• শনিবার, ২৫ এপ্রিল ২০২৬, ০৮:৪০ অপরাহ্ন
Headline
দুই মাসেই তলানিতে বিএনপির জনপ্রিয়তা, সরকারের দলীয়করণ নিয়ে তোপ নাহিদের জুলাই সনদ বাস্তবায়নে বদ্ধপরিকর সরকার, বিয়ামের অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর বার্তা গণভোটের ৭০ শতাংশ রায় উপেক্ষিত, নতুন ফ্যাসিবাদ নিয়ে বিএনপিকে জামায়াতের তোপ ১ মে পল্টনে শ্রমিক দলের সমাবেশ, নির্বাচন নিয়ে জামায়াতকে ফখরুলের তোপ বাংলাদেশসহ ৭৫ দেশের অভিবাসী ভিসা স্থগিত, যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের নতুন কড়াকড়ি রাজধানীর ৮০ পাম্পে ১২ লাখ বাইকের জটলা রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র কবে বাণিজ্যিক উৎপাদনে যাবে? “ফিলিস্তিন, লেবানন ও ইরানে ইসরাইলের যুদ্ধাপরাধ, যুদ্ধবিরতির উদ্দেশ্য নিয়ে ধোঁয়াশা ছায়া মন্ত্রিসভা গঠনের জোর প্রস্তুতি জামায়াতের ‘লাফিং গ্যাস’: যে কারণে যুক্তরাষ্ট্রে এটি মারাত্মক আসক্তির কারণ হয়ে উঠেছে

রোজা শুরুর আগেই অস্থির বাজার: ঢাকায় লেবুর হালি ১২০, বেড়েছে ইফতার সামগ্রীর দাম

Reporter Name / ১১৮ Time View
Update : বৃহস্পতিবার, ১৯ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬

পবিত্র রমজান মাস শুরু হতে আর মাত্র কয়েক দিন বাকি। এর আগেই রাজধানী ঢাকাসহ সারাদেশের কাঁচাবাজারে উত্তাপ ছড়িয়েছে। বিশেষ করে ইফতারের অন্যতম অনুষঙ্গ লেবুর দামে যেন আগুন লেগেছে। ঢাকার বাজারে এক হালি লেবুর দাম পৌঁছেছে ১২০ টাকায়, আর ঢাকার বাইরে তা বিক্রি হচ্ছে ৮০ টাকা পর্যন্ত। শুধু লেবু নয়, শসা, বেগুন, ধনেপাতা থেকে শুরু করে শরবতের উপকরণ—সবকিছুর দামই উর্ধ্বমুখী।

আজ মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর নয়াবাজার, জিনজিরা, মালিবাগ বাজার এবং দেশের বিভিন্ন জেলা শহরের বাজার ঘুরে এমন চিত্র দেখা গেছে।

ঢাকায় লেবুর হালি ১২০ টাকা

রাজধানীর খুচরা বাজারগুলোতে লেবুর দাম শুনে ক্রেতাদের কপালে ভাঁজ। মাত্র এক সপ্তাহ আগে যে লেবু ৪০-৫০ টাকা হালি বিক্রি হতো, তা তিন দিন আগে বেড়ে হয় ৫০-৬০ টাকা। আর আজ তা বিক্রি হচ্ছে ১০০ থেকে ১২০ টাকায়। বিক্রেতারা বলছেন, রোজার আগে চাহিদা বাড়ায় এবং সরবরাহ কম থাকায় এই দাম বৃদ্ধি।

সারাদেশেই একই চিত্র

শুধু ঢাকা নয়, রাজবাড়ীসহ দেশের বিভিন্ন জেলাতেও লেবুর বাজার চড়া। রাজবাড়ীর বাজারগুলোতে ৪০-৫০ টাকা দাম বেড়ে প্রতি হালি লেবু বিক্রি হচ্ছে ৬০ থেকে ৮০ টাকায়। সেখানকার লেবু চাষি আবু বক্কার জানান, এখন লেবুর মৌসুম না থাকায় গাছে ফলন কম, তাই পাইকারি পর্যায়েই ১০০ পিস লেবু ৮০০ থেকে ১২০০ টাকায় বিক্রি করতে হচ্ছে।

ইফতার সামগ্রীর দামে আগুন

ইফতারের অপরিহার্য উপাদানগুলোর দামও বেড়েছে পাল্লা দিয়ে। রাজধানীর বাজার ঘুরে দেখা যায়:

  • শসা: চার দিন আগে ৫০-৬০ টাকায় বিক্রি হওয়া গোল শসা আজ বিক্রি হচ্ছে ৮০-১০০ টাকা কেজিতে।

  • মুড়ি ও বেসন: প্রতি কেজি মুড়ি ১০ টাকা বেড়ে বিক্রি হচ্ছে ৮০-৯০ টাকায়। মানভেদে বেসন বিক্রি হচ্ছে ৮০-১৩০ টাকায়, যা আগে ছিল ৭০-১২০ টাকা।

  • সরিষার তেল: ছোলা-মুড়ি মাখানোর অন্যতম উপাদান সরিষার তেলের দাম লিটারে ১০ টাকা বেড়েছে। বোতলজাত তেল ৩০০-৩৬০ টাকা এবং খোলা তেল ২৯০-৩২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

  • শরবতের উপকরণ: শরবত তৈরির ইসবগুলের ভুসি কেজিতে ১০০ টাকা বেড়ে ১৬০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া ৭০০ মিলি রুহ-আফজা ৫৫০ টাকা এবং প্যাকেটজাত ট্যাং ৪২৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

  • শাক-সবজি ও খেজুর: ধনেপাতা ও পুদিনাপাতার আঁটি ২০ টাকা থেকে বেড়ে ৩০ টাকা হয়েছে। মাঝারি মানের খেজুরের দাম কেজিতে বেড়েছে ২০-৩০ টাকা।

ক্রেতা-বিক্রেতা ও বিশেষজ্ঞদের ভাষ্য

কনজুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) ভাইস প্রেসিডেন্ট এস এম নাজের হোসাইন বলেন, “প্রতি বছর রোজা শুরুর আগে অসাধু ব্যবসায়ীরা সুযোগ বুঝে ক্রেতাদের ঠকায়। তবে ক্রেতারাও এক দিনের পণ্য ১০ দিনের জন্য কেনেন, যা বিক্রেতাদের দাম বাড়ানোর সুযোগ করে দেয়।”

মালিবাগ বাজারে আসা ক্রেতা লাইজু আক্তার ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “ইফতার পণ্যের দাম বাড়ানো বাকি ছিল, সেটাও বাড়াল। এটা যেন বিক্রেতাদের নিয়মে পরিণত হয়েছে, দেখার কেউ নেই।”

জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, রোজা ঘিরে বাজার তদারকি জোরদার করা হয়েছে এবং অনিয়ম পেলেই আইনের আওতায় আনা হচ্ছে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category