রাজধানীর পল্লবী থানা যুবদলের সদস্যসচিব গোলাম কিবরিয়া হত্যাকাণ্ডের রহস্য জট খুলতে শুরু করেছে। এই নৃশংস খুনের ঘটনায় সরাসরি জড়িত আরও দুই ‘শুটার’কে গ্রেফতার করেছে র্যাব। শুক্রবার (২৭ মার্চ) সকালে মিরপুর-১ এর পাইকপাড়ায় আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে চাঞ্চল্যকর এই তথ্য নিশ্চিত করেন র্যাব-৪ এর কোম্পানি কমান্ডার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. শাহাবুদ্দিন কবির। গ্রেফতারকৃত দুই শুটার হলেন রোকন ও কাল্লু ওরফে জাহাঙ্গীর। এর আগে এই ঘটনার মূল পরিকল্পনাকারীসহ আরও কয়েকজনকে আইনের আওতায় আনা হয়েছিল।
র্যাবের তদন্তে উঠে এসেছে, কিবরিয়া হত্যাকাণ্ডটি ছিল অত্যন্ত সুপরিকল্পিত। রাজনৈতিক আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করেই এই খুনের ছক কষা হয়। হত্যাকাণ্ডের ব্লু-প্রিন্ট অনুযায়ী, ৩ জন শুটার দোকানে ঢুকে কিবরিয়াকে লক্ষ্য করে কয়েক রাউন্ড গুলি চালিয়ে পালিয়ে যায়। পুরো মিশনে কার কী ভূমিকা ছিল, তার বিস্তারিত জানিয়েছে র্যাব। পরিকল্পনার নেপথ্যে ছিল পাটা সোহেল ও গোখরা সুজন। সুজন সরাসরি কিবরিয়ার গতিবিধি পর্যবেক্ষণ করার দায়িত্বে ছিল, আর পুরো বিষয়টি তদারকি করেছিল পাটা সোহেল। অন্যদিকে, হামলা শেষে শুটারদের নিরাপদে সরিয়ে নেওয়ার বা ‘রেসকিউ’ করার দায়িত্ব পালন করেছিল ভাগিনা মাসুম।
তদন্তে আরও একটি ভয়ঙ্কর তথ্য বেরিয়ে এসেছে—এই পুরো হত্যাকাণ্ডের পেছনে পলাতক শীর্ষ সন্ত্রাসী মশিউর রহমান মশির যোগসাজশ রয়েছে। গত বছরের ১৭ নভেম্বর মিরপুর-১২ নম্বরের একটি হার্ডওয়্যারের দোকানে ঢুকে হেলমেট ও মুখোশ পরা সন্ত্রাসীরা কিবরিয়াকে গুলি করে হত্যা করে। পালিয়ে যাওয়ার সময় তারা এক অটোরিকশা চালককেও গুলি করে আহত করে। ঘটনার পরপরই স্থানীয়রা জনি নামের এক শুটারকে ধরে পুলিশে দিলেও বাকিরা আত্মগোপনে চলে যায়।
নিহত কিবরিয়ার স্ত্রী সাবিহা আক্তারের দায়ের করা মামলায় ৫ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত আরও সাত-আটজনকে আসামি করা হয়েছিল। বর্তমানে মামলাটি ডিএমপির গোয়েন্দা শাখার কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। গ্রেফতারকৃত আসামিদের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের পর আদালতে সোপর্দ করার প্রক্রিয়া চলছে। র্যাব জানিয়েছে, তদন্তের স্বার্থে কিছু তথ্য এখনো গোপন রাখা হয়েছে যাতে পলাতক অন্যান্য অপরাধীদের দ্রুত ধরা সম্ভব হয়।