বাংলাদেশের রাজনীতিতে নতুন রাজনৈতিক দলের আবির্ভাব এখন অনেকটাই বর্ষাকালের ব্যাঙের ছাতার মতো হয়ে দাঁড়িয়েছে। আকাশে সামান্য রাজনৈতিক পালাবদলের মেঘ জমলেই চারদিক থেকে নতুন নতুন দলের ডাক শোনা যায়। এই রাজনৈতিক ডামাডোলে কেউ আসেন মৃতপ্রায় গণতন্ত্রকে বাঁচাতে, কেউ আসেন রাষ্ট্রের খোলনলচে পাল্টে দিয়ে নতুন করে মেরামত করতে, আবার কেউ আসেন জনগণকে একেবারে নতুন মোড়কে নতুন রাজনীতির স্বাদ দিতে। তাদের কথাবার্তা শুনে মনে হয়, দেশের এতকাল ধরে চলে আসা পুরনো রাজনীতি যেন বাসি হয়ে যাওয়া কোনো একঘেয়ে খিচুড়ি, আর তারাই নিয়ে এসেছেন একেবারে টাটকা রেসিপি। ঠিক এমনই এক প্রতিশ্রুতি এবং ছাত্র-জনতার ঐতিহাসিক অভ্যুত্থানের উত্তাপ থেকে জন্ম নিয়েছিল ‘জাতীয় নাগরিক পার্টি’ বা এনসিপি। কিন্তু প্রতিষ্ঠার মাত্র কয়েক মাসের মধ্যেই দলটি আদর্শ এবং অস্তিত্বের এমন এক গোলকধাঁধায় আটকা পড়েছে, যা দেশের রাজনৈতিক মহলে তীব্র বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।
২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে যখন এনসিপি আনুষ্ঠানিকভাবে আত্মপ্রকাশ করে, তখন দলটির নেতাদের ভাষা ছিল অত্যন্ত নরম, কণ্ঠে ছিল উদারতার সুর এবং চেহারায় ছিল ‘আমরা বামও না, ডানও না’ গোছের এক ধরনের রহস্যময় হাসি। তাদের সেই প্রারম্ভিক রাজনৈতিক বয়ান শুনে মনে হচ্ছিল, বাংলাদেশের চরম মেরুকরণ হওয়া রাজনৈতিক বাজারে তারা যেন এক বোতল বিশুদ্ধ মিনারেল ওয়াটার নিয়ে এসেছেন—যা সবাই নিশ্চিন্তে পান করতে পারবে, কারও কোনো বদহজম বা গ্যাস হবে না। তারা প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন যে তারা দেশে একটি নির্ভেজাল মধ্যপন্থার রাজনীতি করবেন। তাদের সেই মধ্যপন্থার সংজ্ঞায় বলা হয়েছিল—তারা ইসলামোফোবিয়া বা ইসলামভীতিকে যেমন প্রশ্রয় দেবেন না, তেমনি উগ্র ইসলামপন্থারও কট্টর বিরোধী। তারা হিন্দুত্ববাদকে যেমন প্রত্যাখ্যান করবেন, ঠিক তেমনি সেক্যুলারিজম বা ধর্মনিরপেক্ষতার এমন কোনো উগ্র চর্চাও করবেন না, যা দেখে গ্রামের সাধারণ ধর্মপ্রাণ মুরুব্বিরা ভ্রু কুঁচকে ফেলেন।
তাদের এই সুমধুর কথাগুলো শুনে দেশের সচেতন নাগরিক সমাজের মনে একটা আশার সঞ্চার হয়েছিল যে, বাংলাদেশে বুঝি অবশেষে এমন একটা রাজনৈতিক দল এলো, যারা দশকের পর দশক ধরে চলা ডান-বাম আর পক্ষে-বিপক্ষের ঝগড়া মিটিয়ে সবাইকে নিয়ে গোল হয়ে বসে এক টেবিলে চা খাবে। দেশের মানুষের এই পরিবর্তনের আকাঙ্ক্ষার বিষয়টি তুলে ধরে তৎকালীন নাগরিক কমিটির সদস্য সচিব আক্তার হোসেন অত্যন্ত স্পষ্টভাবে বলেছিলেন, “বাংলাদেশের মানুষ দীর্ঘদিন ধরে ক্ষমতায় থাকা আওয়ামী লীগ আর বিএনপির বাইরে একটি নতুন রাজনৈতিক শক্তি চায়।” তার এই কথাটা মোটেও মিথ্যা নয়। বাংলাদেশের সাধারণ মানুষ সত্যিই ক্ষমতার মঞ্চে নতুন মুখ দেখতে চায়। কারণ, পুরনো মুখগুলো এতবার ক্ষমতায় গেছে এবং এত বেশি প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করেছে যে, জনগণ এখন তাদের পুরনো পোস্টার দেখলেও আতঙ্কিত হয় বা বিদ্যুতের বর্ধিত বিলের কথা মনে করে দীর্ঘশ্বাস ফেলে। কিন্তু রাজনীতির ময়দানে সবচেয়ে বড় এবং নির্মম সত্যটি হলো—আপনি মুখে কী বলছেন তার চেয়ে অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ হলো আপনি মাঠে কার সঙ্গে হাঁটছেন।
আর ঠিক এই হাঁটার পথেই এনসিপি বড় ধরনের হেঁচট খেয়েছে। মধ্যপন্থার বুলি আওড়াতে আওড়াতে দলটি হাঁটতে গিয়ে একেবারে সরাসরি দাঁড়িয়েছে জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন কট্টর ডানপন্থী জোটের পাশে। আর এই জোটবদ্ধ হওয়ার পর থেকেই রাজনৈতিক মহলে এবং চায়ের আড্ডায় ফিসফাস শুরু হয়েছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের অনেকেই বলতে শুরু করেছেন যে, এরা আসলে মধ্যপন্থী নয়, বরং ধীরে ধীরে কিন্তু নিশ্চিতভাবে ডানপন্থার দিকে স্লাইড করছে বা হেলে পড়ছে। সমালোচকরা আরও এক ধাপ এগিয়ে এনসিপিকে ‘জামায়াতের বি-টিম’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। বাংলাদেশের রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে এই ‘বি-টিম’ শব্দটা বড়ই ভয়ংকর এবং অপমানজনক। ক্রিকেটের ভাষায় বি-টিম মানে হলো একটি পরীক্ষামূলক দল বা দ্বিতীয় সারির দল। কিন্তু রাজনীতির মাঠে বি-টিম হওয়ার অর্থ হলো—আপনি নিজের নামে, নিজের প্রতীকে মাঠে খেলছেন ঠিকই, কিন্তু দিন শেষে আপনার করা গোলগুলো অন্যের অ্যাকাউন্টে জমা হয়ে যাচ্ছে।
এনসিপির ভেতরেও এই জোটবদ্ধ হওয়া এবং আদর্শিক স্খলন নিয়ে অস্বস্তি ও বিদ্রোহ কম হয়নি। দলটির প্রতিষ্ঠার সময় যেসব বাম ঘরানার বা প্রগতিশীল সদস্য যুক্ত হয়েছিলেন, ডানপন্থী জোটের সাথে হাত মেলানোর পর তারা ধীরে ধীরে দল থেকে সরে গেছেন। কেউ প্রকাশ্যে সংবাদ সম্মেলন করে দল ছেড়েছেন, আবার কেউ চুপচাপ নিষ্ক্রিয় হয়ে গেছেন। দলের নারী নেত্রীদের একটি বড় অংশ ইসলামপন্থী দলগুলোর সঙ্গে জোট করার প্রশ্নে তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে চিরতরে বিদায় নিয়েছেন। এই পরিস্থিতিকে একটি চমৎকার রূপকের সাহায্যে বর্ণনা করা যায়—যেন বিয়ের আগে পাত্রপক্ষ বলেছিল তারা খুবই আধুনিক ও উদার পরিবার, কিন্তু বিয়ের পর কনে দেখল সেই ঘরে টেলিভিশন চালাতে গেলেও ফতোয়া লাগে!
দলের অভ্যন্তরীণ এই আদর্শিক দ্বন্দ্বের সবচেয়ে বড় বহিঃপ্রকাশ ঘটে যখন দলটির যুগ্ম সদস্য সচিব মীর আরশাদুল হক পদত্যাগ করে সরাসরি বিএনপিতে যোগ দেন। এনসিপি ছাড়ার কারণ হিসেবে তিনি শীর্ষ নেতৃত্বের অতীত রাজনৈতিক পরিচয়ের দিকে সরাসরি আঙুল তোলেন। সংবাদমাধ্যমে দেওয়া বক্তব্যে মীর আরশাদুল হক ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “এনসিপির শীর্ষ পর্যায়ে বা টপ লেয়ারের অনেকেই সাবেক শিবির বা জামায়াতপন্থী পটভূমি থেকে আসা। দলটির ওপর তাদের প্রভাব ক্রমশ বাড়ছে এবং এর ফলে দলটি ইতোমধ্যে পুরোপুরি ডানপন্থায় চলে গেছে।” এখানে একটি মজার ব্যাপার লক্ষণীয়, বাংলাদেশের বর্তমান রাজনীতিতে ‘সাবেক’ শব্দটার বড় কদর তৈরি হয়েছে। সাবেক ছাত্রলীগ, সাবেক শিবির, সাবেক বিপ্লবী, সাবেক আমলা—সবাই এখন গণতন্ত্রের নতুন ফেরিওয়ালা হিসেবে আবির্ভূত হয়েছেন। অবস্থা দৃষ্টে মনে হচ্ছে, রাজনৈতিক দলগুলো এখন আর কোনো সুনির্দিষ্ট আদর্শের প্রতিষ্ঠান নয়, বরং এগুলো যেন পুরনো যাত্রী বদলানো কোনো ব্যস্ত বাসস্ট্যান্ডে পরিণত হয়েছে।
তবে এনসিপির সমস্যা শুধু জোটের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নেই, এর শিকড় আরও অনেক গভীরে। আত্মপ্রকাশের এত মাস পরও দলটি এখন পর্যন্ত জনগণের সামনে পরিষ্কার ও সুনির্দিষ্ট কোনো ম্যানিফেস্টো বা নির্বাচনী ইশতেহার দাঁড় করাতে পারেনি। একদিকে তারা মুখে মধ্যপন্থার কথা বলছে, অন্যদিকে ভোটের মাঠে ইসলামপন্থী দলগুলোর সঙ্গে আসন ভাগাভাগির জোটে যাচ্ছে। আবার একই সঙ্গে তারা নিজেদের দলে বিএনপি, জাতীয় পার্টি, এমনকি শর্ত সাপেক্ষে ক্ষমতাচ্যুত ছাত্রলীগের নিষ্ক্রিয় লোকদেরও জায়গা দেওয়ার চেষ্টা করছে। অর্থাৎ, তারা এমন এক আজব রাজনৈতিক হোটেল খুলে বসেছে, যেখানে নিরামিষ, গরুর মাংসের ভুনা, ডায়েট স্যুপ আর ইরানি বিরিয়ানি—সব একসঙ্গে এক হাঁড়িতে রান্না হচ্ছে। বাংলাদেশের রাজনীতি হচ্ছে পুরনো ঢাকার ঐতিহ্যবাহী বিরিয়ানির মতো। এখানে এক হাঁড়িতে সবকিছু মেশে না। একটু পরেই সাধারণ মানুষ ঠিকই বুঝে যায় কে আসল আলু, কে মাংস আর কে শুধু বিরক্তিকর এলাচ। এই জগাখিচুড়ি নীতির কারণে দল হয়তো সাময়িকভাবে বড় হতে পারে, কিন্তু আদর্শের হাঁড়িতে যে ঝোল একেবারেই পাতলা হয়ে যায়, তা তারা ভুলে গেছে।
এই আদর্শিক শূন্যতা নিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নৃবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক জুবায়দা নাসরীন অত্যন্ত তীক্ষ্ণ বিশ্লেষণ করেছেন। তিনি মনে করেন, ক্ষমতার রাজনীতির কাছে নতুন দলের আদর্শ কীভাবে মার খায়, এনসিপি তার একটি বড় উদাহরণ। তিনি বলেন, “এনসিপিকে এখন আর কোনোভাবেই মধ্যপন্থী বলার সুযোগ নেই। দলটি নিজেদের স্বাধীন রাজনৈতিক ভিত্তি বা আদর্শ তৈরি করার আগেই ক্ষমতার অঙ্কে পুরোপুরি ঝুঁকে পড়েছে। সাধারণ মানুষ এখন এটাই ধরে নিচ্ছে যে, এনসিপির এমপিরা মূলত জামায়াতের ভোট ও সমর্থনেই নির্বাচনে জিতেছেন।” অধ্যাপক জুবায়দার এই কথাটি বাস্তবতার সঙ্গে পুরোপুরি মিলে যায়। কারণ, এনসিপি যদি জোট না করে একা নিজেদের প্রতীকে নির্বাচনে যেত, তবে বাংলাদেশের বর্তমান ফার্স্ট-পাস্ট-দ্য-পোস্ট নির্বাচনী ব্যবস্থায় তারা হয়তো সংসদে একটি আসনও পেত না।
দলের এই আদর্শিক আপসের বিষয়টি প্রকারন্তরে স্বীকার করে নিয়েছেন এনসিপির উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক এবং অন্যতম প্রভাবশালী নেতা সারজিস আলম। তিনি ক্ষমতার রাজনীতির বাস্তবতার কথা তুলে ধরে এই জোটবদ্ধ হওয়ার পক্ষে জোরালো যুক্তি দাঁড় করিয়েছেন। সারজিস আলম তার বক্তব্যে বলেন, “নতুন দল হিসেবে সংসদে আমাদের প্রতিনিধিত্ব থাকাটা অত্যন্ত জরুরি ছিল। একা নির্বাচন করলে হয়তো আমরা কিছুই পেতাম না, কিন্তু জোটে গিয়ে অন্তত ছয়জন এমপি পাওয়া গেছে। বিএনপি যদি ২৯ বছর জামায়াতের সঙ্গে জোট করে নিজেদের বিএনপির পরিচয়ে টিকিয়ে রাখতে পারে, তবে আমরা কেন পারব না?” তার এই যুক্তিটি বাংলাদেশের রাজনৈতিক সংস্কৃতির প্রেক্ষাপটে অত্যন্ত বাস্তবসম্মত। এ দেশের ভোটাররা সাধারণত এমন দলকেই ভোট দেয়, যাদের নির্বাচনে জেতার বা সরকার গঠন করার সম্ভাবনা থাকে। এখানে কে কতটা নিখুঁত আদর্শ নিয়ে কথা বলছে, তার চেয়ে কার হাতে পাওয়ার বা ক্ষমতা যাওয়ার সম্ভাবনা বেশি, সেটি অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ। গ্রামের চায়ের দোকানে বসে সাধারণ মানুষ কার্ল মার্ক্স বা মধ্যপন্থার জটিল তত্ত্ব বোঝে না, কিন্তু কে মন্ত্রী হতে পারে আর কার মাধ্যমে এলাকার রাস্তাঘাট পাকা হতে পারে, সেটা তারা খুব ভালো বোঝে।
তাই এনসিপি নেতাদের হিসাবটি খুব সহজ—মাঠে একা নেমে শূন্য হাতে ফেরার চেয়ে জোটে গিয়ে ছয়টা আসন পাওয়া অনেক বেশি লাভজনক। রাজনীতিতে নীতির চেয়ে টিকে থাকাই যে শেষ কথা, এই পুরোনো শিক্ষাটি নতুন এই দলটি খুব দ্রুতই রপ্ত করে ফেলেছে। কিন্তু এখানেই লুকিয়ে আছে সবচেয়ে বড় বিপদ। কারণ, আপনি যদি বারবার একটি বড় ও সুসংগঠিত দলের (যেমন জামায়াত) ছায়ায় গিয়ে দাঁড়ান, তবে সাধারণ মানুষ একসময় আপনাকে আলাদা করে দেখতেই ভুলে যাবে। যেমন মেলার ভিড়ে একটি বিশাল হাতির পাশে যদি একটি ছাগল দাঁড়িয়ে থাকে, তবে কেউ ওই ছাগলটিকে আলাদা করে লক্ষ্য করে না। এনসিপি ঠিক সেই অস্তিত্বের সংকটেই পড়েছে।
তারা বারবার মুখে বলছে তারা মধ্যপন্থী, কিন্তু রাজনীতিতে পরিচয় শুধু বক্তব্যে বা প্রেস রিলিজে তৈরি হয় না; পরিচয় তৈরি হয় আপনি কার সাথে রাজনৈতিক সম্পর্ক স্থাপন করছেন, তার ওপর। সারজিস আলম যে বিএনপির ২৯ বছরের জোটের উদাহরণ টেনেছেন, সেখানে একটি বড় ফাঁক রয়েছে। বিএনপি যখন জোট করেছিল, তখন তারা আগে থেকেই একটি বিশাল, প্রতিষ্ঠিত এবং দেশজুড়ে শেকড় থাকা পুরনো দল ছিল। অন্যদিকে এনসিপি এখনও রাজনৈতিকভাবে একেবারে শিশু শ্রেণিতে পড়ে। একটি চারাগাছকে যদি শুরুতেই কোনো বড় মহীরুহ বা বিশাল গাছের নিচে লাগানো হয়, তবে সেই চারাগাছটি হয়তো রোদ-বৃষ্টি থেকে সাময়িক ছায়া পায় ঠিকই, কিন্তু সূর্যের আলো না পাওয়ার কারণে সেই গাছটি আর কখনোই বড় হয়ে উঠতে পারে না।
সবশেষে প্রশ্নটা তাই এখন আর শুধু আদর্শের নয়, বরং অস্তিত্বের। এনসিপি কি সত্যিই বাংলাদেশের রাজনীতিতে একটি স্বাধীন ও মধ্যপন্থী নতুন রাজনৈতিক শক্তি হিসেবে আবির্ভূত হতে পারবে? নাকি তারা ধীরে ধীরে ডানপন্থী বলয়ে হারিয়ে গিয়ে আরেকটি ছোট সহযোগী বা প্যাডসর্বস্ব দলে পরিণত হবে? এই জটিল প্রশ্নের উত্তর এখনও সময়ের পকেটে বন্দি। তবে আপাতত রাজনৈতিক মাঠে যা দেখা যাচ্ছে, তাতে এটা স্পষ্ট যে এনসিপি রাজনীতিতে টিকে থাকার জন্য এমন এক বিশাল ছাতা ধরেছে, যে ছাতা হয়তো তাদের সাময়িক রাজনৈতিক বৃষ্টি থেকে বাঁচাতে পারে ঠিকই, কিন্তু এই ছাতা বেশিদিন মাথার ওপর থাকলে তারা নিজেদের স্বাধীন আকাশটাই আর কখনো দেখতে পাবে না।