গত ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ বিজয়ের পর ১৭ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশের ১১তম প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন তারেক রহমান। ক্ষমতার প্রথম ৩০ দিনেই তিনি প্রমাণ করেছেন যে, তার সরকার কেবল ‘ক্ষমতা’ নয় বরং ‘সেবা’ ও ‘সংস্কারে’ বিশ্বাসী।
তারেক রহমানের সবচেয়ে প্রশংসিত সিদ্ধান্ত হলো ভিআইপি প্রটোকল ও ট্রাফিক সিগন্যাল মেনে চলার ঘোষণা।
যানজট নিরসন: প্রধানমন্ত্রীর গাড়িবহর ১৩-১৪টি থেকে কমিয়ে মাত্র ৪টিতে নামিয়ে আনা হয়েছে।
সিগন্যাল মেনে চলা: রাস্তার দুই পাশে পুলিশের দীর্ঘ অবস্থানের নিয়ম বন্ধ করে সাধারণ নাগরিকের মতো ট্রাফিক সিগন্যাল মেনে চলছেন তিনি, যা রাজধানীর ব্যস্ত সড়কে গতি ফিরিয়েছে।
বিনয়: সংবাদ সম্মেলনে ‘মাননীয়’ সম্বোধনে তাঁর আপত্তি রাজনৈতিক শিষ্টাচারের এক নতুন নজির স্থাপন করেছে।
খাল খনন: আজ ১৬ মার্চ দিনাজপুরের কাহারোল থেকে দেশব্যাপী খাল খনন কর্মসূচির উদ্বোধন করেছেন তিনি। আগামী ৫ বছরে ২০ হাজার কিলোমিটার জলাধার খননের লক্ষ্যমাত্রা নেওয়া হয়েছে, যা শহীদ জিয়ার কৃষি বিপ্লবের স্মৃতি মনে করিয়ে দেয়।
কৃষক কার্ড: আগামী ১৪ এপ্রিল থেকে পরীক্ষামূলকভাবে ‘কৃষক কার্ড’ বিতরণ শুরু হচ্ছে, যা সরাসরি প্রান্তিক কৃষকদের সহায়তা নিশ্চিত করবে।
ইমাম-মুয়াজ্জিন ভাতা: ১৪ মার্চ থেকে দেশের ইমাম, মুয়াজ্জিন এবং মন্দির-গির্জার ধর্মীয় নেতাদের জন্য রাষ্ট্রীয় সম্মানি চালু করা হয়েছে।
ফ্যামিলি কার্ড: ১০ মার্চ উদ্বোধন করা এই কার্ডের মাধ্যমে নিম্ন আয়ের পরিবারগুলো এখন থেকে সরাসরি সামাজিক সুরক্ষা সুবিধার আওতায় আসবে।
জাকাত বোর্ড: শায়খ আহমাদুল্লাহ ও মুফতি আবদুল মালেকসহ বিশিষ্ট আলেমদের সমন্বয়ে একটি কার্যকর জাকাত ব্যবস্থাপনা কমিটি গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
বিএনপির সংসদীয় দলের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, দলটির কোনো এমপি শুল্কমুক্ত গাড়ি বা সরকারি প্লট গ্রহণ করবেন না। এটি জনমণে রাজনীতিবিদদের প্রতি হারানো আস্থা ফিরিয়ে আনার একটি বড় পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
লাইলাতুল কদর উপলক্ষে দেশবাসীকে শুভেচ্ছা জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশ যেন শান্তি ও সমৃদ্ধির পথে এগিয়ে যায় সেই প্রার্থনা করেছেন। আজ দিনাজপুরে নানা-নানির কবর জিয়ারত এবং স্থানীয় সুধীজনদের সঙ্গে তাঁর ইফতার কর্মসূচি তৃণমূলের মানুষের সঙ্গে তাঁর নিবিড় সংযোগেরই প্রতিফলন।
তারেক রহমানের প্রথম এক মাস ছিল প্রত্যাশা এবং প্রাপ্তির এক দারুণ সমন্বয়। ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ এবং ‘ফ্যাসিবাদমুক্ত গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র’ গঠনের যে প্রতিশ্রুতি তিনি দিয়েছিলেন, এই ছোট ছোট পদক্ষেপগুলো সেই বড় পরিবর্তনেরই ভিত্তিপ্রস্তর।