বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগের (বিপিএল) ১২তম আসরে দুর্নীতি, জুয়া (বেটিং) এবং তদন্তে অসহযোগিতার দায়ে একজন ক্রিকেটার, ফ্র্যাঞ্চাইজি মালিক ও কর্মকর্তাসহ মোট পাঁচজনের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিয়েছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। বৃহস্পতিবার (৭ মে ২০২৬) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে বিসিবি এই সিদ্ধান্তের কথা জানায়।
বিসিবির অ্যান্টি-করাপশন ইউনিটের তদন্তে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে তথ্য গোপন করা, তথ্য প্রমাণ ধ্বংস করা এবং তদন্ত কাজে বাধা দেওয়ার প্রাথমিক প্রমাণ পাওয়া গেছে।
১. অমিত মজুমদার (ঘরোয়া ক্রিকেটার): তাঁর বিরুদ্ধে ক্রিকেট ম্যাচের ফলাফল বা গতির ওপর প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে বাজি ধরার অভিযোগ আনা হয়েছে।
২. মো. লাবলুর রহমান (টিম ম্যানেজার): তদন্তে অসহযোগিতা এবং ডিজিটাল তথ্যপ্রমাণ (মেসেজ বা কল রেকর্ড) মুছে ফেলে তদন্তে বাধা দেওয়ার অভিযোগে তাঁকে সাময়িক নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
৩. মো. তৌহিদুল হক তৌহিদ (ফ্র্যাঞ্চাইজি সহ-মালিক): তদন্ত কর্মকর্তার চাহিদা অনুযায়ী তথ্য প্রদান না করা এবং গুরুত্বপূর্ণ তথ্য গোপন বা ধ্বংস করার দায়ে অভিযুক্ত হয়েছেন তিনি।
৪. রেজওয়ান কবির সিদ্দিকী (টিম ম্যানেজার): ক্রিকেট ম্যাচে বাজির সঙ্গে সরাসরি জড়িত থাকার অভিযোগে তাঁর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
উপরিউক্ত চারজনকে সাময়িকভাবে বহিষ্কার করা হয়েছে এবং আত্মপক্ষ সমর্থনের জন্য তাঁদের ১৪ দিন সময় বেঁধে দিয়েছে বিসিবি।
এদিকে, বিপিএলের ৯ম, ১০ম এবং ১১তম আসরে দুর্নীতিমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকা, খেলোয়াড়দের ফিক্সিংয়ের কুপ্রস্তাব দেওয়া এবং আন্তর্জাতিক জুয়াড়ি চক্রের সঙ্গে যোগাযোগের দায়ে সামিনুর রহমান নামে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে ‘বর্জন আদেশ’ বা ‘এক্সক্লুশন অর্ডার’ জারি করা হয়েছে। সামিনুর নিজের দোষ স্বীকার করে নেওয়ায় তিনি এখন থেকে বিসিবি-সংশ্লিষ্ট কোনো কর্মকাণ্ডে আর অংশ নিতে পারবেন না।
বিপিএলের সাম্প্রতিক আসরগুলোর ভয়াবহ অনিয়মের চিত্র তুলে ধরেছেন বিসিবি সভাপতি তামিম ইকবাল। তিনি দাবি করেন, গত আসরগুলোতে কোনো আনুষ্ঠানিক চুক্তি ছাড়াই নোয়াখালী ও সিলেটে দল খেলেছিল। এছাড়া চট্টগ্রামের ফ্র্যাঞ্চাইজিটি বিসিবির নিয়ন্ত্রণে নেওয়ায় বোর্ডের প্রায় ১৪ থেকে ১৬ কোটি টাকার আর্থিক ক্ষতি হয়েছে।
এই চরম অব্যবস্থাপনা রোধে কঠোর সিদ্ধান্তের কথা জানিয়ে সভাপতি বলেন, “এখন থেকে বিসিবি আর খেলোয়াড়দের পারিশ্রমিকের কোনো দায়ভার বা গ্যারান্টি নেবে না।” বিপিএলকে কলঙ্কমুক্ত করতে দুর্নীতি ও অব্যবস্থাপনার বিরুদ্ধে এই জিরো টলারেন্স নীতি বজায় থাকবে বলেও জানান তিনি।