যুক্তরাষ্ট্রের দেওয়া একটি প্রস্তাবের বিপরীতে নিজেদের অবস্থান এবং দাবিগুলো স্পষ্টভাবে তুলে ধরেছে ইরান। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই তাঁর সাপ্তাহিক সংবাদ সম্মেলনে জানিয়েছেন, তেহরান যুক্তরাষ্ট্রের কাছে কোনো বাড়তি বা অযৌক্তিক সুযোগ-সুবিধা দাবি করছে না; বরং তারা কেবল নিজেদের বৈধ অধিকারগুলোই ফিরে পেতে চায়। ইরানের এই দাবিগুলোর মধ্যে সমগ্র মধ্যপ্রাচ্য জুড়ে চলমান সংঘাতের দ্রুত অবসান এবং বিদেশে আটকে থাকা রাষ্ট্রীয় সম্পদ হস্তান্তরের মতো বিষয়গুলো বিশেষভাবে গুরুত্ব পেয়েছে।
ইরানের মুখপাত্র আরও জানান, তাদের অন্যান্য প্রধান দাবির মধ্যে রয়েছে মার্কিন নৌ-অবরোধ সম্পূর্ণ প্রত্যাহার করা এবং বিভিন্ন বিদেশি ব্যাংকে আটকে রাখা ইরানি জনগণের বৈধ সম্পদ ছেড়ে দেওয়া। তবে ইরানের দেওয়া এই জবাব ও শর্তগুলো তাৎক্ষণিকভাবে প্রত্যাখ্যান করেছে যুক্তরাষ্ট্র। ডোনাল্ড ট্রাম্প গত রোববার ওয়াশিংটনে এক বিবৃতিতে তেহরানের এই জবাবকে ‘পুরোপুরি অগ্রহণযোগ্য’ বলে অভিহিত করেছেন এবং জানিয়েছেন যে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে এটি প্রত্যাখ্যান করা হয়েছে।
এদিকে পারস্য উপসাগর এবং অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তা নিয়েও আন্তর্জাতিক মহলে উত্তেজনা বিরাজ করছে। এ প্রসঙ্গে ইউরোপীয় দেশগুলোর উদ্দেশে ইসমাইল বাঘাই কড়া সতর্কবার্তা দিয়ে বলেছেন, তাদের এমন কোনো পদক্ষেপে বা সংকটে জড়ানো উচিত নয়, যা দিনশেষে কারও জন্যই কোনো সুফল বয়ে আনবে না। তিনি স্মরণ করিয়ে দেন, হরমুজ প্রণালিতে যেকোনো ধরনের অযাচিত হস্তক্ষেপ পরিস্থিতিকে আরও ঘোলাটে করে তুলবে।
অন্যদিকে, যুক্তরাজ্য ও ফ্রান্স হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তা নিশ্চিতে একটি আন্তর্জাতিক জোট গঠনের জোর প্রচেষ্টা চালাচ্ছে। তবে দেশ দুটি এটিও স্পষ্ট করেছে যে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে কোনো আনুষ্ঠানিক শান্তি চুক্তি স্বাক্ষরিত হওয়ার পরই কেবল এই জোট গঠনের চূড়ান্ত পদক্ষেপ নেওয়া হবে। সম্প্রতি দুই দিনের রোম সফর শেষে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও প্রণালির নিরাপত্তা নিশ্চিতে ইউরোপীয় মিত্রদের এগিয়ে আসার এবং সহযোগিতা করার আহ্বান জানিয়েছেন।