বাংলাদেশের রাজনীতির প্রেক্ষাপটে এবারের ঈদুল ফিতর একটি বিশেষ ঐতিহাসিক তাৎপর্য বহন করছে। দীর্ঘ ১৯ বছরের প্রবাস জীবনের ইতি টেনে নিজ মাতৃভূমিতে এবারের ঈদ উদযাপন করতে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ২০০৭ সালে শেষবার দেশে ঈদ করার পর ২০০৮ সালের সেপ্টেম্বরে তিনি লন্ডনের উদ্দেশে পাড়ি জমিয়েছিলেন। এরপর গত ২০২৫ সালের ২৫ ডিসেম্বর এক অভূতপূর্ব প্রত্যাবর্তনের মধ্য দিয়ে তিনি দেশে ফিরে আসেন। এবারের ঈদ তাই তার কাছে কেবল একটি ধর্মীয় উৎসব নয়, বরং দীর্ঘ নির্বাসন শেষে রাষ্ট্র পরিচালনার শীর্ষ পদে আসীন হওয়ার এক অনন্য রাজনৈতিক ও ব্যক্তিগত অর্জনের স্মারক।
জনগণের বিপুল ম্যান্ডেট নিয়ে সরকার গঠনের পর প্রধানমন্ত্রী হিসেবে এটিই তার প্রথম ঈদ। আনন্দঘন এই দিনটিতে তিনি ঢাকায় অবস্থান করবেন এবং রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় সর্বস্তরের মানুষের সঙ্গে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করে নেবেন। সকাল ১০টা থেকে শুরু হতে যাওয়া এই শুভেচ্ছা বিনিময় অনুষ্ঠানে বিদেশি কূটনীতিক, মন্ত্রী, সংসদ সদস্য, বিশিষ্ট নাগরিক, আলেম সমাজ, ঊর্ধ্বতন সরকারি কর্মকর্তা এবং রাজনৈতিক নেতাদের উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে বলে দলের গণমাধ্যম শাখা থেকে জানানো হয়েছে। দেশে ফিরে দলকে নতুন করে গুছিয়ে জোটবদ্ধভাবে নির্বাচনে জয়লাভ এবং দ্রুততম সময়ে জনকল্যাণমুখী পদক্ষেপ গ্রহণের এই সাফল্য তার এবারের ঈদকে করেছে আরও বেশি উৎসবমুখর।
তবে এতসব রাজনৈতিক অর্জন আর উল্লাসের মাঝেও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের মনে রয়ে গেছে এক অব্যক্ত বেদনা। রাষ্ট্র পরিচালনার মতো গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব এবং দীর্ঘ লড়াইয়ের পর দেশে ফেরার আনন্দের মাঝেও তার মা, দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার অনুপস্থিতি এক বিশাল শূন্যতার সৃষ্টি করেছে। সফলতার এই পূর্ণতার মাঝেও মায়ের অভাব তার ব্যক্তিগত অনুভূতিকে গভীরভাবে নাড়া দিচ্ছে।
এদিকে, দলীয় প্রধানের এমন ঐতিহাসিক প্রত্যাবর্তন ও প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তার ঈদ উদযাপনের বিষয়টি তৃণমূল থেকে শুরু করে বিএনপির শীর্ষ নেতাদের মাঝে ব্যাপক উচ্ছ্বাসের জন্ম দিয়েছে। গত ১৭ বছর ধরে চরম প্রতিকূলতা, হামলা-মামলা ও নির্যাতনের শিকার হওয়া দলীয় নেতাকর্মীরা এই দিনটিকে একটি গৌরবময় বিজয় ও পুনর্জাগরণের প্রতীক হিসেবে দেখছেন। দলের বিভিন্ন স্তরের নেতাদের মতে, তারেক রহমানের দূরদর্শী ও অটুট নেতৃত্বের কারণেই দলের কর্মীরা আজ ঐক্যবদ্ধ এবং নতুন শক্তিতে বলীয়ান হয়ে জনগণের আরও কাছাকাছি পৌঁছাতে পেরেছেন। দীর্ঘ সংগ্রাম আর ত্যাগের পর প্রিয় নেতার সঙ্গে দেশের মাটিতে ঈদ উদযাপনের এই ক্ষণটি তাই প্রতিটি নেতাকর্মীর কাছে পরম আরাধ্য, আবেগময় এবং রাজনৈতিক ইতিহাসের এক অবিস্মরণীয় অধ্যায় হয়ে থাকবে।