বিশ্বকাপ ফাইনালের একটি টিকিটের দাম ২ মিলিয়ন বা ২০ লাখ ডলার! সাধারণ ফুটবলপ্রেমীদের কাছে এই অঙ্কটি একটি ‘ভয়ংকর কৌতুক’ মনে হতে পারে। তবে এই আকাশচুম্বী দাম নিয়ে যখন বিশ্বজুড়ে সমালোচনার ঝড় বইছে, তখন ফিফা প্রেসিডেন্ট জিয়ান্নি ইনফান্তিনো এক চিমটি কৌতুক মিশিয়েই পাল্টা জবাব দিয়েছেন। তিনি জানিয়েছেন, কেউ যদি সত্যিই ২০ লাখ ডলারে ফাইনালের টিকিট কেনেন, তবে তিনি “ব্যক্তিগতভাবে সেই দর্শকের জন্য একটি হটডগ এবং একটি কোক” নিয়ে হাজির হবেন।
বিবিসি এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, আসন্ন এই টুর্নামেন্টের টিকিটের উচ্চমূল্য নিয়ে যখন ভক্তরা নাজেহাল, তখন ইনফান্তিনো রসিকতা করে বলেন, কেউ এত দাম দিয়ে টিকিট কিনলে তার অভিজ্ঞতা স্মরণীয় করতে তিনি নিজেই সেটি ডেলিভারি দিতে যাবেন।
ফিফার অফিসিয়াল রিসেল (পুনঃবিক্রয়) প্ল্যাটফর্মে অনেক টিকিট ইতিমধ্যেই পাঁচ অঙ্কের ডলারে তালিকাভুক্ত হয়েছে। এমনকি নিউ জার্সিতে হতে যাওয়া ফাইনালের গোলপোস্টের পেছনের চারটি টিকিট প্রতিটির দাম ধরা হয়েছিল প্রায় ২.৩ মিলিয়ন ডলার।
এই প্রসঙ্গে বেভারলি হিলসে মিলকেন ইনস্টিটিউট গ্লোবাল কনফারেন্সে ইনফান্তিনো বলেন:
তালিকাভুক্ত দাম মানেই প্রকৃত দাম নয়: রিসেল মার্কেটে কেউ ২ মিলিয়ন ডলারে টিকিট তালিকাভুক্ত করার মানে এই নয় যে টিকিটের প্রকৃত দাম অত, কিংবা কেউ তা সত্যিই কিনবে।
যুক্তরাষ্ট্রের বাজার বিশ্লেষণ: ইনফান্তিনোর মতে, যুক্তরাষ্ট্রে অন্যান্য বড় ক্রীড়া ইভেন্টের তুলনায় এই দাম সামঞ্জস্যপূর্ণ। তিনি আরও জানান, গ্রুপ পর্বের ২৫ শতাংশ টিকিট ৩০০ ডলারের কম দামে পাওয়া যাচ্ছে, যা আমেরিকার একটি ‘কলেজ গেমের’ টিকিটের দামের সাথে তুলনীয়।
আইনি বাস্তবতা: যুক্তরাষ্ট্রে টিকিট পুনঃবিক্রয় আইনত বৈধ। ফিফা খুব কম দামে টিকিট বিক্রি করলেও সেগুলো রিসেল মার্কেটে কয়েক গুণ বেশি দামে বিক্রি হবে—এমনটাই যুক্তি তাঁর।
টিকিটের এই অনিয়ন্ত্রিত দাম নিয়ন্ত্রণে কানাডার ওন্টারিও সরকার নতুন আইন এনেছে। টরন্টোতে হতে যাওয়া ছয়টি ম্যাচের টিকিট এখন থেকে মূল দামের চেয়ে বেশি দামে বিক্রি করা যাবে না। তবে যুক্তরাষ্ট্রের অন্য ১৫টি ভেন্যুর ক্ষেত্রে এই কড়াকড়ি নেই।
এক নজরে দর্শকদের সম্ভাব্য খরচ:
টিকিটের পাশাপাশি হোটেল ভাড়া এবং যাতায়াত খরচ বেড়ে যাওয়ায় চরম আর্থিক চাপে পড়েছেন ফুটবলার ভক্তরা। ইংল্যান্ডের একজন ভক্তকে শুধু গ্রুপ পর্বের ম্যাচগুলো দেখতেই প্রায় ৬,৫০০ পাউন্ড (প্রায় ১০ লাখ টাকা) খরচ করতে হতে পারে।
বাস্তবতা হলো, ২০ লাখ ডলারের টিকিটের সাথে ফিফা প্রেসিডেন্টের হাতের হটডগ হয়তো একটি দামী স্মৃতি হয়ে থাকবে, কিন্তু সাধারণ দর্শকদের জন্য প্রিয় দলের খেলা গ্যালারিতে বসে দেখাটা এখন রীতিমতো ‘বিলাসী যুদ্ধে’ পরিণত হয়েছে। ইনফান্তিনোর রসিকতা সমালোচনার উত্তাপ কতটুকু কমাতে পারবে, সেটিই এখন দেখার বিষয়।