• সোমবার, ২৭ এপ্রিল ২০২৬, ০৩:৫৩ অপরাহ্ন
Headline
ব্যয় মেটাতে ২০২৬ বিশ্বকাপের প্রাইজমানি আরও বাড়াচ্ছে ফিফা এসি ঘরে বসে কাজ করলেও হতে পারে ডিহাইড্রেশন! কীভাবে সতর্ক থাকবেন? মুকুটে নতুন পালক: ‘গ্লোবাল ভ্যানগার্ড অনার’ পাচ্ছেন গ্লোবাল আইকন প্রিয়াঙ্কা চোপড়া যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি দুই শিক্ষার্থী হত্যা: লাশ গুমের উপায় চ্যাটজিপিটিতে খুঁজেন ঘাতক, বৃষ্টির সন্ধানে নেমে মানবদেহের খণ্ডিতাংশ উদ্ধার এনসিপি নেত্রী মনিরা শারমিনের মনোনয়ন বাতিলের সিদ্ধান্ত বহাল রাখল ইসি, যাবেন হাইকোর্টে বাবার স্মৃতিবিজড়িত যশোরের সেই উলাসী খাল পুনঃখননের উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান রান্নার কষ্ট লাঘবে নারীদের এলপিজি কার্ড দেওয়ার ঘোষণা প্রধানমন্ত্রীর হামের টিকা দ্রুত নিশ্চিত করার নির্দেশ হাইকোর্টের আগামী সপ্তাহ থেকেই লোডশেডিং কমার আশ্বাস বিদ্যুৎমন্ত্রীর ফিলিস্তিনের পৌর নির্বাচনে আব্বাসপন্থিদের বড় জয়: দুই দশক পর গাজায় ভোট

হাসিনাকে প্রত্যর্পণ: অবস্থান বদলাচ্ছে দিল্লি? সাউথ চায়না মর্নিং পোস্টের বিশ্লেষণ

Reporter Name / ৩ Time View
Update : সোমবার, ২৭ এপ্রিল, ২০২৬

ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থানের মুখে ক্ষমতাচ্যুত হয়ে গত ৫ আগস্ট ভারতে আশ্রয় নেন বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তাকে দেশে ফিরিয়ে আনতে ঢাকার করা আনুষ্ঠানিক অনুরোধ পর্যালোচনা করতে সম্প্রতি রাজি হয়েছে ভারত। দিল্লির এই ঘোষণাকে অনেকেই ভারতের অবস্থানের দৃশ্যমান পরিবর্তন হিসেবে দেখছেন। তবে ‘সাউথ চায়না মর্নিং পোস্ট’-এর এক বিশ্লেষণে বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেছেন—পর্যালোচনার অর্থ এই নয় যে, ভারত এখনই হাসিনাকে হস্তান্তর করতে প্রস্তুত। বরং দিল্লির কাছে তিনি এখনও একটি ‘কৌশলগত সম্পদ’।

নমনীয়তা নাকি নিছকই কূটনৈতিক ভাষা?

ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় গত ১৭ এপ্রিল নিশ্চিত করেছে যে, তারা ঢাকার প্রত্যর্পণের অনুরোধটি ‘সক্রিয়ভাবে পর্যালোচনা’ করছে। ওপি জিন্দাল গ্লোবাল ইউনিভার্সিটির সহযোগী অধ্যাপক অভিনব মেহরোত্রার মতে, ভারতের এই দাবি অর্থপূর্ণ হলেও এটি মূলত একটি পদ্ধতিগত বা কূটনৈতিক ভাষা।

তিনি বলেন, “সরকারগুলো কোনো চূড়ান্ত প্রতিশ্রুতি না দিয়েই নিজেদের উন্মুক্ততা বোঝাতে এ ধরনের শব্দ ব্যবহার করে। সরাসরি প্রত্যাখ্যান করার চেয়ে এটি কিছুটা নমনীয়তার ইঙ্গিত দেয় ঠিকই, তবে এর মানে এই নয় যে ভারত তাকে এখনই প্লেনে তুলে দেবে।” এছাড়া ভারত ঐতিহাসিকভাবে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিদের (আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে হাসিনার মৃত্যুদণ্ডের রায় হয়েছে) মানবিক কারণে প্রত্যর্পণ এড়িয়ে চলে।

পেশাদার কূটনীতির বদলে রাজনৈতিক সমাধানের খোঁজ

সিঙ্গাপুর ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির রিসার্চ ফেলো অমিত রঞ্জন মনে করেন, হাসিনার প্রত্যর্পণ নিছক কোনো আইনি বিষয় নয়, এটি পুরোদস্তুর একটি ‘রাজনৈতিক বিষয়’। তাই দ্বিপক্ষীয় আলোচনার মাধ্যমেই এর সমাধান হওয়া উচিত।

এরই ইঙ্গিত মেলে ভারতের সাম্প্রতিক একটি পদক্ষেপে। পেশাদার কূটনীতিকদের বদলে সাবেক কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ও বিজেপি নেতা দীনেশ ত্রিবেদীকে বাংলাদেশে ভারতের পরবর্তী হাইকমিশনার হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, দীর্ঘদিন ধরে চলা উত্তেজনার পর প্রতিবেশীর সঙ্গে রাজনৈতিকভাবেই সমস্যা সমাধানের এটি ভারতের একটি সুপরিকল্পিত প্রচেষ্টা।

ভূ-রাজনীতি ও সম্পর্কের টানাপড়েন

হাসিনার পতন, তাকে ভারতের আশ্রয় প্রদান এবং বাংলাদেশে ক্রমবর্ধমান ভারতবিরোধী মনোভাবের কারণে দুই দেশের সম্পর্ক তলানিতে ঠেকেছিল। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান ড. মুহাম্মদ ইউনূসের কিছু নীতিও এতে প্রভাব ফেলে। বিশেষ করে, পাকিস্তানের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা বৃদ্ধি এবং চীনা সংস্থাগুলোকে বাংলাদেশে আমন্ত্রণ জানানোর বিষয়টি দিল্লিকে সতর্ক করে তোলে।

তবে রাজনৈতিক বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, গত ফেব্রুয়ারিতে তারেক রহমানের নেতৃত্বে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) নির্বাচনে বিপুল ব্যবধানে জয়লাভ করার পর উভয় দেশই সম্পর্ক মেরামতের উদ্যোগ নিয়েছে। পর্যায়ক্রমে ভিসা পরিষেবা চালু এবং উচ্চপর্যায়ের কূটনৈতিক আলোচনা তারই অংশ।

দিল্লির ‘কৌশলগত সম্পদ’ হাসিনা

গোয়ার মন্ত্রয়া ইনস্টিটিউট ফর স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজের প্রতিষ্ঠাতা শান্তি মারিয়েট ডি’সুজা বলেন, ভারতের দীর্ঘমেয়াদি লক্ষ্য হলো হাসিনার দল আওয়ামী লীগকে পুনরুজ্জীবিত করা। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, “হাসিনাকে ঢাকার হাতে তুলে দেওয়ার অর্থ হবে কার্যত আওয়ামী লীগের রাজনীতির চূড়ান্ত সমাপ্তি।”

ভারত নতুন সরকারের (বিএনপি) সঙ্গে কাজ করতে ইচ্ছুক হলেও, পাকিস্তান ও চীনের সঙ্গে ঢাকার সম্পর্ক নিয়ে তারা বেশ সতর্ক। ডি’সুজার মতে, “হাসিনা দিল্লির জন্য সব সময়ই একটি কৌশলগত সম্পদ হয়ে থাকবেন।” বিশেষ করে নতুন সরকার যদি ভবিষ্যতে ভারতবিরোধী অবস্থানে ফিরে যায়, তবে ঢাকার ওপর রাজনৈতিক চাপ প্রয়োগের ক্ষেত্রে হাসিনাই হবেন দিল্লির প্রধান তাস।

আইনি প্রক্রিয়ার দীর্ঘ পথ

বিশ্লেষকদের মতে, প্রত্যর্পণ প্রক্রিয়া এগোলে ১৯৬২ সালের প্রত্যর্পণ আইনের অধীনে বাংলাদেশ ভারতের কাছে আনুষ্ঠানিক আইনি আবেদন পাঠাবে। এরপর দিল্লির আদালত খতিয়ে দেখবে এর কোনো বৈধ আইনি ভিত্তি আছে কি না। তবে শেখ হাসিনা চাইলে আদালতেও এই আবেদনকে চ্যালেঞ্জ করতে পারবেন।

অধ্যাপক মেহরোত্রা বলেন, “আদালত যদি প্রত্যর্পণে রাজিও হয়, চূড়ান্ত সিদ্ধান্তটি হবে পুরোপুরি রাজনৈতিক। অর্থাৎ, ভারত সরকার তার ভূ-রাজনৈতিক স্বার্থের ওপর ভিত্তি করে তখনো এই প্রত্যর্পণ অনুমোদন বা প্রত্যাখ্যান করার ক্ষমতা রাখবে।”


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category