২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ক্ষমতার পটপরিবর্তনের পর কোণঠাসা ও কার্যক্রমে নিষেধাজ্ঞার মুখে থাকা আওয়ামী লীগ আবারও নির্বাচনী রাজনীতিতে ফেরার কৌশল খুঁজছে। আপাতত জাতীয় নির্বাচনের চিন্তা থেকে সরে এসে সিটি করপোরেশন, উপজেলা, পৌরসভা ও ইউনিয়ন পরিষদের মতো স্থানীয় নির্বাচনগুলোকে রাজনৈতিক মাঠে ফেরার ‘এন্ট্রি পয়েন্ট’ হিসেবে কাজে লাগাতে চায় দলটি।
শীর্ষ নেতৃত্বের বার্তা ও তৃণমূলের প্রস্তুতি
দলীয় সূত্রে জানা গেছে, আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা সম্প্রতি আত্মগোপনে থাকা নেতা-কর্মীদের সঙ্গে ভার্চ্যুয়ালি যোগাযোগ করেছেন। তিনি নেতাদের দেশে ফেরার তাগিদ দেওয়ার পাশাপাশি এখন থেকেই স্থানীয় নির্বাচনের জন্য প্রস্তুতি নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। দলটির নেতারা মনে করছেন, জাতীয় রাজনীতিতে ফিরতে হলে আগে স্থানীয় ও তৃণমূল পর্যায়ে নিজেদের শক্ত অবস্থান পুনরায় তৈরি করতে হবে।
পেশাজীবী নির্বাচনে নজর ও আংশিক সাফল্য
স্থানীয় সরকার নির্বাচনের পাশাপাশি আওয়ামী লীগের নজর এখন পেশাজীবী সংগঠনগুলোর দিকে। বিশেষ করে জেলা আইনজীবী সমিতির নির্বাচনগুলোতে তারা ধীরে ধীরে সক্রিয় হচ্ছে।
ইতোমধ্যে কক্সবাজার, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, নোয়াখালী, লক্ষ্মীপুর ও চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা আইনজীবী সমিতির নির্বাচনে আওয়ামী লীগ-সমর্থিত প্যানেল বেশ কয়েকটি পদে জয়লাভ করেছে।
যদিও শীর্ষ পদগুলোতে বিএনপি বা জামায়াত-সমর্থিত প্রার্থীরাই বেশি জয়ী হচ্ছেন, তবু এই আংশিক সাফল্য আওয়ামী লীগকে আশাবাদী করে তুলেছে। আগামী ১৩ ও ১৪ মে অনুষ্ঠেয় সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির নির্বাচন নিয়েও তারা বিশেষ ছক কষছে।
দলীয় প্রতীক নিয়ে আক্ষেপ ও নির্দলীয় নির্বাচনের প্রত্যাশা
আওয়ামী লীগ সরকারই স্থানীয় নির্বাচনে দলীয় প্রতীকের ব্যবহার চালু করেছিল। তবে এখন আত্মগোপনে থাকা নেতারা স্বীকার করছেন যে, এটি একটি ভুল সিদ্ধান্ত ছিল; কারণ এর ফলে তৃণমূলে বিভেদ তৈরি হয়েছিল।
বর্তমানে দলের ওপর নিষেধাজ্ঞা থাকায় আওয়ামী লীগ নেতারা চাইছেন, আগামী স্থানীয় নির্বাচনগুলো যেন নির্দলীয় ব্যবস্থায় (দলীয় প্রতীক ছাড়া) অনুষ্ঠিত হয়। তাহলে তারা স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সুযোগ পাবেন।
নির্বাচন কমিশনের পদক্ষেপ ও বিশ্লেষকদের মূল্যায়ন
বর্তমানে দেশের সব সিটি করপোরেশন ও স্থানীয় সরকারের অন্যান্য স্তরে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি নেই। নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা গেছে, ঈদের পর সিটি করপোরেশন দিয়ে ধাপে ধাপে স্থানীয় নির্বাচন শুরু করার পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের। তবে নির্বাচন দলীয় নাকি নির্দলীয় প্রতীকে হবে, তা সংসদের প্রথম অধিবেশনে নির্ধারণ করা হবে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও লেখক মহিউদ্দিন আহমদের মতে, স্থানীয় নির্বাচন নিঃসন্দেহে আওয়ামী লীগের জন্য একটি বড় সুযোগ। তবে তিনি মনে করেন, “স্থানীয় সরকারের মাধ্যমে তারা নির্বাচনী রাজনীতিতে প্রবেশের সুযোগ পেলেও জাতীয়ভাবে ফেরাটা বেশ কঠিন হবে। কারণ, শীর্ষ নেতৃত্ব এখনও আত্মগোপনে এবং অতীত কর্মকাণ্ড নিয়ে তাদের মধ্যে কোনো অনুশোচনা দেখা যায়নি।”