মধ্যপ্রাচ্যে ইরান ও মার্কিন নেতৃত্বাধীন জোটের সংঘাতের অষ্টম দিনে পরিস্থিতি চরম নাটকীয় মোড় নিয়েছে। ইরানি বাহিনী বেশ কয়েকজন মার্কিন সেনাকে আটক করেছে বলে দাবি করেছে তেহরান। তবে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী তাৎক্ষণিকভাবে এই দাবিকে ‘মিথ্যা ও প্রতারণামূলক’ বলে উড়িয়ে দিয়েছে।
রবিবার এক বিবৃতিতে ইরানের জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের মহাসচিব আলি লারিজানি দাবি করেন, যুদ্ধ শুরুর পর গত এক সপ্তাহে তাদের বাহিনী যুক্তরাষ্ট্রের বেশ কয়েকজন সেনা সদস্যকে আটক করতে সক্ষম হয়েছে। লারিজানি বলেন, “আমাকে জানানো হয়েছে যে বেশ কয়েকজন মার্কিন সৈন্যকে বন্দি করা হয়েছে। সত্যকে বেশিদিন লুকিয়ে রাখা সম্ভব নয়।” তবে ঠিক কতজন সেনাকে আটক করা হয়েছে, কিংবা কোন এলাকায় এই অভিযান চালানো হয়েছে—সে বিষয়ে কোনো বিস্তারিত তথ্য বা প্রমাণ উপস্থাপন করেননি তিনি।
তেহরানের এই দাবি প্রকাশের সঙ্গে সঙ্গে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে মার্কিন সামরিক বাহিনী। যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) এক বিবৃতিতে স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, মার্কিন সেনা আটকের কোনো ঘটনাই ঘটেনি। সেন্টকমের এক মুখপাত্র দাবি করেন, এটি ইরানি শাসকগোষ্ঠীর নতুন কোনো ‘মিথ্যাচার ও বিভ্রান্তি ছড়ানোর প্রচেষ্টা’। মার্কিন নৌবাহিনীর ক্যাপ্টেন টিম হকিন্সও লারিজানির এই বক্তব্যকে ‘সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন’ বলে প্রত্যাখ্যান করেছেন।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যৌথভাবে ইরানে ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ নামে সামরিক অভিযান শুরু করার পর থেকে উভয় পক্ষের মধ্যে পাল্টাপাল্টি হামলার ঘটনা বেড়েই চলেছে। ইরান এর আগে গত ২৪ ঘণ্টায় দুই শতাধিক মার্কিন সেনা হতাহত হওয়ার দাবি করলেও, ওয়াশিংটন বরাবরই এসব তথ্যকে ‘মনস্তাত্ত্বিক যুদ্ধ’ হিসেবে আখ্যায়িত করে আসছে।
বিশ্লেষকদের মতে, ইরান এবং যুক্তরাষ্ট্র উভয়ই যুদ্ধের এই পর্যায়ে এসে একদিকে সামরিক শক্তির প্রদর্শন করছে, অন্যদিকে নিজেদের অভ্যন্তরীণ ও বৈশ্বিক অবস্থান শক্ত করতে তীব্র তথ্যযুদ্ধ বা প্রোপাগান্ডা চালিয়ে যাচ্ছে। চলমান এই উত্তেজনাকর পরিস্থিতিতে উভয় পক্ষের দাবির সত্যতা যাচাই করা কঠিন হয়ে পড়েছে।