চলমান বৈশ্বিক অস্থিরতা ও পাম্পগুলোতে দীর্ঘ লাইনের উদ্বেগের মাঝে স্বস্তির খবর দিয়েছে সরকারের জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ। সংস্থাটির পক্ষ থেকে স্পষ্টভাবে জানানো হয়েছে যে, চলতি এপ্রিল মাসে দেশে জ্বালানি তেলের কোনো সংকট তৈরি হবে না।
বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) সচিবালয়ে দেশের বর্তমান জ্বালানি পরিস্থিতি নিয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এই আশ্বাস দেন জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের যুগ্ম সচিব মনির হোসেন চৌধুরী।
সংবাদ সম্মেলনে যুগ্ম সচিব মনির হোসেন চৌধুরী দৃঢ়তার সাথে বলেন, “এপ্রিল মাসে দেশে জ্বালানি তেলের কোনো সংকট হবে না। জ্বালানি নিরাপত্তার দিক থেকে বাংলাদেশ এখন নিরাপদ অবস্থানে আছে।”
মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতির আপডেট জানিয়ে তিনি নিশ্চিত করেন যে, ইরান সম্প্রতি হরমুজ প্রণালি দিয়ে যে ৬টি জাহাজকে পার হওয়ার অনুমতি দিয়েছে, তার মধ্যে একটি অপরিশোধিত তেলের (ক্রুড অয়েল) জাহাজ রয়েছে। তিনি আশ্বস্ত করে বলেন, “জাহাজটি দেশে এসে পৌঁছালে চট্টগ্রামের ইস্টার্ন রিফাইনারিতে তেলের আর কোনো ঘাটতি বা সংকট থাকবে না।”
সরকারের তরফ থেকে জানানো হয়, সরবরাহ সংকটের চেয়ে মানুষের আতঙ্ক ও কৃত্রিম মজুতদারি পরিস্থিতিকে বেশি জটিল করছে। এ প্রসঙ্গে যুগ্ম সচিব দেশবাসীর প্রতি বিশেষ আহ্বান জানিয়ে বলেন:
আতঙ্কিত হয়ে অতিরিক্ত তেল মজুতের প্রবণতা পরিহার করতে হবে। জনগণ মজুতদারি বন্ধ করলে দেশে তেলের কোনো সংকটই দৃশ্যমান হবে না।
বর্তমান বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে প্রত্যেক নাগরিকের উচিত নিজ উদ্যোগে জ্বালানি সাশ্রয় করে দেশ ও জাতিকে রক্ষা করা।
এটি জনগণের সরকার। তাই সাধারণ মানুষের দুর্ভোগের কথা বিবেচনা করেই বিশ্ববাজারে অস্থিরতা সত্ত্বেও সরকার দেশে জ্বালানি তেলের দাম বাড়ায়নি।
কৃত্রিম সংকট তৈরি করে যারা অবৈধভাবে তেল মজুত করছে, তাদের বিরুদ্ধে প্রশাসনের কঠোর অবস্থানের কথাও তুলে ধরা হয় সংবাদ সম্মেলনে। পরিচালিত এসব অভিযানের পরিসংখ্যান হলো:
৩ মার্চ থেকে ২ এপ্রিল পর্যন্ত: দেশব্যাপী অভিযান চালিয়ে মোট ৩ লাখ ৭২ হাজার ৩৮৮ লিটার অবৈধ জ্বালানি তেল উদ্ধার করা হয়েছে।
কেবল ১ এপ্রিলে উদ্ধার: একদিনের অভিযানেই উদ্ধার করা হয়েছে ২৫ হাজার ৫৩৭ লিটার তেল।
সরকারের পক্ষ থেকে দেশবাসীকে আতঙ্কিত না হয়ে স্বাভাবিক নিয়মে জ্বালানি ব্যবহারের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে এবং অসাধু ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে এই অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে জানানো হয়েছে।