য বোঝাতে খুব কাঠখড় পোড়ানোর দরকার নেই। দৈনন্দিন জীবনের ছোট ছোট কাজের মাধ্যমেই এটি শেখানো সম্ভব।

  • ছোট ছোট দায়িত্ব দিন: সাত-আট বছর বয়স থেকেই সন্তানের হাতে মাসে বা সপ্তাহে নির্দিষ্ট পরিমাণ (যেমন: ৫০ বা ১০০ টাকা) পকেট মানি দিন। তাকে বলুন এই টাকা দিয়ে নিজের ছোটখাটো শখ পূরণ করতে।

  • সুপারশপের প্র্যাকটিক্যাল ক্লাস: সন্তানকে নিয়ে সুপারশপে বা মুদি দোকানে যান। তাকে একটি নির্দিষ্ট বাজেট দিয়ে বলুন, এর মধ্যেই নিজের পছন্দের কিছু কিনে আনতে। এতে তারা বাজেটের মধ্যে থাকা শিখবে।

  • তিনটি ম্যাজিক বয়াম বা ব্যাংক: সন্তানকে তিনটি আলাদা মাটির ব্যাংক বা বয়াম কিনে দিন। একটি ‘খরচ’ করার জন্য, একটি ‘সঞ্চয়’ করার জন্য এবং অপরটি গরিব বা অসহায় কাউকে ‘দান’ করার জন্য। পকেট মানি পাওয়ার পর তাকে উৎসাহিত করুন টাকাগুলো তিন ভাগে ভাগ করে রাখতে।

  • জ্বাংক ফুডকে ‘না’ বলতে শেখানো: বাইরের অস্বাস্থ্যকর খাবার কেবল শরীরেরই ক্ষতি করে না, এটি টাকারও অপচয়। সন্তানকে বাইরের খাবারের ক্ষতিকর দিকগুলো বুঝিয়ে সেই টাকাটা সঞ্চয় করতে উৎসাহিত করুন।


অভিভাবকদের জন্য বিশেষ টিপস

অনেক সময় সন্তান দামি কোনো খেলনা বা অপ্রয়োজনীয় জিনিস চেয়ে বসে। এমন পরিস্থিতিতে হুট করে ধমক দিয়ে “টাকা নেই” বা “কিনে দেওয়া যাবে না” বলাটা নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। এর বদলে তাদের শান্তভাবে বুঝিয়ে বলুন যে, এই মুহূর্তে জিনিসটি তার কেন প্রয়োজন নেই বা কেন এটি কেনা ঠিক হবে না।

শৈশবের এই ছোট ছোট অভ্যাসগুলোই একসময় আপনার সন্তানকে একজন মিতব্যয়ী, দায়িত্বশীল ও আর্থিকভাবে স্বাবলম্বী মানুষ হিসেবে গড়ে তুলতে সাহায্য করবে। আজই শুরু করুন, সন্তানের সুন্দর ভবিষ্যতের জন্য ‘টাকার কদর’ শেখানোর এই দারুণ যাত্রা!


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category