দেশের রাজনীতিতে নিজস্ব শক্ত অবস্থান ও স্বতন্ত্র পরিচয় তৈরি করতে ন্যাশনাল সিটিজেনস পার্টিকে (এনসিপি) এখনই জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন জোট থেকে বেরিয়ে আসার জোর তাগিদ দিয়েছেন মীর মাহবুবুর রহমান (স্নিগ্ধ)। জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে শহীদ মীর মাহফুজুর রহমান মুগ্ধর ভাই এবং জুলাই শহীদ স্মৃতি ফাউন্ডেশনের সাবেক এই প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা শনিবার রাতে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে এমন মন্তব্য করেন। তার এই বক্তব্য দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে, বিশেষ করে তরুণ প্রজন্মের মধ্যে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
ফেসবুক পোস্টে মীর স্নিগ্ধ স্পষ্টভাবেই জানান যে, তিনি অধিকারকর্মী শামান্তা সারমিনের মতামতের সাথে সম্পূর্ণ একমত। এনসিপিকে জোট ছাড়ার পরামর্শ দিয়ে তিনি যুক্তিসঙ্গত একটি কারণও তুলে ধরেছেন। তার মতে, এনসিপি যদি নিজেদেরকে একটি বড় ও শক্তিশালী রাজনৈতিক দল হিসেবে ভাবতে না শেখে, তবে বাইরের কেউ কখনোই তাদেরকে সেই মর্যাদা দেবে না। নিজেদের আদর্শ, রাজনৈতিক দর্শন এবং শক্ত অবস্থান প্রতিষ্ঠার জন্য সাময়িক কিছু প্রতিকূলতা বা অসুবিধা দেখা দিলেও, দীর্ঘমেয়াদী সফলতার জন্য দলটিকে এখনই এই সাহসী সিদ্ধান্ত নিতে হবে।
দেশের রাজনীতি নিয়ে তরুণ প্রজন্মের হতাশার কথাও উঠে এসেছে স্নিগ্ধর লেখায়। তিনি মনে করেন, এ দেশের তরুণ সমাজ পুরনো ধাঁচের এবং প্রচলিত রুগ্ণ রাজনীতিতে অনেকটাই অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে। তারা এখন এনসিপিকে একটি সম্পূর্ণ ভিন্ন ও স্বতন্ত্র রাজনৈতিক শক্তি হিসেবে দেখতে চায়। এখনই জোট না ছাড়লে সাধারণ মানুষের মনে ধীরে ধীরে এমন একটি নেতিবাচক ধারণা স্থায়ী হয়ে যাবে যে, এনসিপির নিজস্ব কোনো স্বকীয়তা বা স্বাধীন সত্তা নেই। আর একবার এই ধারণা প্রতিষ্ঠিত হয়ে গেলে তা ভাঙা দলটির জন্য অত্যন্ত কঠিন হবে।
জোট ছাড়ার ইতিবাচক দিক তুলে ধরে তিনি এনসিপি নেতাদের উদ্দেশ্যে একটি বড় সম্ভাবনার কথাও স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন। মীর স্নিগ্ধর মতে, এনসিপি যদি এখন জোটের ছায়া থেকে বেরিয়ে স্বাধীনভাবে দাঁড়াতে পারে, তবে এমন অনেক প্রভাবশালী ও সম্ভাবনাময় নেতা দলটিতে যোগ দেবেন, যা হয়তো তারা এখন কল্পনাও করতে পারছেন না। অনেকেই শুধু এনসিপির নিজস্ব স্বাধীন রাজনৈতিক অবস্থান দেখার অপেক্ষায় আছেন। উল্লেখ্য, সদ্য সমাপ্ত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে এনসিপি যখন জামায়াতের নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোটে যোগ দেয়, তখন এর তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে দলটির বেশ কয়েকজন প্রথম সারির নেতা পদত্যাগ করেছিলেন।