সাম্প্রতিক জুলাই গণঅভ্যুত্থানে প্রবাসী বাংলাদেশিদের অসামান্য অবদানের স্বীকৃতি এবং তাদের ন্যায্য অধিকার আদায়ের প্রতিশ্রুতি নিয়ে দক্ষিণ কোরিয়ায় এক বিশাল নাগরিক সংবর্ধনায় অংশ নিয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া। মূলত ‘ওয়ার্ল্ড হিউম্যান রাইটস সিটিজ ফোরাম ২০২৬’-এ যোগ দিতে দেশটিতে অবস্থানরত এই তরুণ নেতাকে কাছে পেয়ে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন প্রবাসীরা। রোববার (১৭ মে) স্থানীয় সময় দুপুর ১২টায় কোরিয়ার খিম্পু শহরের ‘খিম্পু ফরেন সাপোর্ট সেন্টার’-এ এই বর্ণাঢ্য সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করে এনসিপি ডায়াস্পোরা অ্যালায়েন্সের দক্ষিণ কোরিয়া শাখা।
অনুষ্ঠানে দক্ষিণ কোরিয়ায় বসবাসরত এনসিপির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মী থেকে শুরু করে ইপিএস (EPS) কর্মী, শিক্ষার্থী এবং নানা শ্রেণি-পেশার প্রবাসী বাংলাদেশিরা স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশগ্রহণ করেন। সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে আবেগঘন বক্তব্যে আসিফ মাহমুদ ডায়াস্পোরা সদস্যদের আন্তরিকতা ও উষ্ণ আতিথেয়তার জন্য গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের চরম সংকটের সময় দেশে যখন ইন্টারনেট ও যোগাযোগব্যবস্থা অবরুদ্ধ করে রাখা হয়েছিল, তখন এই প্রবাসীরাই বহির্বিশ্বে দেশের মানুষের মুক্তির আশা জাগিয়ে রেখেছিলেন। ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনে প্রবাসীদের রেমিট্যান্স শাটডাউন ও আন্তর্জাতিক জনমত গঠনের সেই সাহসী ভূমিকার কথা জাতি চিরকাল শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
ভবিষ্যতের রাজনৈতিক রূপরেখা নিয়ে কথা বলতে গিয়ে আসিফ মাহমুদ প্রবাসীদের ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান। তিনি জোর দিয়ে বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের মূল স্পিরিট বা ‘জুলাই সনদ’ এবং গণভোটের আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নে প্রবাসীদের জোরালো ভূমিকা রাখতে হবে। একই সঙ্গে এই ঐতিহাসিক অভ্যুত্থানের সঠিক ইতিহাস আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় ও বিশ্ববাসীর কাছে তুলে ধরতে প্রবাসীদের আরও সক্রিয় হওয়ার অনুরোধ জানান তিনি। বিগত নির্বাচনগুলোতে প্রবাসীদের যেভাবে ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত রাখা হয়েছিল, তার তীব্র সমালোচনা করে আসিফ মাহমুদ আশ্বাস দেন যে, আগামী দিনে দেশের যেকোনো জাতীয় নির্বাচনে প্রবাসীদের সরাসরি ভোটাধিকার নিশ্চিত করতে এনসিপি শক্তভাবে কাজ করে যাবে।
সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে উপস্থিত সাধারণ প্রবাসীরাও আসিফ মাহমুদের সামনে তাদের প্রবাসজীবনের দীর্ঘদিনের বঞ্চনা ও নানা সংকটের কথা তুলে ধরেন। বিশেষ করে দক্ষিণ কোরিয়ায় কোনো প্রবাসী বা শিক্ষার্থীর অনাকাঙ্ক্ষিত মৃত্যু হলে তাদের মরদেহ সম্পূর্ণ বিনা খরচে দেশে পাঠানোর সরকারি ব্যবস্থা গ্রহণের জোর দাবি জানান তারা। এছাড়া কোরিয়ায় ইপিএস কর্মীদের অভিবাসন ও ভিসা প্রক্রিয়া সহজীকরণ, দালাল চক্রের অপতৎপরতা রোধ, ঢাকা বিমানবন্দরে রেমিট্যান্স যোদ্ধাদের হয়রানি বন্ধ করা এবং জাতীয় নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে প্রবাসীদের আরও বেশি অন্তর্ভুক্ত করার দাবি ওঠে। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম ও স্থানীয় সূত্র মতে, সাম্প্রতিক সময়ে ঢাকা-টোকিও রুটে ইনচন ট্রানজিট চালুর যে যৌক্তিক দাবি কোরিয়া প্রবাসীরা করে আসছেন, সে বিষয়টিও এই মঞ্চে গুরুত্বের সঙ্গে আলোচিত হয়।
অত্যন্ত প্রাণবন্ত এই সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন এনসিপির যুগ্ম সদস্য সচিব সালেহ উদ্দিন সিফাত, এনসিপি ডায়াস্পোরা অ্যালায়েন্সের দক্ষিণ কোরিয়ার আহ্বায়ক আরিফুর রহমান এবং সদস্য সচিব বাবুল মিয়া প্রমুখ। উল্লেখ্য, ১০ দিনের এই গুরুত্বপূর্ণ কোরিয়া সফরে আসিফ মাহমুদ শুধু প্রবাসীদের সঙ্গেই মিলিত হননি, বরং জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক হাইকমিশনার ভলকার তুর্কের সঙ্গেও একটি তাৎপর্যপূর্ণ সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন, যা এনসিপির আন্তর্জাতিক মানবাধিকার কূটনীতিতে একটি বড় পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।