মধ্যপ্রাচ্যে ইরান, ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে উত্তেজনা ও যুদ্ধ শুরুর ঠিক আগ মুহূর্তে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ‘হরমুজ প্রণালি’ ও ওমান উপসাগর অতিক্রম করে ১২টি পণ্যবাহী জাহাজ চট্টগ্রাম বন্দরের বহির্নোঙরে পৌঁছেছে। বৈশ্বিক জ্বালানি সংকটের আশঙ্কার মাঝে এই জাহাজগুলোর আগমন বাংলাদেশের জ্বালানি ও শিল্পখাতের জন্য বড় ধরনের স্বস্তি নিয়ে এসেছে।
জাহাজগুলোতে কী আছে?
চট্টগ্রাম বন্দর সূত্র জানিয়েছে, আগত ১২টি জাহাজের মধ্যে রয়েছে:
৪টি জাহাজ: তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি)।
২টি জাহাজ: তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস (এলপিজি)।
৬টি জাহাজ: সিমেন্ট শিল্পের কাঁচামাল ‘ক্লিঙ্কার’।
এছাড়া কাতার থেকে এলএনজি নিয়ে আসা ‘আল জোর’ ও ‘আল জাসাসিয়া’ জাহাজ দুটি ইতিমধেই বন্দরে নোঙর করেছে। সিমেন্ট খাতের জন্য প্রয়োজনীয় জিপসাম ও পাথরবাহী আরও কয়েকটি জাহাজও বহির্নোঙরে অবস্থান করছে।
আসছে আরও জাহাজ
বাংলাদেশ শিপিং এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের সাবেক পরিচালক খায়রুল আলম সুজন জানিয়েছেন, যেসব জাহাজ হরমুজ প্রণালি ছেড়ে আসতে পেরেছে, সেগুলো এখন নিরাপদে বন্দরে পৌঁছাচ্ছে। আগামী কয়েক দিনের মধ্যে ‘সেভান’, ‘লুসাইল’ ও ‘আল গালায়েল’ নামে আরও তিনটি এলপিজি পরিবহনকারী জাহাজ চট্টগ্রাম বন্দরে পৌঁছানোর কথা রয়েছে। সরকার ও বন্দর কর্তৃপক্ষ এই রুট দিয়ে আসা জাহাজগুলোর চলাচল নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছেন।
হরমুজ প্রণালির গুরুত্ব ও ঝুঁকি
২০২৪-২৫ অর্থবছরের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, বাংলাদেশ মধ্যপ্রাচ্য থেকে প্রায় ৬০০ কোটি ডলারের পণ্য আমদানি করেছে, যার সিংহভাগই আসে হরমুজ প্রণালি ব্যবহার করে। দেশের মোট জ্বালানি আমদানির একটি বড় অংশ এই রুটের ওপর নির্ভরশীল। বর্তমানে এই প্রণালিটি যুদ্ধের কারণে কার্যত অবরুদ্ধ হওয়ার ঝুঁকিতে থাকায় বিকল্প পথে আমদানির বিষয়টিও সক্রিয়ভাবে বিবেচনা করছে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়।
| পণ্যের ধরন | জাহাজের সংখ্যা/নাম | অবস্থান |
|---|---|---|
| এলএনজি (LNG) | ৪টি (আল জোর, আল জাসাসিয়া উল্লেখযোগ্য) | বন্দরে পৌঁছেছে |
| ক্লিঙ্কার/জিপসাম | ৬টি জাহাজ | বহির্নোঙরে |
| এলপিজি (LPG) | ৫টি (সেভান, লুসাইল, আল গালায়েল পথে আছে) | ২টি পৌঁছেছে, ৩টি আসছে |