পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে নাড়ির টানে আপন ঠিকানায় ফিরতে শুরু করেছে লাখো মানুষ। সরকারের পক্ষ থেকে এবারের ঈদযাত্রা নির্বিঘ্ন ও স্বস্তিদায়ক করতে নানা পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। সড়ক পরিবহনমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম জানিয়েছেন, গণপরিবহনে পর্যাপ্ত জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত থাকায় যাত্রীরা স্বাচ্ছন্দ্যেই বাড়ি ফিরছেন। তবে রাজধানীর টার্মিনালগুলোতে স্বস্তির এমন চিত্র দেখা গেলেও উল্টো চিত্র মহাসড়কে। বিশেষ করে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের চন্দ্রা বাস টার্মিনাল ও এর আশপাশের অন্তত ১২ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে ইতোমধ্যে থেমে থেমে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়েছে। বুধবার (১৮ মার্চ) দুপুরের পর গাজীপুরের শিল্পকারখানাগুলো ব্যাপক হারে ছুটি হতে শুরু করলে এই চাপ আরও কয়েকগুণ বাড়বে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
আজ বুধবার সকালে রাজধানীর গাবতলী বাস টার্মিনাল পরিদর্শনে গিয়ে সড়ক পরিবহনমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম ঈদযাত্রার সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে সন্তোষ প্রকাশ করেন। তিনি জানান, গত ১৫ মার্চ থেকেই গণপরিবহনে নিরবচ্ছিন্ন ও পর্যাপ্ত জ্বালানি সরবরাহ করা হচ্ছে, কোথাও কোনো ঘাটতি বা স্বল্পতা নেই। সমস্ত রুটে আরামদায়ক পরিবেশে যাত্রীরা বাড়ি যাচ্ছেন। যাত্রীদের বিচ্ছিন্ন কিছু চাপ থাকলেও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সহায়তায় তা সফলভাবে নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হয়েছে। নির্ধারিত ভাড়া কার্যকর রাখতে পুলিশ, ভিজিল্যান্স টিম ও র্যাবের কন্ট্রোল রুম সার্বক্ষণিক সক্রিয় রয়েছে। অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে ইতোমধ্যে নবীনগর ও বাইপাইলে একটি পরিবহনকে ১০ হাজার টাকা এবং চট্টগ্রাম রোডে দুটি পরিবহনকে ৮ হাজার ৬০০ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। কিছু পরিবহনের যত্রতত্র সাব-কাউন্টার বসানোর সমালোচনা করে মন্ত্রী হুঁশিয়ারি দেন, ঈদের পর এসব কাউন্টার নির্দিষ্ট স্থানে সরিয়ে আনতে মালিকদের সময় বেঁধে দেওয়া হবে এবং বিষয়টি কঠোরভাবে মনিটরিং করা হবে।

গাবতলীতে মন্ত্রীর এই আশ্বাসের বিপরীতে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে ঘরমুখো মানুষের চরম চাপ ও যানজটের ভোগান্তি চোখে পড়েছে। বুধবার সকাল থেকেই ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের সফিপুর থেকে চন্দ্রা টার্মিনাল এবং চন্দ্রা-নবীনগর সড়কের বাড়ইপাড়া থেকে চন্দ্রা পর্যন্ত যানজট দেখা গেছে। তবে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কে যানবাহনের চাপ থাকলেও বড় কোনো যানজটের খবর পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সূত্র ও পুলিশ জানিয়েছে, চন্দ্রা এলাকায় যানজটের মূল কারণ হলো মহাসড়ক ঘেঁষা কারখানাগুলোর সামনে যত্রতত্র বাস দাঁড় করিয়ে রাখা এবং শ্রমিকদের আগে থেকে রিজার্ভ করা পরিবহনগুলোর দীর্ঘ সারি। এছাড়া ঢাকা ও নারায়ণগঞ্জ থেকে ছেড়ে আসা বাসগুলো চন্দ্রা এলাকায় পৌঁছালে স্থানীয় যাত্রীরা সেখানে জড়ো হয়ে বাসে ওঠার চেষ্টা করায় পরিস্থিতি আরও জটিল হচ্ছে। অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন থাকলেও যাত্রী ও যানবাহনের এই বিপুল চাপের কারণে যানজট সামলাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে।
গাজীপুর শিল্প ও কারখানা পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, জেলায় ছোট-বড় মিলিয়ে প্রায় পাঁচ হাজার শিল্পকারখানা রয়েছে। যানজট এড়াতে এবার ধাপে ধাপে ছুটি দেওয়া হচ্ছে। মঙ্গলবার ২৫ শতাংশ কারখানা ছুটি হওয়ার পর আজ বুধবার দুপুরে তৃতীয় ধাপে অন্তত ৪০ শতাংশ পোশাক কারখানা একযোগে ছুটি হবে। সর্বশেষ আগামীকাল বৃহস্পতিবার ৮৩৩টি কারখানা ছুটি হবে। ফলে বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে মহাসড়কে যাত্রীদের ঢল নামছে। বেতন-বোনাস পেয়ে খুশি মনে বাড়ির পথে রওনা হওয়া শ্রমিক মোহাম্মদ রফিকুজ্জামান মিয়া ও নাসিমা আক্তার জানান, যানজট এবং সামান্য বাড়তি ভাড়া থাকলেও পর্যাপ্ত পরিবহন থাকায় এবং টানা দীর্ঘ ছুটি পাওয়ায় বাড়ি ফেরার আনন্দই তাদের কাছে মুখ্য। কোনাবাড়ী নাওজোর হাইওয়ে থানার ওসি সওগাতুল আলম জানান, মঙ্গলবার থেকে শুরু হওয়া যাত্রীদের এই চাপ কারখানার ছুটির কারণে আজ দুপুরের পর আরও কয়েকগুণ বাড়বে। পরিস্থিতি সামাল দিতে মহাসড়কে কাজ করছে হাইওয়ে পুলিশের একাধিক টিম।