• বৃহস্পতিবার, ২৩ এপ্রিল ২০২৬, ০৫:১৯ অপরাহ্ন
Headline
গ্রামে মারাত্মক লোডশেডিং: জ্বালানি সংকট উত্তরণে মন্ত্রীদের আরও তৎপর হওয়ার আহ্বান রিজভীর আরও ১০০০ মাদ্রাসায় কারিগরি ট্রেড কোর্স চালুর ঘোষণা শিক্ষামন্ত্রীর বিবি আছিয়া: নারী সমাজের এক অনন্য অনুপ্রেরণা যুদ্ধের প্রভাবে ইরানে ২০ লাখ মানুষ চাকরি হারিয়েছেন ইরানের ওপর মার্কিন নৌ-অবরোধের কার্যকারিতা নিয়ে সংশয় সংরক্ষিত নারী আসনে বিএনপির ৩৬ প্রার্থীর সবার মনোনয়ন বৈধ আদর্শের লড়াইয়ে বিজেপিকে কেবল কংগ্রেসই হারাতে পারে: রাহুল গান্ধি বিধানসভা নির্বাচন: পশ্চিমবঙ্গবাসীর প্রতি প্রধানমন্ত্রী মোদির বিশেষ বার্তা দুই দশক পর গাজার দেইর আল-বালাহ শহরে পৌর নির্বাচন হরমুজ প্রণালীতে টোল আদায়: ইরানের কোষাগারে জমা হলো প্রথম আয়

প্রিপেইড মিটারের প্যাঁচে দিশেহারা রাজধানীবাসী

Reporter Name / ৩১ Time View
Update : রবিবার, ২২ মার্চ, ২০২৬

রাজধানীতে বিদ্যুতের প্রিপেইড মিটার প্রবর্তন করা হয়েছিল বিল পরিশোধের ঝামেলা কমানো এবং স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে। কিন্তু কয়েক বছর পর এসে দেখা যাচ্ছে, এই ‘ডিজিটাল সুবিধা’ অনেক গ্রাহকের কাছে এখন গলার কাঁটা হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিশেষ করে জুরাইন, শ্যামপুর ও কদমতলীর মতো জনবহুল এলাকাগুলোতে প্রিপেইড মিটার নিয়ে ক্ষোভ এখন তুঙ্গে। গ্রাহকদের অভিযোগ—মিটারের কারসাজিতে বিল কমার বদলে বরং দ্বিগুণ হয়েছে, সাথে যুক্ত হয়েছে নানা অদ্ভুত চার্জ।


১. খরচের গোলকধাঁধা: বিল কেন বাড়ছে?

গ্রাহকদের প্রধান ক্ষোভ রিচার্জের সময় টাকা কেটে নেওয়ার ধরণ নিয়ে। প্রিপেইড মিটারে বিদ্যুৎ ব্যবহারের ওপর নিয়ন্ত্রণ থাকার কথা থাকলেও, খরচের হিসাব অনেক সময় সাধারণ মানুষের বোধগম্য হচ্ছে না।

  • অস্বচ্ছ চার্জ: রিচার্জ করার সঙ্গে সঙ্গেই মিটার ভাড়া, সার্ভিস চার্জ, ভ্যাট এবং ডিমান্ড চার্জ বাবদ বড় অঙ্কের টাকা কেটে নেওয়া হচ্ছে।

  • দ্বিগুণ খরচের বোঝা: জুরাইনের বাসিন্দা মাহমুদুল হাসান রাসেলের মতে, আগে যেখানে ৫০০-৬০০ টাকা বিল আসত, এখন একই ব্যবহারে খরচ পড়ছে প্রায় দ্বিগুণ।

  • পুনরাবৃত্তি ডিমান্ড চার্জ: গ্রাহকদের প্রশ্ন—ভবনের সংযোগ নেওয়ার সময় একবার ডিমান্ড চার্জ দেওয়ার পরও প্রতি মাসে কেন পুনরায় এই চার্জ দিতে হবে?

২. কারিগরি ফাঁদ: মিটার যখন ‘লক’

প্রিপেইড মিটারের কারিগরি সীমাবদ্ধতা গ্রাহকদের দৈনন্দিন জীবনকে বিষিয়ে তুলছে।

  • তিনবার ভুলেই অন্ধকার: রিচার্জ কোড দিতে গিয়ে পরপর তিনবার ভুল হলে মিটার সঙ্গে সঙ্গে ‘লক’ হয়ে যায়। তখন বিদ্যুৎ সংযোগ সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে।

  • অফিস দৌড়াদৌড়ি: লক হওয়া মিটার খুলতে গ্রাহককে বিদ্যুৎ অফিসে যোগাযোগ করতে হয়। ছুটির দিনে বা মাঝরাতে এই সমস্যা হলে শিশু ও রোগীদের নিয়ে চরম বিপাকে পড়েন গৃহিণীরা।

  • সার্ভার জটিলতা: মাঝেমধ্যেই সার্ভার ডাউন থাকায় রিচার্জ করা সম্ভব হয় না, যার ফলে গ্রাহককে ঘণ্টার পর ঘণ্টা বিদ্যুৎহীন থাকতে হয়।

ভোগান্তির মূল কারণগুলো একনজরে
বিষয়ের নাম গ্রাহকের প্রধান অভিযোগ
অতিরিক্ত চার্জ মিটার ভাড়া, ডিমান্ড চার্জ ও ভ্যাটের নামে বিপুল অর্থ কর্তন।
টেকনিক্যাল ত্রুটি কোড দিতে ভুল হলে লক হওয়া এবং আনলক করার দীর্ঘ প্রক্রিয়া।
জরুরি ব্যালেন্স ইমার্জেন্সি ব্যালেন্স নিলে পরবর্তী রিচার্জে অতিরিক্ত চার্জসহ টাকা কাটা।
বাধ্যতামূলক প্রতিস্থাপন গ্রাহকের মতামত না নিয়ে পুরনো মিটার খুলে প্রিপেইড মিটার বসানো।

৩. কর্মকর্তাদের সাফাই ও বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা

ডিপিডিসি কর্মকর্তাদের দাবি, যাবতীয় চার্জ মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ীই নেওয়া হচ্ছে এবং এতে গ্রাহকের নিয়ন্ত্রণ বেশি থাকে। তবে সংশ্লিষ্ট কেন্দ্রের কর্মকর্তা রুবেল জানিয়েছেন, অভিযোগগুলো তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।

অন্যদিকে, জ্বালানি বিশেষজ্ঞরা মনে করেন—প্রযুক্তিগত ত্রুটি দূর না করে এবং গ্রাহকদের পর্যাপ্ত প্রশিক্ষণ না দিয়ে তড়িঘড়ি করে এই ব্যবস্থা চাপিয়ে দেওয়াই এই বিশৃঙ্খলার মূল কারণ। তথ্যের স্বচ্ছতা নিশ্চিত না করলে সাধারণ মানুষের এই অসন্তোষ অদূর ভবিষ্যতে আরও বড় আন্দোলনের রূপ নিতে পারে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category