যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান চরম উত্তেজনার পারদ নামিয়ে আনতে এবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে জনসমক্ষে ভাষা ব্যবহারে সংযত হওয়ার পরামর্শ দিয়েছে পাকিস্তান। মার্কিন সংবাদমাধ্যম ওয়াশিংটন পোস্টের বরাত দিয়ে জানা গেছে, ইসলামাবাদ এরই মধ্যে ট্রাম্প প্রশাসনের কাছে একটি স্পষ্ট বার্তা পাঠিয়েছে, যেখানে শান্তি আলোচনার স্বার্থে তাঁকে উসকানিমূলক বা কড়া মন্তব্য থেকে বিরত থাকতে বলা হয়েছে। মূলত ২২ এপ্রিল শেষ হতে যাওয়া ১৪ দিনের যুদ্ধবিরতির আগেই ইসলামাবাদে দুই দেশের মধ্যে সম্ভাব্য দ্বিতীয় দফার ম্যারাথন আলোচনা সফল করতে মধ্যস্থতাকারীর যে কঠিন দায়িত্ব পাকিস্তান পালন করছে, তারই অংশ হিসেবে এই কূটনৈতিক ও সতর্কতামূলক পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম ও বিশ্লেষকদের মতে, পাকিস্তানের এই সতর্কতার পেছনে যথেষ্ট যৌক্তিক কারণ রয়েছে। সম্প্রতি প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও বিভিন্ন সাক্ষাৎকারে প্রকাশ্যে হুমকি দিয়েছেন যে, ইরান যদি যুক্তরাষ্ট্রের দেওয়া চুক্তিতে স্বাক্ষর না করে, তবে দেশটির প্রতিটি বিদ্যুৎকেন্দ্র ও সেতু বোমা মেরে উড়িয়ে দেওয়া হবে। তাঁর এই আগ্রাসী বক্তব্যের তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে তেহরান। ইরানের পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের ঘালিবাফ এরই মধ্যে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন যে, সামরিক হুমকির ছায়ায় বসে তারা কোনো আপস বা আলোচনায় যাবেন না। তাই পরিস্থিতি যেন আরও নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে না যায় এবং তেহরান যেন আলোচনার টেবিল থেকে একেবারে মুখ ফিরিয়ে না নেয়, সেটি নিশ্চিত করতেই পাকিস্তানের শীর্ষ নেতৃত্ব ওয়াশিংটনকে এই বিশেষ পরামর্শ দিয়েছে।
তবে এতসব বাগ্যুদ্ধ ও উত্তেজনার মাঝেও আশার আলো দেখছে ইসলামাবাদ। বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে পাকিস্তানের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা জানিয়েছেন, তেহরানের দিক থেকে তারা বেশ কিছু ‘ইতিবাচক সাড়া’ পাচ্ছেন এবং পরিস্থিতি ধীরে ধীরে একটি ফলপ্রসূ পরিণতির দিকে এগোচ্ছে। তাঁর দাবি অনুযায়ী, সব ঠিক থাকলে আগামী এক থেকে দুই দিনের মধ্যেই ইরানি একটি প্রতিনিধি দল শান্তি আলোচনায় যোগ দিতে পারে। এই লক্ষ্য পূরণে পাকিস্তানের উপ-প্রধানমন্ত্রী মোহাম্মদ ইসহাক দার ইতোমধ্যে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচির সঙ্গে টেলিফোনে বিস্তারিত কথা বলেছেন। চলমান যুদ্ধবিরতির মেয়াদ শেষ হওয়ার ঠিক আগমুহূর্তে মধ্যপ্রাচ্যকে একটি সর্বাত্মক ধ্বংসাত্মক যুদ্ধের হাত থেকে বাঁচাতে তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে নিরবচ্ছিন্ন যোগাযোগের এই সেতুবন্ধন তৈরিতে পাকিস্তান এখন রীতিমতো সময়ের সাথে পাল্লা দিয়ে কাজ করছে।