• মঙ্গলবার, ২১ এপ্রিল ২০২৬, ০৩:০৬ অপরাহ্ন
Headline
স্বস্তিতে শুরু মাধ্যমিকের লড়াই: প্রশ্নফাঁসের শঙ্কা উড়িয়ে দিলেন শিক্ষামন্ত্রী বাসের ভাড়ায় আসছে সমন্বয়, সাংস্কৃতিক কূটনীতিতে ‘আঞ্চলিক’ নববর্ষের রূপরেখা ত্যাগের মূল্যায়নে স্বজন-ছায়া: নারী আসনে বিএনপির ৩৬ মুখ জোটের শরিকদের ছাড়, নারী আসনে জামায়াত-এনসিপির চূড়ান্ত তালিকা প্রস্তুত গম পাচার কেলেঙ্কারি: ভোটের মুখেই ইডির তলবে বিপাকে নুসরাত ব্যাট ছেড়ে মালিকানায় ‘ইউনিভার্স বস’: স্কটিশ ফ্র্যাঞ্চাইজি কিনলেন গেইল জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি—সরকারের সাশ্রয়ের বিপরীতে কতটা পুড়ছে সাধারণ মানুষ? চার দেওয়াল পেরিয়ে দেশ গড়ার অঙ্গীকার: নারী আসনের ভোটে সরগরম নির্বাচন ভবন হামের থাবায় কাঁপছে কুষ্টিয়া: একদিনে হাসপাতালে ২৮ অপহরণ, সালিশ ও ফের পলায়ন: কুমিল্লার মেঘনায় স্কুলছাত্রীকে নিয়ে ধূম্রজাল

দেনার দায়ে জর্জরিত পাকিস্তানে সৌদির ৩ বিলিয়ন ডলারের ‘সঞ্জীবনী’

Reporter Name / ১ Time View
Update : মঙ্গলবার, ২১ এপ্রিল, ২০২৬

সৌদি আরবের সময়োপযোগী বিশাল আর্থিক সহায়তায় আপাতত খাদের কিনারা থেকে রক্ষা পেল পাকিস্তানের ভঙ্গুর অর্থনীতি। দেশটির কেন্দ্রীয় ব্যাংক ‘স্টেট ব্যাংক অব পাকিস্তান’ (এসবিপি) নিশ্চিত করেছে যে, রিয়াদের প্রতিশ্রুত ৩ বিলিয়ন (৩০০ কোটি) ডলার আমানতের শেষ কিস্তি হিসেবে ১ বিলিয়ন ডলার তাদের অ্যাকাউন্টে জমা হয়েছে। চলতি মাসের মাঝামাঝি সময়ে এই আর্থিক সহায়তার চুক্তির পরপরই গত ১৫ এপ্রিল প্রথম কিস্তিতে ২ বিলিয়ন ডলার পাঠায় সৌদি আরব। এরপর ২০ এপ্রিল বাকি ১ বিলিয়ন ডলার হস্তান্তরের মাধ্যমে পাকিস্তানের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভে বড় ধরনের স্বস্তি ফিরে এসেছে।

আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলোর প্রতিবেদন অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটনে অনুষ্ঠিত বিশ্বব্যাংক ও আইএমএফের স্প্রিং মিটিংয়ে অংশ নিয়ে পাকিস্তানের অর্থমন্ত্রী মুহাম্মদ আওরঙ্গজেব এই সহায়তার বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, শুধু নতুন এই ৩ বিলিয়ন ডলার দেওয়াই নয়, এর আগে সৌদি আরবের দেওয়া ৫ বিলিয়ন ডলারের একটি ঋণের মেয়াদও আরও তিন বছরের জন্য বাড়িয়েছে রিয়াদ। এটিকে পাকিস্তানের জন্য একটি বড় কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক বিজয় হিসেবে দেখা হচ্ছে। বর্তমানে আইএমএফের ৭ বিলিয়ন ডলারের ঋণ কর্মসূচির শর্ত পূরণে পাকিস্তানের নির্দিষ্ট পরিমাণ রিজার্ভ ধরে রাখার বাধ্যবাধকতা রয়েছে। সৌদির এই অর্থায়ন আন্তর্জাতিক বাজারে পাকিস্তানের ক্রেডিট রেটিং ধরে রাখতে এবং অত্যাবশ্যকীয় আমদানির ব্যয় মেটাতে বড় ভূমিকা রাখবে।

তবে সৌদির এই অর্থে সাময়িক স্বস্তি মিললেও পাকিস্তানের সামনে এখনও পাহাড়সম ঋণের চাপ রয়ে গেছে। বিশেষ করে সংযুক্ত আরব আমিরাতকে (ইউএই) এই মাসেই ৩.৫ বিলিয়ন ডলার ফেরত দিতে হচ্ছে ইসলামাবাদকে। বিগত সাত বছরের মধ্যে এবারই প্রথম দুবাই এই ঋণের মেয়াদ বাড়াতে (রোল ওভার) অস্বীকৃতি জানায়। এক্সপ্রেস ট্রিবিউন ও ডন-এর মতো স্থানীয় সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, পাকিস্তান এরই মধ্যে আমিরাতকে ২ বিলিয়ন ডলার এবং ১৯৯৬ সালের পুরনো একটি ঋণের ৪৫০ মিলিয়ন ডলার ফেরত দিয়েছে। মূলত সৌদির নতুন এই ঋণ আমিরাতের ঋণ পরিশোধের ধাক্কা সামলাতেই ব্যবহৃত হচ্ছে। এর বাইরে চলতি মাসেই ১.৪ বিলিয়ন ডলারের একটি ইউরোবন্ডের পাওনাও মিটিয়েছে পাকিস্তান।

অর্থনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার মাঝে সৌদি আরবের সাথে পাকিস্তানের সাম্প্রতিক সামরিক ও কৌশলগত সম্পর্ক আরও গভীর হয়েছে, যার ফলশ্রুতিতেই রিয়াদ এই সংকটময় মুহূর্তে ইসলামাবাদের পাশে এসে দাঁড়িয়েছে। তবে শুধু ধার করে দেনা শোধ করার এই নীতি থেকে বেরিয়ে এসে দীর্ঘমেয়াদে অর্থনীতিকে স্থিতিশীল রাখতে পাকিস্তানের অর্থমন্ত্রীকে এখন রপ্তানি বৃদ্ধি ও কাঠামোগত সংস্কারের মতো কঠিন চ্যালেঞ্জগুলো মোকাবিলা করতে হবে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category