• শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল ২০২৬, ০৩:১৮ অপরাহ্ন
Headline
আলোচনার টেবিলে যুক্তরাষ্ট্র ও হামাস ঐতিহাসিক মুজিবনগর দিবস আজ: স্বাধীনতার আঁতুড়ঘরে এবার নেই কোনো সরকারি আয়োজন বিরিয়ানিতে মেশানো হচ্ছে ডায়ালাইসিসের কেমিক্যাল: রাজধানীতে অভিযানে চাঞ্চল্যকর তথ্য অনলাইনে কালোবাজারি: ফেসবুক মার্কেটপ্লেসে প্রতি লিটার তেল বিক্রি হচ্ছে ২০০ থেকে ৩৫০ টাকায় মুজিবনগর দিবস আজ: সরকার বদলালেও সংস্কার হয়নি, ধ্বংসস্তূপেই পড়ে আছে স্বাধীনতার স্মারক ১০ হাজার মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুত উৎপাদনের মেগাপরিকল্পনা সরকারের পুলিশে সরাসরি ৪ হাজার উপপরিদর্শক নিয়োগের উদ্যোগ বিষাক্ত আবর্জনা ও দূষণে মৃত্যুর মুখে ঢাকার লেকগুলো: চরম স্বাস্থ্যঝুঁকিতে নগরবাসী এআই কি কেড়ে নেবে শিল্পীর জায়গা? হলিউড-বলিউডের তারকারা যা বলছেন মাঠের জাদুকর এবার মালিকের চেয়ারে: স্প্যানিশ ক্লাব কিনে নিলেন লিওনেল মেসি

তারেক জিয়া — আরেক জিয়া : পিতার অসমাপ্ত স্বপ্নের উত্তরাধিকার: তারেক রহমান কি পারবেন?

নিজস্ব প্রতিবেদক / ৪১ Time View
Update : মঙ্গলবার, ১৭ মার্চ, ২০২৬

বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে একটি নাম বারবার ফিরে আসে — জিয়াউর রহমান। স্বাধীনতার ঘোষক, বহুদলীয় গণতন্ত্রের পুনরুদ্ধারক, ‘বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ’-এর রূপকার এবং একটি তলাবিহীন ঝুড়ি থেকে স্বনির্ভর বাংলাদেশ গড়ার স্বপ্নদ্রষ্টা — শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান মাত্র পাঁচ বছরের শাসনকালে এমন বীজ বপন করেছিলেন, যার ফল আজও বাংলাদেশ ভোগ করছে। কিন্তু ১৯৮১ সালের ৩০ মে চট্টগ্রামে তাঁর নির্মম হত্যাকাণ্ডের মধ্য দিয়ে সেই স্বপ্নের অনেকটাই অসমাপ্ত থেকে যায়। দীর্ঘ ৪৫ বছর পর সেই অসমাপ্ত পথে হাঁটছেন তাঁরই পুত্র তারেক রহমান। ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ বিজয়ের পর ১৭ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশের ১১তম প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়েছেন তিনি। এখন প্রশ্ন একটাই — তারেক কি সত্যিই ‘আরেক জিয়া’ হয়ে উঠতে পারবেন?

জিয়াউর রহমান: স্বল্প সময়ে বিশাল স্বপ্ন

১৯৭৫ সালের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর রাষ্ট্রক্ষমতায় আসা জিয়াউর রহমান উত্তরাধিকারে পেয়েছিলেন একটি যুদ্ধবিধ্বস্ত, দুর্ভিক্ষ-ক্লান্ত এবং বিশৃঙ্খল দেশ। তাঁর সামনে চ্যালেঞ্জ ছিল বিশাল — কিন্তু দৃঢ়চেতা এই সামরিক নেতা তা মোকাবিলা করেছিলেন অসাধারণ বাস্তববুদ্ধি ও দূরদর্শিতা দিয়ে। তাঁর ঐতিহাসিক ১৯-দফা কর্মসূচি ছিল সেই সময়ের বাংলাদেশের জন্য একটি যুগান্তকারী রোডম্যাপ।

কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি, খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতা, জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণ, প্রশাসনের বিকেন্দ্রীকরণ এবং বেসরকারি খাতের বিকাশ — এই ছিল তাঁর অর্থনৈতিক দর্শনের মূল স্তম্ভ। দেশের প্রতিটি গ্রামে সেচ খাল খনন করিয়ে কৃষিতে বিপ্লব আনার চেষ্টা করেছিলেন তিনি। তাঁর নেতৃত্বে মাত্র কয়েক বছরে সারা দেশে দুই হাজার দুই শত মাইলেরও বেশি নতুন খাল খনন করা হয়, যা বন্যা নিয়ন্ত্রণ ও ফসল উৎপাদনে যুগান্তকারী ভূমিকা রাখে।

তিনি রাষ্ট্রায়ত্ত শিল্প ভূতপূর্ব মালিকদের ফিরিয়ে দিতে উদ্যোগী হন, ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ পুনরায় চালু করেন এবং বিদেশি বিনিয়োগের দরজা উন্মুক্ত করেন। ‘ভিক্ষাবৃত্তি নয়, স্বনির্ভরতা’ — এটি ছিল তাঁর দর্শনের সারসংক্ষেপ। কূটনৈতিক অঙ্গনেও তাঁর অবদান অতুলনীয়। দক্ষিণ এশিয়ার আঞ্চলিক সহযোগিতার ধারণা তিনিই প্রথম উপস্থাপন করেন, যার ফলে পরে সার্কের জন্ম হয়। বাংলাদেশকে তিনি জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের অস্থায়ী আসনেও নিয়ে যেতে সক্ষম হন।

বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ: পিতার দর্শন, পুত্রের উত্তরাধিকার

জিয়াউর রহমানের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক অবদান ছিল ‘বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ’-এর ধারণাটি। তিনি বলেছিলেন, আমরা ধর্মে মুসলিম, হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান — এটি সত্য; আমরা ভাষা ও কৃষ্টিতে বাঙালি — এটিও সত্য। কিন্তু ইতিহাস, ভূগোল, অর্থনীতি, মুক্তিযুদ্ধ এবং স্বাধীনতা সংগ্রাম আমাদের একটি বিশিষ্ট পরিচয় দিয়েছে — আমরা বাংলাদেশি। এই দর্শন ছিল বিভেদ নয়, ঐক্যের ডাক।

আজ তারেক রহমান সেই দর্শনকেই বহন করছেন। তিনি বলেছেন, ‘দল-মত-ধর্ম যার যার, রাষ্ট্র সবার। বাঙালি-অবাঙালি, বিশ্বাসী-অবিশ্বাসী — প্রত্যেক নাগরিকের একমাত্র পরিচয় আমরা বাংলাদেশি।’ তাঁর ‘ইনক্লুসিভ বাংলাদেশ’ বা অন্তর্ভুক্তিমূলক বাংলাদেশের ধারণা পিতার বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদেরই আধুনিক রূপ। এই দর্শনের ভিত্তিতে তিনি উপস্থাপন করেছেন ৩১-দফা রূপরেখা এবং ভিশন-২০৩০।

রক্ত, কারাগার ও নির্বাসন: এক অদম্য যোদ্ধার গল্প

তারেক রহমানের জীবন-পথ কেবল কণ্টকাকীর্ণ ছিল না — এ ছিল রাষ্ট্রীয় নির্যাতনের এক নারকীয় অভিজ্ঞতা। ২০০৭ সালে সেনাসমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে গ্রেপ্তারের পর তাঁকে রিমান্ডে নিয়ে অকথ্য শারীরিক নির্যাতন করা হয়। রিমান্ডে নির্যাতনের ফলে তাঁর মেরুদণ্ড ও পায়ের লিগামেন্ট মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। চিকিৎসার অযোগ্য হয়ে পড়া শরীর নিয়ে তাঁকে রাজনৈতিক বিবেচনায় দেশ ছেড়ে যেতে বাধ্য করা হয় — যা ছিল কার্যত জোরপূর্বক নির্বাসন। এরপর থেকে দীর্ঘ ১৭ বছর লন্ডনে অর্ধ-পঙ্গু অবস্থায় নির্বাসিত জীবন কাটান তিনি, যেখানে একদিকে চলতে থাকে বিদেশের মাটিতে দলকে নেতৃত্ব দেওয়ার সংগ্রাম, অন্যদিকে চলতে থাকে নিরলস শারীরিক চিকিৎসার যন্ত্রণা।

শুধু তারেক নন, তাঁর পুরো পরিবারকেই টার্গেট করা হয়েছিল। তাঁর মাতা, তিনবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে মিথ্যা মামলায় সাজা দিয়ে বছরের পর বছর কারান্তরীণ রাখা হয়। বৃদ্ধ বয়সে গুরুতর অসুস্থ অবস্থায়ও তাঁকে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা থেকে বঞ্চিত রাখা হয়েছিল — বিদেশে উন্নত চিকিৎসার সুযোগ বারবার অস্বীকার করা হয়। এই নিষ্ঠুর পরিকল্পনার সবচেয়ে মর্মান্তিক পরিণতি ছিল তারেকের ছোট ভাই আরাফাত রহমান কোকোর মৃত্যু। রাষ্ট্রীয় নির্যাতন ও কারাভোগের ধকল সহ্য করতে না পেরে ২০১৫ সালে মালয়েশিয়ায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় মাত্র ৪৫ বছর বয়সে মৃত্যুবরণ করেন কোকো। একটি রাজনৈতিক পরিবারকে ধ্বংস করতে গিয়ে একটি রাষ্ট্রযন্ত্র কতটা নিষ্ঠুর হতে পারে — কোকোর অকালমৃত্যু তার এক রক্তাক্ত সাক্ষী।

এতসব নির্যাতন, হারানো এবং ব্যক্তিগত বিপর্যয়ের পরেও তারেক রহমান ভেঙে পড়েননি। লন্ডন থেকেই তিনি দলের সাংগঠনিক কার্যক্রম পরিচালনা করতে থাকেন। তাঁর বিরুদ্ধে দায়ের করা ৮৪টিরও বেশি মামলা একে একে মিথ্যা প্রমাণিত হতে থাকে। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার ঐতিহাসিক অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর পরিস্থিতি সম্পূর্ণ বদলে যায়। আদালত তাঁর বিরুদ্ধে আনা সকল মামলায় তাঁকে বেকসুর খালাস দেয়। ২০২৫ সালের ২৫ ডিসেম্বর — একটি ঐতিহাসিক দিনে — দেশে ফেরেন তারেক রহমান। লাখো মানুষের উত্তাল ঢল তাঁকে সেদিন বরণ করে নিয়েছিল এক অভূতপূর্ব আবেগে। তারপর আসে ২০২৬ সালের ১২ ফেব্রুয়ারির ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন — যেখানে বিএনপি নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে। ১৭ ফেব্রুয়ারি তিনি শপথ নেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে। নির্যাতন-নির্বাসন পেরিয়ে রাষ্ট্রক্ষমতায় — এই যাত্রা ইতিহাসের পাতায় এক অসাধারণ অধ্যায়।

তারেকের রূপরেখা: পিতার স্বপ্নের আধুনিক বাস্তবায়ন

তারেক রহমানের রাজনৈতিক প্রস্তাবনায় জিয়াউর রহমানের ছাপ স্পষ্ট। জিয়া যেমন বহুদলীয় গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করেছিলেন, তারেক তেমনি গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কারের কথা বলছেন। তাঁর ৩১-দফায় রয়েছে নির্বাচনকালীন তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা পুনরুদ্ধার, প্রধানমন্ত্রীর পদে পরপর দুই মেয়াদের সীমা নির্ধারণ, উচ্চকক্ষ বিশিষ্ট সংসদ প্রতিষ্ঠা এবং বিচার বিভাগের স্বাধীনতা নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি।

অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে তাঁর মূল প্রতিশ্রুতি হলো ‘স্বনির্ভর বাংলাদেশ’ গড়া — পিতার ‘ভিক্ষাবৃত্তি নয়, স্বনির্ভরতা’ দর্শনেরই প্রতিধ্বনি। সংসদে প্রথম ভাষণে তিনি বলেন, ‘প্রতিটি পরিবারকে স্বনির্ভর করে তোলাই আমার সরকারের মূল লক্ষ্য।’ ‘বাংলাদেশ ফার্স্ট’ নীতিতে দেশের সার্বভৌমত্ব ও জাতীয় স্বার্থকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে বিশ্বের সব দেশের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক গড়ার কথাও বলছেন তিনি — যা জিয়াউর রহমানের ভারসাম্যপূর্ণ পররাষ্ট্রনীতির সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ।

তুলনার দর্পণে দুই জিয়া

বাবা ও ছেলের মধ্যে মিলের জায়গাগুলো কেবল আদর্শিক নয়, বরং পরিস্থিতিগতও বটে। জিয়াউর রহমান এসেছিলেন এক বিপর্যস্ত বাংলাদেশে, যেখানে গণতন্ত্র ছিল অনুপস্থিত, অর্থনীতি ছিল ভঙ্গুর। তারেক রহমানও একটি ক্ষতবিক্ষত রাজনৈতিক পরিবেশে ক্ষমতায় এলেন, যেখানে দেড় দশকের স্বৈরশাসন গণতন্ত্রের ভিতকে দুর্বল করে দিয়েছে, অর্থনীতি ঋণভারে জর্জরিত।

জিয়াউর রহমান যেমন রাজনৈতিক দর্শনকে নিষিদ্ধ করার পরিবর্তে উন্নত দর্শন দিয়ে প্রতিহত করতে বিশ্বাস করতেন এবং সকল মত ও পথের মানুষকে দলে টেনেছিলেন, তারেক রহমানও সেই পথেই হাঁটছেন। তাঁর ‘সবার বাংলাদেশ’ — এই বাক্যটি কেবল স্লোগান নয়, এটি পিতার অন্তর্ভুক্তিমূলক রাজনৈতিক দর্শনেরই প্রতিফলন।

চ্যালেঞ্জ ও প্রশ্ন: তিনি কি সফল হবেন?

তবে মিলের পাশাপাশি পার্থক্যও আছে। জিয়াউর রহমান এসেছিলেন একটি কম জটিল বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে। তারেক রহমানকে মোকাবিলা করতে হবে ভূ-রাজনৈতিক চাপ, জলবায়ু পরিবর্তনের সংকট, প্রবাসী আয়ের উপর নির্ভরশীলতা এবং একটি বিভক্ত আঞ্চলিক রাজনীতির বাস্তবতা।

সবচেয়ে বড় অভ্যন্তরীণ চ্যালেঞ্জ হলো প্রশাসনের রন্ধ্রে রন্ধ্রে গেড়ে বসা দুর্নীতির কালো ছায়া। গত দেড় দশকে আওয়ামী লীগ সরকারের সুদীর্ঘ শাসনে রাষ্ট্রের প্রতিটি স্তর — পুলিশ, প্রশাসন, বিচারব্যবস্থা, ব্যাংকিং খাত, শিক্ষা, স্বাস্থ্য — সর্বত্র দলীয়করণ ও দুর্নীতি এমনভাবে শেকড় গেড়েছে যে রাতারাতি তা উপড়ে ফেলা কারো পক্ষেই সম্ভব নয়। যে কর্মকর্তারা দীর্ঘ বছর ক্ষমতাসীন দলের আশীর্বাদে পদে আছেন, তাঁদের মানসিকতা ও কর্মধারা বদলাতে সময় লাগবে। সরকার বদলালেও ব্যবস্থার কাঠামো এক রাতে বদলায় না — এই বাস্তবতা তারেক রহমানের জন্য একটি দীর্ঘমেয়াদি পরীক্ষা।

একইসঙ্গে রয়েছে আরেকটি সূক্ষ্ম কিন্তু অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সংকট — দলের ভেতর থেকে আসা প্রত্যাশার চাপ। আওয়ামী লীগের দীর্ঘ শাসনামলে বিএনপির অসংখ্য নেতাকর্মী ও সমর্থক পরিবার চরম ক্ষতির শিকার হয়েছেন। অনেকে ব্যক্তিগতভাবে সৎ ও নির্লোভ, তবু মিথ্যা মামলায় জর্জরিত হয়েছেন, ঘরবাড়ি ভাঙচুর-লুটপাটের শিকার হয়েছেন, চাকরি হারিয়েছেন, সামাজিকভাবে নিগৃহীত হয়েছেন। বছরের পর বছর এই কষ্ট সহ্য করে এখন তারা ভাবছেন — দল ক্ষমতায় এসেছে, এবার নিশ্চয়ই তাদের ক্ষত কিছুটা হলেও সারবে। পুনর্বাসন পাবেন, ন্যায়বিচার পাবেন, হারানো সম্মান ফিরে পাবেন।

এই প্রত্যাশাকে পুরোপুরি উপেক্ষা করা যাবে না, কারণ এটি নৈতিকভাবে ন্যায্য। কিন্তু একই সঙ্গে এটি যদি দলবাজি, প্রতিশোধপরায়ণতা বা অযোগ্য লোককে পুরস্কৃত করার উপকরণে পরিণত হয়, তাহলে সুশাসনের পথে তা হবে বড় অন্তরায়। তারেক রহমানকে তাই একদিকে দলের ত্যাগী নেতাকর্মীদের আস্থা রক্ষা করতে হবে, অন্যদিকে নিশ্চিত করতে হবে যে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলো দলীয় স্বার্থের হাতিয়ারে পরিণত না হয়। এই ভারসাম্য রক্ষা করাই হবে তাঁর শাসনক্ষমতার সবচেয়ে কঠিন পরীক্ষা।

সমালোচকরা প্রশ্ন তুলছেন — তারেক রহমানের শাসনে দুর্নীতিমুক্ত প্রশাসন গড়া সম্ভব হবে কি না, বিচার বিভাগের প্রকৃত স্বাধীনতা নিশ্চিত হবে কি না এবং মিডিয়া ও সুশীল সমাজের কণ্ঠস্বর অবাধ থাকবে কি না। অন্যদিকে সমর্থকরা বলছেন, যিনি রাষ্ট্রীয় নির্যাতন সহ্য করেছেন, পরিবারের ক্ষতি দেখেছেন, ভাইয়ের মৃত্যু বুকে নিয়ে দেশে ফিরেছেন — তিনি নিছক সুবিধাভোগী রাজনীতিক নন। যাঁরা কষ্ট জেনেছেন, তাঁরাই কষ্ট বোঝেন — তারেক রহমান সেই বোধ নিয়েই শাসন করবেন বলে তাঁরা বিশ্বাস করেন।

শেষ কথা: ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি নাকি নতুন অধ্যায়?

জিয়াউর রহমান তাঁর মাত্র পাঁচ বছরের শাসনে বাংলাদেশকে যে পথে নিয়ে যেতে চেয়েছিলেন, সেই পথ পূর্ণ করার সুযোগ পাননি। একটি হত্যাকাণ্ড সেই স্বপ্নকে অকালে থামিয়ে দিয়েছিল। তাঁর পুত্র তারেক রহমান আজ সেই একই দর্শন বুকে নিয়ে দেশের হাল ধরেছেন। ইতিহাস তাঁকে কোথায় নিয়ে যাবে তা সময়ই বলবে।

তবে একটি কথা নিঃসন্দেহে বলা যায় — পিতার মতোই পুত্রও একটি নতুন বাংলাদেশ গড়ার প্রতিশ্রুতি নিয়ে এসেছেন। জিয়াউর রহমান বলেছিলেন, ‘আমাদের দেশ গরিব হতে পারে, কিন্তু আমাদের মাথা কখনো নিচু নয়।’ তারেক রহমান সেই মাথা উঁচু করে রাখার দায় নিয়েছেন। এখন প্রমাণ করতে হবে যে ‘তারেক জিয়া’ শুধু একটি রাজনৈতিক উত্তরাধিকারের নাম নয় — এটি একটি কর্মসাধনার প্রতিশ্রুতিও বটে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category