যুক্তরাষ্ট্রে নিখোঁজ থাকা দুই বাংলাদেশি শিক্ষার্থীর মৃত্যুর তথ্য মার্কিন পুলিশ নিশ্চিত করেছে। এর আগে নিখোঁজ ছাত্র জামিল লিমনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এবার পুলিশ নাহিদা সুলতানা বৃষ্টি জীবিত নেই বলে তার পরিবারকে তথ্য দিয়েছে।
নাহিদা বৃষ্টির মরদেহ এখনো পাওয়া যায়নি। তবে লিমনের রুমমেট ও এই ঘটনার সন্দেহভাজন ব্যক্তির অ্যাপার্টমেন্টে বিপুল পরিমাণে রক্ত পাওয়া গেছে। মার্কিন পুলিশ রক্তের এই পরিমাণ দেখে পরিবারকে জানিয়েছে যে বৃষ্টি জীবিত নেই। বৃষ্টির ভাই ঢাকার জাহিদ হাসান প্রান্ত এই তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তাদের পরিবারকে শনিবার ভোরে ফোন করে এই বিষয়ে তথ্য জানানো হয়েছে।
গত শুক্রবার ফ্লোরিডার হাওয়ার্ড ফ্রাঙ্কলিন ব্রিজের কাছ থেকে জামিল লিমনের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এখনও ময়নাতদন্তের রিপোর্ট না আসায় মৃত্যুর কারণ চূড়ান্তভাবে জানা যায়নি। নিহত দুই শিক্ষার্থীই পিএইচডি করতে যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করছিলেন। গত ১৬ এপ্রিলের পর থেকে তাদের সাথে আর কোনো যোগাযোগ করা যাচ্ছিল না। এরপর থেকেই পুলিশ ঘটনার তদন্ত শুরু করে।

এই ঘটনায় জামিল লিমনের রুমমেট, ২৬ বছর বয়সী হিশাম সালেহ আবুঘারবেইহকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে পারিবারিক সহিংসতা, অবৈধভাবে মৃতদেহ সরানো, প্রমাণ নষ্ট করাসহ নানা অভিযোগ আনা হয়েছে। হিশাম সালেহকে গ্রেফতারের পর তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতেই লিমনের মৃতদেহ পাওয়া যায়। পুলিশ জানায়, হিশাম নিজেকে ঘরের ভেতর আটকে রেখে আত্মসমর্পণে অস্বীকৃতি জানায়। পরবর্তীতে সোয়াট দল গিয়ে ড্রোন ও নেগোশিয়েটরের সহায়তায় তাকে গ্রেফতার করে।

নিহত জামিল লিমন ভূগোল ও পরিবেশবিজ্ঞান বিষয়ে পড়ছিলেন। অন্যদিকে নিখোঁজ বৃষ্টি কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের শিক্ষার্থী। হিলসবোরো কাউন্টি শেরিফ অফিস জানায়, সন্দেহভাজন হিশাম সালেহ আগে ইউনিভার্সিটি অফ সাউথ ফ্লোরিডার শিক্ষার্থী ছিলেন এবং তার বিরুদ্ধে আগে একাধিকবার গ্রেফতারের রেকর্ড রয়েছে। ২০২৩ সালে তার বিরুদ্ধে হামলা এবং পারিবারিক সহিংসতার অভিযোগও আনা হয়েছিল।
পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, নাহিদা বৃষ্টিকে খুঁজতে তল্লাশি অব্যাহত রয়েছে। ডুবুরি দল সেতুর আশপাশের পানিতে অনুসন্ধান চালাচ্ছে। এই ঘটনার তদন্ত এখনও চলছে।