মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ ও বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধির প্রেক্ষাপটে দেশে জ্বালানি সাশ্রয়ে কঠোর অবস্থানে যাচ্ছে ব্যবসায়ী ও সরকার। আগামীকাল রোববার (৮ মার্চ) থেকে সারাদেশের দোকানপাট ও শপিংমলে সব ধরনের আলোকসজ্জা এবং অপ্রয়োজনীয় বাতি বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ দোকান মালিক সমিতি।
শনিবার (৭ মার্চ) রাজধানীতে সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনের সভাপতি হেলাল উদ্দিন এই সিদ্ধান্তের কথা জানান।
ব্যবসায়ীদের পক্ষ থেকে সাশ্রয়ী উদ্যোগ দোকান মালিক সমিতির সভাপতি হেলাল উদ্দিন বলেন, “আমেরিকা, ইসরায়েল এবং ইরানের যুদ্ধের কারণে আন্তর্জাতিকভাবে জ্বালানি সংকট তৈরি হয়েছে। হরমুজ প্রণালী বন্ধ থাকায় সরবরাহ নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়েছে। এই সংকট মোকাবিলায় আমাদের সাশ্রয়ী হতেই হবে। তাই আগামীকাল রোববার থেকে আমরা সমস্ত মার্কেটে আলোকসজ্জা ও অপ্রয়োজনীয় বাতিগুলো বন্ধ রাখব।”
সরকারের রেশনিং ও মন্ত্রীর অভয় সরকার ইতিমধ্যে জ্বালানি তেল রেশনিংয়ের মাধ্যমে সরবরাহ করার উদ্যোগ নিয়েছে। তবে জ্বালানি মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু আজই স্পষ্ট করেছেন যে, তেল নিয়ে উদ্বেগের কোনো কারণ নেই। দেশে পর্যাপ্ত তেলের মজুত রয়েছে এবং আগামী সোমবার (৯ মার্চ) আরও দুটি তেলের জাহাজ দেশে পৌঁছাবে।
মজুতদারি রোধে মোবাইল কোর্ট জ্বালানি সংকটকে কেন্দ্র করে কেউ যাতে অবৈধভাবে তেল মজুত করে কৃত্রিম সংকট তৈরি করতে না পারে, সেজন্য কঠোর ব্যবস্থার ঘোষণা দিয়েছে সরকার। মন্ত্রী জানিয়েছেন, আগামীকাল রোববার থেকেই সারাদেশে ভ্রাম্যমাণ আদালত (মোবাইল কোর্ট) মাঠে নামবে। যারা আতঙ্কিত হয়ে অতিরিক্ত তেল মজুত করছেন বা পাম্পে কৃত্রিম সংকট তৈরি করছেন, তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
জনগণের প্রতি আহ্বান জ্বালানি মন্ত্রণালয় এবং ব্যবসায়ী নেতৃবৃন্দ উভয় পক্ষই সাধারণ মানুষকে আতঙ্কিত হয়ে তড়িঘড়ি করে তেল না কেনার আহ্বান জানিয়েছেন। তাদের মতে, অপ্রয়োজনীয় আলোকসজ্জা বন্ধ রাখা এবং জ্বালানি ব্যবহারে মিতব্যয়ী হওয়া এই বিশ্বব্যাপী সংকট মোকাবিলায় এখন সময়ের দাবি।
| বিষয় | কার্যকরী পদক্ষেপ (আগামীকাল থেকে) |
|---|---|
| শপিংমল ও দোকানপাট | সব ধরনের আলোকসজ্জা ও অপ্রয়োজনীয় বাতি বন্ধ। |
| বাজার তদারকি | সারাদেশে ভ্রাম্যমাণ আদালত (মোবাইল কোর্ট) পরিচালনা। |
| জ্বালানি মজুত | ৯ মার্চ আরও ২টি তেলের জাহাজ দেশে আসছে। |
| মূল লক্ষ্য | বৈশ্বিক যুদ্ধের প্রভাবে জ্বালানি সাশ্রয় ও মজুত সুরক্ষা। |