রাজধানীর মিরপুর ও রমনা থানায় দায়ের করা দুটি পৃথক হত্যা মামলায় অবশেষে হাইকোর্ট থেকে জামিন পেয়েছেন সাবেক সংস্কৃতিমন্ত্রী এবং দেশের প্রখ্যাত অভিনেতা আসাদুজ্জামান নূর। দীর্ঘ প্রায় আট মাস ধরে কারাগারে থাকার পর রোববার (১০ মে) তাঁর এই জামিন আদেশ এল।
রোববার (১০ মে) বিচারপতি কে এম জাহিদ সারওয়ার কাজল এবং বিচারপতি শেখ আবু তাহেরের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ শুনানি শেষে এই আদেশ প্রদান করেন।
মামলার বিবরণ: ২০২৪ সালের ১৬ সেপ্টেম্বর রাজধানীর মিরপুর ও রমনা থানায় দুটি পৃথক হত্যা মামলা দায়ের করা হয়েছিল। ওই মামলা দুটিতেই তাঁকে জামিন দেওয়া হয়েছে।
আইনি প্রভাব: আইনজীবীদের মতে, এই দুই মামলায় জামিন পাওয়ায় তাঁর কারামুক্তির পথে একটি বড় আইনি বাধা দূর হলো। তবে অন্য কোনো মামলায় তাঁর নামে পরোয়ানা আছে কি না, তা যাচাই করে দেখা হচ্ছে।
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের পর থেকে অনেক প্রভাবশালী মন্ত্রী-এমপির মতো আসাদুজ্জামান নূরকেও আইনি প্রক্রিয়ার মুখোমুখি হতে হয়।
গ্রেপ্তার: ২০২৪ সালের ১৫ সেপ্টেম্বর রাতে রাজধানীর বেইলি রোড এলাকা থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
কারাগারে প্রেরণ: গ্রেপ্তারের পর ১২ সেপ্টেম্বর মিরপুর থানার একটি হত্যা মামলায় তাঁকে ও সাবেক বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী মো. মাহবুব আলীকে আদালতে হাজির করা হলে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মোশাররফ হোসেন তাঁদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
দীর্ঘ কারাবাস: গত বছরের সেপ্টেম্বর থেকে তিনি কারাগারে ছিলেন। আজ উচ্চ আদালত থেকে তাঁর জামিনের সিদ্ধান্ত এল।
| বিষয় | তথ্য |
| আসামি | আসাদুজ্জামান নূর (সাবেক সংস্কৃতিমন্ত্রী) |
| মামলার ধরন | হত্যা মামলা (২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থান সংশ্লিষ্ট) |
| থানা | মিরপুর ও রমনা থানা |
| আদেশ প্রদানকারী আদালত | হাইকোর্ট (বিচারপতি কে এম জাহিদ সারওয়ার কাজল ও শেখ আবু তাহের) |
| আদেশের তারিখ | ১০ মে, ২০২৬ |
সংক্ষিপ্ত মন্তব্য: একজন প্রবাদপ্রতিম অভিনেতা থেকে প্রতাপশালী রাজনীতিবিদ—আসাদুজ্জামান নূরের জীবন এখন এক বিশেষ ক্রান্তিকাল অতিক্রম করছে। সাংস্কৃতিক অঙ্গনের এই ‘কিংবদন্তি’ তাঁর রাজনৈতিক ভূমিকার কারণে এখন আদালতের কাঠগড়ায়। আজকের এই জামিন আদেশ তাঁর জন্য সাময়িক স্বস্তি নিয়ে এলেও, মূল বিচার প্রক্রিয়ায় তাঁকে নিজেকে নির্দোষ প্রমাণ করতে হবে।
সূত্র: আদালত এবং জাতীয় সংবাদমাধ্যম।