• বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬, ০৫:৫৪ পূর্বাহ্ন
Headline

নারী সংসদ সদস্যদের নিয়ে আমির হামজার ‘কুরুচিপূর্ণ’ মন্তব্য: দেশজুড়ে তীব্র নিন্দা ও ক্ষোভের ঝড়

Reporter Name / ৫৩ Time View
Update : শুক্রবার, ৩ এপ্রিল, ২০২৬

কুষ্টিয়া-৩ আসনের সংসদ সদস্য ও আলোচিত ইসলামি বক্তা আমির হামজার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর রাজনৈতিক অঙ্গন ও সাধারণ মানুষের মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে। সংসদে নিজের নারী সহকর্মীদের শারীরিক গঠন নিয়ে করা তার এই ‘বডি শেমিং’ এবং অবমাননাকর মন্তব্যকে ঘিরে সমালোচনার ঝড় বইছে। সহকর্মী সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানা এবং প্রতিমন্ত্রী ফারজানা শারমিনের নাম উল্লেখ করে আমির হামজা যে কুরুচিপূর্ণ শব্দ ব্যবহার করেছেন, তাকে ‘নীচ মানসিকতা’ ও ‘নারীবিদ্বেষী’ বলে আখ্যা দিয়েছেন বিভিন্ন সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।

ভাইরাল হওয়া ওই ভিডিওতে আমির হামজাকে জনৈক এক মাহফিলে বলতে শোনা যায়, সংসদে তার বসার জায়গার ডানে-বামে থাকা নারী সদস্যদের শারীরিক গঠন ও ‘ভুঁড়ি’ নিয়ে তিনি চরম কটূক্তি করেছেন। তিনি এমনকি উপহাসের ছলে মন্তব্য করেন যে, ওই নারী সদস্যদের দেখলে অন্য মহিলারাও লজ্জা পাবে। একজন জনপ্রতিনিধি হয়ে সংসদের ভেতরকার পরিবেশ এবং নিজের নারী সহকর্মীদের নিয়ে এমন প্রকাশ্য কুরুচিপূর্ণ বক্তব্য দেওয়ার বিষয়টি সাধারণ মানুষের কাছে অত্যন্ত আপত্তিকর ও অশালীন হিসেবে প্রতীয়মান হয়েছে।

এই ঘটনার প্রতিবাদে সারা দেশে বিভিন্ন কর্মসূচি পালিত হচ্ছে। ফরিদপুর সরকারি রাজেন্দ্র কলেজ শাখা জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল বুধবার রাতে একটি বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছে, যেখানে তারা আমির হামজার এই ‘অশালীন’ মন্তব্য অবিলম্বে প্রত্যাহারের দাবি জানায়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন জাতীয় নারীশক্তির আহ্বায়ক মনিরা শারমিন এবং মুখ্য সংগঠক নুসরাত তাবাসসুম। তারা আমির হামজাকে একজন ‘মিসোজিনিস্ট’ বা নারীবিদ্বেষী হিসেবে উল্লেখ করে জামায়াতে ইসলামীকে তার বিরুদ্ধে কঠোর সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।

নিজ দলীয় সংসদ সদস্যের এমন কাণ্ডজ্ঞানহীন বক্তব্যে খোদ জামায়াতে ইসলামীও বিব্রতকর পরিস্থিতির মধ্যে পড়েছে। কুষ্টিয়া জেলা জামায়াতের সাধারণ সম্পাদক সুজা উদ্দিন জোয়ার্দার জানিয়েছেন, আমির হামজাকে এর আগে বারবার কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় পর্যায় থেকে সতর্ক করা হলেও তিনি কর্ণপাত করেননি। দলের পক্ষ থেকে এমন আচরণের জন্য বিব্রতবোধ করা হচ্ছে বলেও তিনি গণমাধ্যমে স্বীকার করেছেন। দলগতভাবে তাকে নিয়ন্ত্রণ করার চেষ্টা ব্যর্থ হওয়ায় বিষয়টি এখন রাজনৈতিক বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে।

সর্বশেষ এই ইস্যুটি জাতীয় সংসদের ফ্লোর পর্যন্ত গড়িয়েছে। ভুক্তভোগী সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানা সংসদে স্পিকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করে এই বক্তব্যের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছেন এবং বিচার দাবি করেছেন। তিনি আমির হামজার বক্তব্যকে ‘কদাকার ও কুৎসিত’ আখ্যা দিয়ে বলেন, একজন সংসদ সদস্য হয়ে অন্য নারী সহকর্মীদের নিয়ে মাহফিলের মঞ্চে এমন নোংরা কথা বলা কোনোভাবেই কাম্য নয়। স্পিকার এই বিষয়ে যথাযথ পদক্ষেপ নেবেন বলে সংসদীয় মহলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে। এই ঘটনাটি বাংলাদেশের সংসদীয় ইতিহাসে নারী সদস্যদের মর্যাদা ও নিরাপত্তার প্রশ্নে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category