• রবিবার, ২৫ অক্টোবর ২০২৬, ০৪:১৭ পূর্বাহ্ন
Headline
আলেমদের জন্য রক্ত দিতেও দ্বিধা করব না: ধর্মমন্ত্রী বাংলাদেশে পরিকল্পিত সাংস্কৃতিক আগ্রাসন চালাচ্ছে সাম্রাজ্যবাদী শক্তি : রুহুল কবির রিজভী দৃঢ় মনোবল নিয়ে ঘুরে দাঁড়িয়েছে পুলিশ : আইজিপি বাংলাদেশ-জাপান কৌশলগত অংশীদারত্ব: নতুন দিগন্তের হাতছানি প্রধানমন্ত্রীর জাপান সফরে বিনিয়োগ ও অর্থনীতিতে নতুন গতির আশা টোকিওর নোট অব ডিসেন্টে পরিবর্তন চাইলে বৈঠকে আসতে হবে: বিরোধী দলকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সংসদের আগামী অধিবেশনে উঠছে না সংবিধান সংশোধনের প্রস্তাব রোহিঙ্গাদের দ্রুত ও টেকসই প্রত্যাবাসন নিশ্চিতে জাতিসংঘের জোরালো ভূমিকা চায় বাংলাদেশ হুথি হামলার জেরে তেলের দাম গত ৬ মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ কূপে টান: আমদানির ফাঁদে জ্বালানি খাত

দাগনভূঞায় নর্দমা থেকে শিশুর লাশ উদ্ধার: পুলিশের বিরুদ্ধে গাফিলতির অভিযোগ পরিবারের

Reporter Name / ১০৭ Time View
Update : বুধবার, ১৩ মে, ২০২৬

ফেনীর দাগনভূঞায় নর্দমা থেকে ১৮ মাস বয়সী শিশু মোহাম্মদ হাসানের লাশ উদ্ধারের ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। শিশুটিকে অপহরণ করে মুক্তিপণ দাবির কথা পুলিশকে জানানো হলেও তারা কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেয়নি বলে গুরুতর অভিযোগ করেছে নিহতের পরিবার।

নিখোঁজ ও মুক্তিপণ দাবি

গত শনিবার বেলা তিনটার দিকে বাসা থেকে নিখোঁজ হয় শিশু হাসান। সে লক্ষ্মীপুরের কমলনগর উপজেলার মোহাম্মদ তারেকের ছেলে। তারা দাগনভূঞা পৌরসভার আমানউল্লাহপুর বাঁশপাড়া এলাকায় ভাড়াবাসায় থাকেন। নিখোঁজের দিন সন্ধ্যায় পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়। পরিবারের অভিযোগ, নিখোঁজের পরপরই একটি অজ্ঞাত নম্বর থেকে কল করে শিশুটিকে অপহরণের কথা জানানো হয় এবং প্রথমে ১২ হাজার ও পরে ১ লাখ ২০ হাজার টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হয়।

পরিবারের অভিযোগ

শিশুটির মা তারজিনা আক্তার কান্নাজড়িত কণ্ঠে অভিযোগ করেন, মুক্তিপণ দাবির বিষয়টি তাৎক্ষণিকভাবে পুলিশকে জানানো হলেও তারা কোনো সহযোগিতা করেনি। পুলিশ দ্রুত ও কার্যকর ব্যবস্থা নিলে শিশুটিকে হয়তো জীবিত উদ্ধার করা সম্ভব হতো বলে আক্ষেপ করেন তিনি।

পুলিশের বক্তব্য ও লাশ উদ্ধার

নিখোঁজের দুই দিন পর সোমবার বেলা ১১টার দিকে আমানউল্লাহপুর বাঁশপাড়া এলাকার একটি ডোবা বা নর্দমা থেকে শিশুটির লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। পরিবারের কোনো লিখিত অভিযোগ বা মামলা না থাকায় ময়নাতদন্ত ছাড়াই লাশটি হস্তান্তর করা হয়। এ বিষয়ে দাগনভূঞা থানার ওসি মোহাম্মদ ফজলুল আজীম জানান:

  • প্রতারণার সন্দেহ: মুক্তিপণ চেয়ে আসা কলটি পর্যালোচনা করে দেখা গেছে সেটি নওগাঁ জেলার একটি নম্বর। শিশুটির বাবা ফেসবুকে নিজের নম্বর দিয়ে পোস্ট করার পর সেখান থেকে নম্বর সংগ্রহ করে কোনো প্রতারক চক্র এই কল করেছে বলে তদন্তে ধারণা করা হচ্ছে।

  • মৃত্যুর কারণ: শিশুটির শরীরে কোনো আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়নি। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, পরিবারের অগোচরে শিশুটি পানিতে পড়ে গিয়ে ডুবে মারা গেছে।

তদন্ত ও স্থানীয়দের প্রতিক্রিয়া

পরিবার পুলিশের এই ‘দুর্ঘটনা’র ব্যাখ্যা মানতে নারাজ। তাদের দাবি, এটি কেবল দুর্ঘটনা নয়, এর পেছনে অপহরণ ও হত্যা জড়িত থাকতে পারে। এদিকে ফেনীর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সাইফুল ইসলাম জানিয়েছেন, স্বজনদের তোলা পুলিশের গাফিলতির অভিযোগটি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

এ ধরনের স্পর্শকাতর ও জরুরি ঘটনায় পুলিশের ধীরগতি এবং সমন্বয়ের ঘাটতি নিয়ে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যেও গভীর উদ্বেগ ও ক্ষোভ বিরাজ করছে। তারা এই ঘটনার একটি সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্ত দাবি করেছেন।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category