• বুধবার, ০৪ নভেম্বর ২০২৬, ১২:৩৫ অপরাহ্ন
Headline
বাই দ্য রিভারস অব ব্যাবিলন – ৮ এসআরবির মহাপরিচালকসহ পুলিশের ঊর্ধ্বতন ৭ কর্মকর্তাকে বদলি সরকার বিরোধী দল দমনে তৎপর, ফ্যাসিস্ট দমনে নমনীয়: নাহিদ জুলাই সনদ বাস্তবায়নে এবার আলাদা কমিটি গঠনের চিন্তা ১১ দলীয় ঐক্যের সরকারের অদক্ষতার দায় বিরোধী দলের ওপর চাপানো হচ্ছে: জামায়াত আমির ‘রাইট ট্র্যাকে’ রূপপুর প্রকল্প, দ্রুতই মিলবে বিদ্যুৎ: প্রযুক্তিমন্ত্রী ধর্মের অপব্যবহারের বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়ার আহ্বান রাষ্ট্রপতির চট্টগ্রাম কাস্টমসে চার মাসে ২৮ হাজার কোটি টাকা রাজস্ব আদায় দ্বিতীয় পদ্মা ও যমুনা সেতু এবং পদ্মা ব্যারেজ নির্মাণের পরিকল্পনা এগিয়ে নেওয়ার নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর খুলনায় শুরু হচ্ছে ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস’ সিজন-২, উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী

রোজা শুরুর আগেই অস্থির বাজার: ঢাকায় লেবুর হালি ১২০, বেড়েছে ইফতার সামগ্রীর দাম

Reporter Name / ২৪৬ Time View
Update : বৃহস্পতিবার, ১৯ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬

পবিত্র রমজান মাস শুরু হতে আর মাত্র কয়েক দিন বাকি। এর আগেই রাজধানী ঢাকাসহ সারাদেশের কাঁচাবাজারে উত্তাপ ছড়িয়েছে। বিশেষ করে ইফতারের অন্যতম অনুষঙ্গ লেবুর দামে যেন আগুন লেগেছে। ঢাকার বাজারে এক হালি লেবুর দাম পৌঁছেছে ১২০ টাকায়, আর ঢাকার বাইরে তা বিক্রি হচ্ছে ৮০ টাকা পর্যন্ত। শুধু লেবু নয়, শসা, বেগুন, ধনেপাতা থেকে শুরু করে শরবতের উপকরণ—সবকিছুর দামই উর্ধ্বমুখী।

আজ মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর নয়াবাজার, জিনজিরা, মালিবাগ বাজার এবং দেশের বিভিন্ন জেলা শহরের বাজার ঘুরে এমন চিত্র দেখা গেছে।

ঢাকায় লেবুর হালি ১২০ টাকা

রাজধানীর খুচরা বাজারগুলোতে লেবুর দাম শুনে ক্রেতাদের কপালে ভাঁজ। মাত্র এক সপ্তাহ আগে যে লেবু ৪০-৫০ টাকা হালি বিক্রি হতো, তা তিন দিন আগে বেড়ে হয় ৫০-৬০ টাকা। আর আজ তা বিক্রি হচ্ছে ১০০ থেকে ১২০ টাকায়। বিক্রেতারা বলছেন, রোজার আগে চাহিদা বাড়ায় এবং সরবরাহ কম থাকায় এই দাম বৃদ্ধি।

সারাদেশেই একই চিত্র

শুধু ঢাকা নয়, রাজবাড়ীসহ দেশের বিভিন্ন জেলাতেও লেবুর বাজার চড়া। রাজবাড়ীর বাজারগুলোতে ৪০-৫০ টাকা দাম বেড়ে প্রতি হালি লেবু বিক্রি হচ্ছে ৬০ থেকে ৮০ টাকায়। সেখানকার লেবু চাষি আবু বক্কার জানান, এখন লেবুর মৌসুম না থাকায় গাছে ফলন কম, তাই পাইকারি পর্যায়েই ১০০ পিস লেবু ৮০০ থেকে ১২০০ টাকায় বিক্রি করতে হচ্ছে।

ইফতার সামগ্রীর দামে আগুন

ইফতারের অপরিহার্য উপাদানগুলোর দামও বেড়েছে পাল্লা দিয়ে। রাজধানীর বাজার ঘুরে দেখা যায়:

  • শসা: চার দিন আগে ৫০-৬০ টাকায় বিক্রি হওয়া গোল শসা আজ বিক্রি হচ্ছে ৮০-১০০ টাকা কেজিতে।

  • মুড়ি ও বেসন: প্রতি কেজি মুড়ি ১০ টাকা বেড়ে বিক্রি হচ্ছে ৮০-৯০ টাকায়। মানভেদে বেসন বিক্রি হচ্ছে ৮০-১৩০ টাকায়, যা আগে ছিল ৭০-১২০ টাকা।

  • সরিষার তেল: ছোলা-মুড়ি মাখানোর অন্যতম উপাদান সরিষার তেলের দাম লিটারে ১০ টাকা বেড়েছে। বোতলজাত তেল ৩০০-৩৬০ টাকা এবং খোলা তেল ২৯০-৩২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

  • শরবতের উপকরণ: শরবত তৈরির ইসবগুলের ভুসি কেজিতে ১০০ টাকা বেড়ে ১৬০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া ৭০০ মিলি রুহ-আফজা ৫৫০ টাকা এবং প্যাকেটজাত ট্যাং ৪২৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

  • শাক-সবজি ও খেজুর: ধনেপাতা ও পুদিনাপাতার আঁটি ২০ টাকা থেকে বেড়ে ৩০ টাকা হয়েছে। মাঝারি মানের খেজুরের দাম কেজিতে বেড়েছে ২০-৩০ টাকা।

ক্রেতা-বিক্রেতা ও বিশেষজ্ঞদের ভাষ্য

কনজুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) ভাইস প্রেসিডেন্ট এস এম নাজের হোসাইন বলেন, “প্রতি বছর রোজা শুরুর আগে অসাধু ব্যবসায়ীরা সুযোগ বুঝে ক্রেতাদের ঠকায়। তবে ক্রেতারাও এক দিনের পণ্য ১০ দিনের জন্য কেনেন, যা বিক্রেতাদের দাম বাড়ানোর সুযোগ করে দেয়।”

মালিবাগ বাজারে আসা ক্রেতা লাইজু আক্তার ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “ইফতার পণ্যের দাম বাড়ানো বাকি ছিল, সেটাও বাড়াল। এটা যেন বিক্রেতাদের নিয়মে পরিণত হয়েছে, দেখার কেউ নেই।”

জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, রোজা ঘিরে বাজার তদারকি জোরদার করা হয়েছে এবং অনিয়ম পেলেই আইনের আওতায় আনা হচ্ছে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category