আগামী ১২ জুন থেকে ইংল্যান্ড এবং ওয়েলসের মাটিতে পর্দা উঠতে যাচ্ছে আইসিসি নারী টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের। ক্রিকেটের এই মেগা আসরে নিজেদের প্রমাণ করার লক্ষ্যে ১৫ সদস্যের চূড়ান্ত স্কোয়াড ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ। অভিজ্ঞতা এবং তারুণ্যের দারুণ এক মিশেলে একটি ভারসাম্যপূর্ণ দল গঠন করেছেন নির্বাচকরা। দলের নেতৃত্বভার তুলে দেওয়া হয়েছে পরীক্ষিত ও নির্ভরযোগ্য সেনাপতি নিগার সুলতানা জ্যোতির কাঁধেই।
বিশ্বকাপের মতো বড় মঞ্চে বরাবরই স্নায়ুর চাপ ধরে রাখা একটি বড় চ্যালেঞ্জ। বিশেষ করে ইংল্যান্ডের পেস ও বাউন্সি উইকেটে খেলার জন্য প্রয়োজন সঠিক পরিকল্পনা। সেই বিষয়টি মাথায় রেখেই এবারের দল সাজানো হয়েছে। দলে যেমন নিগার সুলতানা জ্যোতি, ফাহিমা খাতুন, নাহিদা আক্তার ও রিতু মনির মতো দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন ক্যাম্পেইনাররা রয়েছেন, তেমনি রয়েছেন মারুফা আক্তার, স্বর্ণা আক্তার, দিলারা আক্তার ও রাবেয়া খানের মতো ভয়ডরহীন তরুণ ক্রিকেটাররা।
ইংল্যান্ড ও ওয়েলসের উইকেট সাধারণত পেসারদের বাড়তি সুবিধা দিয়ে থাকে। সেই বিষয়টি মাথায় রেখে দলে রাখা হয়েছে মারুফা আক্তারের মতো আগ্রাসী পেসার এবং ফারিহা ইসলাম তৃষ্ণার মতো বাঁহাতি পেস বোলিং অপশন। তাদের সুইং ও গতি ইংল্যান্ডের মেঘলা আবহাওয়ায় প্রতিপক্ষের ব্যাটারদের জন্য বড় ধরনের হুমকি হয়ে উঠতে পারে। পাশাপাশি স্পিন বিভাগে নাহিদা, ফাহিমা ও রাবেয়ারা নিজেদের দিনে যেকোনো ব্যাটিং লাইনআপ ধসিয়ে দেওয়ার ক্ষমতা রাখেন।
এবারের ঘোষিত স্কোয়াডে শারমিন আক্তার সুপ্তার মতো অভিজ্ঞ ব্যাটারের উপস্থিতির পাশাপাশি জুয়াইরিয়া ফেরদৌস এবং তাজ নেহারের অন্তর্ভুক্তি দলের বেঞ্চকে আরও শক্তিশালী করেছে। ব্যাটিংয়ে মিডল অর্ডারে সোবহানা মোস্তারি ও স্বর্ণা আক্তার দলের রান বাড়ানোর ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবেন বলে আশা করা হচ্ছে।
অধিনায়ক: নিগার সুলতানা জ্যোতি (উইকেটরক্ষক ও ব্যাটার)
বোলার (পেস ও স্পিন): নাহিদা আক্তার, ফাহিমা খাতুন, রাবেয়া খান, মারুফা আক্তার, ফারিহা ইসলাম তৃষ্ণা, সুলতানা খাতুন ও সানজিদা আক্তার মেঘলা।
ব্যাটার ও অলরাউন্ডার: দিলারা আক্তার, সোবহানা মোস্তারি, শারমিন আক্তার সুপ্তা, রিতু মনি, স্বর্ণা আক্তার, জুয়াইরিয়া ফেরদৌস ও তাজ নেহার।
প্রত্যাশা ও আগামীর চ্যালেঞ্জ:
নারী ক্রিকেটে বাংলাদেশ গত কয়েক বছরে অভাবনীয় উন্নতি করেছে। বিশেষ করে শক্তিশালী দলগুলোর বিপক্ষে লড়াই করার মানসিকতা তৈরি হয়েছে জ্যোতিদের। আগামী ১২ জুন থেকে শুরু হতে যাওয়া এই বিশ্বমঞ্চে লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা নিজেদের সেরাটা দিয়ে দেশের জন্য সম্মান বয়ে আনবে—এটাই এখন কোটি ক্রিকেটভক্তের প্রত্যাশা।