• বৃহস্পতিবার, ২৩ এপ্রিল ২০২৬, ০৩:৩৫ অপরাহ্ন
Headline
ঋণের পাহাড় ও শূন্য থলের আখ্যান: চরম অর্থকষ্টে কোন পথে বাংলাদেশ? ফখরুলের ‘ক্লান্তি’: স্বেচ্ছায় বিদায় নাকি ‘মাইনাস’? জাতীয় সংসদ সদস্য (এমপি) নির্বাচিত হলে যেসব সরকারি সুযোগ-সুবিধা পাওয়া যায় খাদের কিনারে অর্থনীতি: ড. ইউনূসের আমল নিয়ে বিস্তর প্রশ্ন নাহিদার ঘূর্ণিও বৃথা: ব্যাটারদের ব্যর্থতায় হারল বাংলাদেশ পেপ্যাল আসছে, জানালেন প্রধানমন্ত্রী ‘স্মার্ট কৃষি’ নিয়ে একগুচ্ছ পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে সরকার : প্রধানমন্ত্রী প্রাথমিকের শিশুদের বিনামূল্যে জুতা: সরকারের আর কী চমক থাকছে? উর্দুভাষী বাংলাদেশিদের স্থায়ী পুনর্বাসনের বিষয়টি বিবেচনা করা যেতে পারে: প্রধানমন্ত্রী বাস ভাড়া না বাড়ানোর নির্দেশ

ফখরুলের ‘ক্লান্তি’: স্বেচ্ছায় বিদায় নাকি ‘মাইনাস’?

Reporter Name / ২ Time View
Update : বৃহস্পতিবার, ২৩ এপ্রিল, ২০২৬

বিএনপির রাজনীতিতে এখন সবচেয়ে আলোচিত বিষয়—মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের অবসর ভাবনা এবং দলের আসন্ন কাউন্সিল। দীর্ঘ দেড় দশক ধরে দলের দুর্দিনে শক্ত হাতে হাল ধরা এই বর্ষীয়ান নেতা সম্প্রতি নিজের ক্লান্তি এবং অবসরের কথা প্রকাশ্যে এনেছেন, যা রাজনৈতিক মহলে নানা জল্পনা-কল্পনার জন্ম দিয়েছে।

ক্লান্তি নাকি অভিমান?

সম্প্রতি একটি বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেলে দেওয়া সাক্ষাৎকারে মির্জা ফখরুল স্পষ্ট করে বলেন, “আমি খুবই ক্লান্ত। আগামী কাউন্সিল পর্যন্ত থাকতে হচ্ছে। কাউন্সিলের পর অবসর নিতে চাই। আমার অনেক বয়স হয়ে গেছে, অসুস্থ হয়ে যাচ্ছি।”

তিনি শারীরিক ক্লান্তি এবং বয়সের কথা উল্লেখ করলেও, অনেকের মনে প্রশ্ন—এটি কি শুধুই শারীরিক ক্লান্তি, নাকি দলের অভ্যন্তরীণ সমীকরণে কোনো মনস্তাত্ত্বিক দূরত্বের বহিঃপ্রকাশ? যদিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া “দলে আমার মতামতের কোনো মূল্য দেওয়া হয় না” শীর্ষক একটি মন্তব্যকে পিআইবির ফ্যাক্টচেক টিম ‘বাংলাফ্যাক্ট’ সম্পূর্ণ বানোয়াট ও বিকৃত অপপ্রচার বলে উড়িয়ে দিয়েছে।

দীর্ঘ ১৫ বছর জেল, জুলুম, মামলা-হামলার পাহাড় পেরিয়ে যখন দলটি ক্ষমতার কাছাকাছি আসার স্বপ্ন দেখছে, ঠিক তখনই তাঁর এই ‘অবসরের’ ঘোষণা দলের নেতাকর্মীদের ভাবিয়ে তুলেছে।

সালাহউদ্দিন আহমেদ: নতুন মহাসচিবের গুঞ্জন?

মির্জা ফখরুলের অবসরের ঘোষণার পরপরই ঢাকার রাজনৈতিক অলিন্দে জোরেশোরে উচ্চারিত হচ্ছে একটি নাম—সালাহউদ্দিন আহমেদ। প্রায় ৯ বছর ভারতে নির্বাসিত জীবন কাটিয়ে দেশে ফেরা বিএনপির স্থায়ী কমিটির এই সদস্য বর্তমানে তারেক রহমানের অত্যন্ত আস্থাভাজন হিসেবে পরিচিত।

খালেদা জিয়ার কারাবাস এবং তারেক রহমানের প্রবাস জীবনের এই দীর্ঘ শূন্যতার মাঝে সালাহউদ্দিন আহমেদ দলের একটি বড় অংশের সঙ্গে সেতুবন্ধন হিসেবে কাজ করেছেন। এখন প্রশ্ন উঠেছে, তারেক রহমান কি অভিজ্ঞ ফখরুলের স্থলাভিষিক্ত হিসেবে পরিচ্ছন্ন ইমেজের সালাহউদ্দিন আহমেদকে বেছে নেবেন? সিনিয়র-জুনিয়র ব্যালেন্স এবং দলের ভেতরে তৈরি হওয়া নতুন বলয়গুলোর মধ্যে সমন্বয় করতে পারবেন কি না, সেটাই এখন বড় চ্যালেঞ্জ।

আসন্ন কাউন্সিল: দীর্ঘ অপেক্ষার অবসান

বিএনপির সর্বশেষ জাতীয় কাউন্সিল অনুষ্ঠিত হয়েছিল প্রায় ১০ বছর আগে, ২০১৬ সালে। দলীয় গঠনতন্ত্র অনুযায়ী প্রতি তিন বছর পর পর কাউন্সিল হওয়ার কথা থাকলেও রাজনৈতিক প্রতিকূলতা, মামলা এবং সরকারের চাপের কারণে তা সম্ভব হয়নি।

তবে দলের সূত্রগুলো নিশ্চিত করেছে, চলতি ২০২৬ সালের মধ্যেই, সম্ভবত ঈদুল আজহার পরপরই, বিএনপির সপ্তম জাতীয় কাউন্সিল অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। এবারের কাউন্সিল শুধু আনুষ্ঠানিকতা নয়, বরং শীর্ষ পদগুলোতে—বিশেষ করে মহাসচিব পদে—বড় ধরনের রদবদলের ইঙ্গিত দিচ্ছে।

তারেক রহমানের সামনে হিমালয় সমান চ্যালেঞ্জ

দীর্ঘ নিষ্ক্রিয়তার পর দলকে নির্বাচন বা সরকার পরিচালনার জন্য প্রস্তুত করা মোটেও সহজ কাজ নয়। বেকারত্ব, ডলার সংকট, এবং ভঙ্গুর অর্থনীতি পুনরুদ্ধারের মতো চ্যালেঞ্জগুলো মোকাবিলা করতে তারেক রহমানের একটি ‘ড্রিম টিম’ প্রয়োজন। লন্ডন থেকে তারেক রহমান দলের অভ্যন্তরীণ হতাশা, ক্লান্তি এবং নিষ্ক্রিয়তার ভাইরাসের বিষয়টি কতটা আঁচ করতে পারছেন, তার ওপরই নির্ভর করছে আসন্ন কাউন্সিলের সিদ্ধান্ত।

একটি বিষয় স্পষ্ট—ক্লান্ত এবং নিষ্ক্রিয় নেতৃত্ব দিয়ে রাজনীতি বা রাষ্ট্র পরিচালনা করা যায় না। এখন দেখার বিষয়, আসন্ন কাউন্সিলে বিএনপি কি একটি নতুন ও উদ্যমী নেতৃত্ব নিয়ে ঘুরে দাঁড়াতে পারবে, নাকি অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বে আরও পিছিয়ে পড়বে। দলের লাখো কর্মীর আবেগের উত্তর এখন শুধু সময়ের হাতে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category