• শুক্রবার, ২৪ জুলাই ২০২৬, ০২:৫৩ পূর্বাহ্ন
Headline
রাষ্ট্রপতি পদত্যাগ করতে চাইলে সংবিধানে সুযোগ আছে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী দেশকে ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতিতে রূপান্তরের কাজ করছে সরকার: প্রধানমন্ত্রী মেডিকেল শিক্ষার্থীদের দেশসেবায় আত্মনিয়োগের আহ্বান ডা. জুবাইদা রহমানের সাংবাদিকতা পেশা নির্ধারণে যথাযথ কর্তৃপক্ষ থাকা জরুরি : তথ্যমন্ত্রী সোনার খাঁচার দিনগুলো বন্দি করার উপায় এবং একটি ঝাপসা ছবির গল্প ব্যক্তিনির্ভর রাজনীতি জনভোগান্তির মূল কারণ: নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী প্রত্যাশিত গতিতে এগোচ্ছে না জুলাইয়ের বিচার : হামিদুর রহমান আযাদ আন্দোলনকে সমর্থন দিয়ে যা বললেন সালমান খান দিল্লি পুলিশকে ‘গুন্ডা’ বললেন নাসিরুদ্দিন শাহ শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভে অংশ নিয়ে আটক অভিনেত্রী আয়েশা খান

ফুটবল খেলা নিয়ে বিরোধে ৮ গ্রামের রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ, আহত শতাধিক

ভাঙ্গা (ফরিদপুর) প্রতিনিধি / ৯৩ Time View
Update : শনিবার, ৪ এপ্রিল, ২০২৬

ফরিদপুরের ভাঙ্গায় তুচ্ছ এক ফুটবল খেলাকে কেন্দ্র করে টানা দুইদিন ধরে চলা ভয়াবহ সংঘর্ষে রণক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে মুনসুরাবাদ এলাকা। একটি গ্রামের বিপক্ষে পার্শ্ববর্তী ৮টি গ্রামের কয়েক হাজার মানুষ দেশীয় অস্ত্র নিয়ে এই রক্তক্ষয়ী লড়াইয়ে লিপ্ত হয়। দুই দিনের এই সহিংসতায় পুলিশ ও সাংবাদিকসহ অন্তত শতাধিক ব্যক্তি আহত হয়েছেন।

বিবাদের সূত্রপাত: এক কিশোরের মাইকিং

ঘটনার সূত্রপাত দুই দিন আগে। মুনসুরাবাদ গ্রামের রাহাত নামে এক কিশোর ফুটবল খেলার প্রচারণার জন্য এলাকায় মাইকিং করছিল। এসময় পার্শ্ববর্তী গ্রামের কয়েকজন যুবক তাকে মারধর ও লাঞ্ছিত করে। এই তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে শুক্রবার সন্ধ্যার পর মুনসুরাবাদ বাজারে প্রথম দফায় আড়াই ঘণ্টাব্যাপী সংঘর্ষ চলে। টর্চ লাইট জ্বালিয়ে চলে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া।

শনিবারের ভয়াবহতা: ৮ গ্রামের সম্মিলিত আক্রমণ

শুক্রবার রাতের সেই রেষ ধরে আজ শনিবার সকাল ৭টা থেকে পরিস্থিতি চরম আকার ধারণ করে। মুনসুরাবাদ গ্রামের বিপক্ষে জোট বাঁধে পার্শ্ববর্তী ৮টি গ্রাম— খাপুরা, সিংগারডাক, মাঝিকান্দা, ভীমেরকান্দি, ছোট হামেরদী, হামেরদী ও গুপিনাথপুর।

দেশীয় অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত হয়ে কয়েক হাজার গ্রামবাসী ঢাকা-খুলনা মহাসড়কের মুনসুরাবাদ বাসস্ট্যান্ড এলাকায় সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। প্রায় ৫ ঘণ্টাব্যাপী চলা এই তাণ্ডবে চলে ব্যাপক ইটপাটকেল নিক্ষেপ, দোকানপাট ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা। মহাসড়কের দুই পাশে জানমালের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয় এবং যান চলাচল স্থবির হয়ে পড়ে।

প্রশাসনের হস্তক্ষেপ ও বর্তমান পরিস্থিতি

প্রাথমিকভাবে থানা পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করলেও সংঘর্ষের তীব্রতা বেশি হওয়ায় তারা ব্যর্থ হয়। পরে দুপুর ১২টার দিকে জেলা সদর থেকে সেনাবাহিনী, ডিবি পুলিশ এবং অতিরিক্ত ১ প্লাটুন পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

ভাঙ্গা থানার তদন্ত ওসি আলামিন মিয়া জানান, “শুক্রবার রাতের ঘটনার জেরে আজ সকালে আরও নতুন নতুন গ্রামের মানুষ সংঘর্ষে যোগ দেওয়ায় পরিস্থিতি জটিল হয়ে পড়েছিল। বর্তমানে সেনাবাহিনী ও পুলিশের একাধিক টিম ঘটনাস্থলে অবস্থান করছে। পরিস্থিতি এখন পুলিশের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।”

এলাকায় চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। পুনরায় সংঘর্ষ এড়াতে বিপুল সংখ্যক আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য মোতায়েন রাখা হয়েছে। আহতদের স্থানীয় হাসপাতাল ও ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তবে এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কাউকে আটক করার খবর পাওয়া যায়নি।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category