• সোমবার, ২৭ এপ্রিল ২০২৬, ০৩:৫৪ অপরাহ্ন
Headline
ব্যয় মেটাতে ২০২৬ বিশ্বকাপের প্রাইজমানি আরও বাড়াচ্ছে ফিফা এসি ঘরে বসে কাজ করলেও হতে পারে ডিহাইড্রেশন! কীভাবে সতর্ক থাকবেন? মুকুটে নতুন পালক: ‘গ্লোবাল ভ্যানগার্ড অনার’ পাচ্ছেন গ্লোবাল আইকন প্রিয়াঙ্কা চোপড়া যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি দুই শিক্ষার্থী হত্যা: লাশ গুমের উপায় চ্যাটজিপিটিতে খুঁজেন ঘাতক, বৃষ্টির সন্ধানে নেমে মানবদেহের খণ্ডিতাংশ উদ্ধার এনসিপি নেত্রী মনিরা শারমিনের মনোনয়ন বাতিলের সিদ্ধান্ত বহাল রাখল ইসি, যাবেন হাইকোর্টে বাবার স্মৃতিবিজড়িত যশোরের সেই উলাসী খাল পুনঃখননের উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান রান্নার কষ্ট লাঘবে নারীদের এলপিজি কার্ড দেওয়ার ঘোষণা প্রধানমন্ত্রীর হামের টিকা দ্রুত নিশ্চিত করার নির্দেশ হাইকোর্টের আগামী সপ্তাহ থেকেই লোডশেডিং কমার আশ্বাস বিদ্যুৎমন্ত্রীর ফিলিস্তিনের পৌর নির্বাচনে আব্বাসপন্থিদের বড় জয়: দুই দশক পর গাজায় ভোট

উচ্চশিক্ষাই যেন গলার কাঁটা: বেকার যুবকদের ৩২ শতাংশই উচ্চশিক্ষিত, সামগ্রিক বেকারত্ব বেড়ে ৪.৬৩%

Reporter Name / ৩ Time View
Update : সোমবার, ২৭ এপ্রিল, ২০২৬

দেশে শিক্ষিত বেকারের সংখ্যা ক্রমেই এক উদ্বেগজনক রূপ নিচ্ছে। পরিসংখ্যান বলছে, বর্তমানে বেকার যুবকদের প্রায় ৩২ শতাংশই উচ্চশিক্ষিত এবং স্নাতক পর্যায়ে এই বেকারত্বের হার সাড়ে ১৩ শতাংশের বেশি। অর্থাৎ, শিক্ষার স্তর যত বাড়ছে, বেকার থাকার ঝুঁকিও তত বাড়ছে। এর পাশাপাশি গণ-অভ্যুত্থান পরবর্তী পরিস্থিতি, রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং শিল্পাঞ্চলে শ্রমিক অসন্তোষের কারণে দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে যে স্থবিরতা তৈরি হয়েছে, তার সরাসরি নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে শ্রমবাজারে।

ক্রমবর্ধমান বেকারত্ব ও কমছে শ্রমশক্তিতে অংশগ্রহণ

বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) সর্বশেষ ত্রৈমাসিক শ্রমশক্তি জরিপ অনুযায়ী, ২০২৪-২৫ অর্থবছরের দ্বিতীয় প্রান্তিকে (অক্টোবর-ডিসেম্বর) দেশে সামগ্রিক বেকারত্বের হার বেড়ে ৪.৬৩ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। আগের বছরের ঠিক একই সময়ে এই হার ছিল ৩.৯৫ শতাংশ। আর চলতি অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিকে (জুলাই-সেপ্টেম্বর) বেকারত্বের হার ছিল ৪.৪৬ শতাংশ।

পরিসংখ্যান বলছে, ২০২৩ সালে দেশে মোট বেকারের সংখ্যা ছিল ২৫ লাখ ৫০ হাজার, যা ২০২৪ সালে এসে প্রায় ২৭ লাখে উন্নীত হয়েছে। শুধু বেকারত্ব বৃদ্ধিই নয়, সবচেয়ে বড় উদ্বেগের জায়গা হলো শ্রমশক্তিতে মানুষের অংশগ্রহণের হার কমে যাওয়া। ২০২৪ সালের শেষ প্রান্তিকে এই হার ৫০.২৭ শতাংশ থেকে কমে ৪৮.৪১ শতাংশে নেমে এসেছে, যার পেছনে প্রধান কারণ হিসেবে নারী শ্রমশক্তির অংশগ্রহণ হ্রাসকে দায়ী করা হচ্ছে। ওই সময়ে মোট ৫ কোটি ৮৯ লাখ ৩০ হাজার শ্রমশক্তির মধ্যে কর্মসংস্থানে যুক্ত ছিলেন ৫ কোটি ৬২ লাখ মানুষ। অর্থাৎ, বিপুল জনসংখ্যার সঙ্গে তাল মিলিয়ে নতুন কর্মসংস্থান তৈরি হচ্ছে না।

উচ্চশিক্ষিতদের চরম হতাশা

জনসংখ্যার দিক থেকে বিশ্বে সপ্তম স্থানে থাকা বাংলাদেশের মোট জনসংখ্যা প্রায় ১৭ কোটি ৫৭ লাখ। এই বিশাল জনসংখ্যার দেশে যুব বেকারত্বের চিত্র ভয়াবহ। বিবিএসের তথ্যমতে, দেশে প্রায় ১৯ লাখ ৪০ হাজার যুবক বেকার, যা মোট যুব শ্রমশক্তির ৭.২ শতাংশ। এর মধ্যে সবচেয়ে হতাশাজনক তথ্য হলো—এই বেকার যুবকদের ৩১.৫ শতাংশ বা প্রায় ৩২ শতাংশই উচ্চশিক্ষিত। ২০২৪ সালে স্নাতক পাস করা তরুণ-তরুণীদের মধ্যে বেকারত্বের হার ছিল প্রায় ১৩.৫ শতাংশ। উচ্চশিক্ষা অর্জন করেও কাঙ্ক্ষিত কর্মসংস্থান না মেলায় তরুণ প্রজন্মের মধ্যে হতাশা বাড়ছে।

জনমিতিক মুনাফা: সম্ভাবনা নাকি শঙ্কা?

জাতিসংঘ জনসংখ্যা তহবিলের (ইউএনএফপিএ) ‘স্টেট অব ওয়ার্ল্ড পপুলেশন ২০২৫’ প্রতিবেদন অনুযায়ী, বাংলাদেশে বর্তমানে প্রায় ১১ কোটি ৫০ লাখ কর্মক্ষম মানুষ (১৫-৬৪ বছর বয়সী) রয়েছে, যা মোট জনসংখ্যার প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ। অর্থনীতির ভাষায় যাকে ‘জনমিতিক মুনাফা’ (Demographic Dividend) বলা হয়।

চীন, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া বা ভিয়েতনামের মতো দেশগুলো এই জনমিতিক মুনাফাকে কাজে লাগিয়েই উন্নত রাষ্ট্রে পরিণত হয়েছে। বাংলাদেশও এখন সেই সুবর্ণ সুযোগের সামনে দাঁড়িয়ে। কিন্তু যুগোপযোগী দক্ষতা উন্নয়ন এবং উৎপাদনশীল কর্মসংস্থান তৈরি করা না গেলে এই বিপুল জনসংখ্যা সম্পদে পরিণত হওয়ার বদলে দেশের অর্থনীতির জন্য বিশাল বোঝায় পরিণত হতে পারে বলে সতর্ক করছেন অর্থনীতিবিদরা।

সংকট উত্তরণে সরকারের নানা উদ্যোগ

বিপুল এই মানবশক্তিকে মানবসম্পদে রূপান্তর করতে এবং বেকারত্ব ঘোচাতে সরকার বেশ কিছু বহুমুখী পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে:

  • তথ্যপ্রযুক্তি ও ফ্রিল্যান্সিং: আইটি খাতে ১০ লাখ নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। আগামী পাঁচ বছরে ২ লাখ ফ্রিল্যান্সারকে আইডি কার্ড প্রদান, হাজার হাজার তরুণকে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), ডাটা অ্যানালাইটিক্স এবং সাইবার সিকিউরিটি বিষয়ে প্রশিক্ষণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি ফ্রিল্যান্সারদের সুবিধার্থে অনলাইন পেমেন্ট গেটওয়ে ‘পেপ্যাল’ চালুর চেষ্টা চলছে।

  • কর্মসংস্থান ও নিয়োগ ব্যবস্থা: সরকারি শূন্য পদে দ্রুত নিয়োগ প্রদান, বেসরকারি চাকরিজীবীদের জন্য সার্ভিস রুল ও পেনশন ব্যবস্থা প্রণয়ন এবং বেকারভাতা চালুর পরিকল্পনা সরকারের বিবেচনাধীন রয়েছে।

  • অন্যান্য খাত: স্বাস্থ্য খাতে এক লাখ স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগ, কৃষিতে ভর্তুকি ও সহজ ঋণ প্রদান এবং উত্তরাঞ্চলে শিল্পায়নের মাধ্যমে নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টির উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

দীর্ঘদিন ধরে সরকার ও আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সহযোগীরা কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে বিপুল অর্থ ব্যয় করলেও তার কাঙ্ক্ষিত সুফল এখনো পুরোপুরি দৃশ্যমান নয়। বিশ্লেষকদের মতে, বাস্তবমুখী শিক্ষাব্যবস্থা, কারিগরি দক্ষতা বৃদ্ধি এবং বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করা ছাড়া এই বেকারত্ব সংকট মোকাবিলা করা প্রায় অসম্ভব।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category