• শুক্রবার, ২৮ অগাস্ট ২০২৬, ১১:৩০ পূর্বাহ্ন
Headline
নতুন টার্মিনাল নির্মাণের তোড়জোড়: এলএনজি আমদানির আর্থিক বোঝা ছাড়াতে পারে ১ লাখ ২০ হাজার কোটি টাকা বিপন্ন হতে পারে রাষ্ট্রীয় ইস্টার্ন রিফাইনারি: আবেদন নাকচের পরেও রিফাইনারি বানাতে কারসাজি পাড়ার নিরাপত্তা মানে নিজের নিরাপত্তা: কিছু পরামর্শ নভোথিয়েটারের সাবেক মহাপরিচালক আরশাদের দেশত্যাগ নিষেধাজ্ঞা স্থানীয় প্রকল্পে বৈদেশিক মুদ্রায় ব্যাংক গ্যারান্টির সুযোগ অবকাঠামো, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে চীনের অভিজ্ঞতা কাজে লাগাতে চাই : এলজিআরডি মন্ত্রী রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব পালনে সম্পূর্ণ দলনিরপেক্ষভাবে কাজ করব : রাষ্ট্রপতি আমরা তার ছাত্র হওয়ার জন্য আসিনি: সংসদে বিরোধীদলীয় নেতা এভাবে নিয়ম ভঙ্গ করা হলে সংসদ বেশি দিন চলবে না: স্পিকার সংসদে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্যে বিরোধীদের প্রতিবাদ, পরিস্থিতি উত্তপ্ত

মৃত্যুফাঁদ দৌলতদিয়া ঘাট: নিরাপত্তাহীন পন্টুন

Reporter Name / ১২৩ Time View
Update : শুক্রবার, ২৭ মার্চ, ২০২৬

রাজবাড়ীর দৌলতদিয়া ফেরিঘাটে বাসডুবির মর্মান্তিক ঘটনায় এখন পর্যন্ত ২৬ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এই হৃদয়বিদারক দুর্ঘটনাটি ফেরিঘাটের চরম অব্যবস্থাপনা, জরাজীর্ণ পন্টুন এবং অরক্ষিত যাতায়াত ব্যবস্থার নগ্ন চিত্রকে আবারও সামনে নিয়ে এসেছে। স্থানীয় প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট মহলের মতে, নিয়মকানুনের তোয়াক্কা না করা এবং ঘাটের অবকাঠামোগত ত্রুটিই মূলত এই বিশাল প্রাণহানির প্রধান কারণ।

তদন্ত ও উদ্ধার অভিযানের চিত্র

দুর্ঘটনার পর থেকে টানা অভিযানে বাসের ভেতর ও নদী থেকে ২৬ জনের নিথর দেহ উদ্ধার করেছেন ফায়ার সার্ভিস, নৌবাহিনী ও কোস্টগার্ডের ডুবুরিরা। নিহতদের মধ্যে একই পরিবারের একাধিক সদস্য থাকার খবর পাওয়া গেছে, যা পুরো এলাকায় শোকের ছায়া ফেলেছে। জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিহতদের পরিবারকে তাৎক্ষণিক ২৫ হাজার টাকা এবং আহতদের ১৫ হাজার টাকা করে সহায়তার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তে জেলা প্রশাসন ও নৌপরিবহন মন্ত্রণালয় থেকে পৃথক দুটি উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে, যাদের তিন কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে।

দুর্ঘটনার নেপথ্যে যত কারণ

সরেজমিনে তদন্ত এবং প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনায় দুর্ঘটনার বেশ কিছু ভয়াবহ কারণ উঠে এসেছে:

  • অরক্ষিত ও রেলিংবিহীন পন্টুন: ৩ নম্বর ঘাটের পন্টুনটি অত্যন্ত পুরোনো এবং এতে কোনো নিরাপত্তা বেষ্টনী বা রেলিং নেই। ফলে বাসটি নিয়ন্ত্রণ হারানোর পর সরাসরি নদীতে পড়ে যায়। চালক ও শ্রমিকদের দাবি, রেলিং থাকলে হয়তো বাসটি আটকে যেত এবং এত মানুষের মৃত্যু হতো না।

  • বিপজ্জনক সংযোগ সড়ক: ঘাট এলাকা ও পন্টুন পর্যন্ত সংযোগ সড়কগুলো অত্যন্ত ঢালু এবং খানাখন্দে ভরা। ভারী যানবাহন নিয়ে এই ঢালু পথে নামার সময় অনেক সময় ব্রেক নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন হয়ে পড়ে, যা দুর্ঘটনার ঝুঁকি বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়।

  • ঘাট পরিচালনায় বিশৃঙ্খলা: নিয়ম অনুযায়ী ফেরি থেকে গাড়ি নামার পর নতুন গাড়ি ওঠার কথা থাকলেও, অনেক সময় আগে ওঠার প্রতিযোগিতায় লিপ্ত হয় যানবাহনগুলো। দুর্ঘটনার দিনও ‘হাসনাহেনা’ ফেরিটি প্রস্তুত হওয়ার আগেই বাসটি পন্টুনে চলে আসে এবং একটি ফেরির ধাক্কায় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সরাসরি নদীতে তলিয়ে যায়।

কর্তৃপক্ষের বক্তব্য ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা

বিআইডব্লিউটিসি-এর চেয়ারম্যান মো. সলিম উল্লাহ ঘাট পরিদর্শন শেষে জানান, পন্টুনগুলোতে দ্রুত রেলিংয়ের ব্যবস্থা করা হবে এবং দায়িত্বরত কর্মীদের আধুনিক প্রশিক্ষণের আওতায় আনা হবে। তবে স্থানীয় কর্মকর্তাদের কেউ কেউ একে ‘চালকের ভুল’ বা ‘ব্রেক ফেইল’ হিসেবে অভিহিত করছেন। অন্যদিকে, নিখোঁজদের স্বজনদের আহাজারিতে ভারি হয়ে আছে দৌলতদিয়া ঘাট। ফায়ার সার্ভিস জানিয়েছে, নতুন করে কেউ নিখোঁজের তথ্য দিলে তাৎক্ষণিক উদ্ধার অভিযান আবারও শুরু করা হবে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category