হরমুজ প্রণালির ওপর নিজেদের একচ্ছত্র নিয়ন্ত্রণ আরও সুসংহত করতে ‘পার্সিয়ান গালফ স্ট্রেট অথরিটি’ বা পারস্য উপসাগর প্রণালি কর্তৃপক্ষ গঠন করেছে ইরান। নতুন গঠিত এই সংস্থাটি ঘোষণা দিয়েছে যে, সংযুক্ত আরব আমিরাতের ফুজাইরাহ বন্দরের দক্ষিণের জলসীমা পর্যন্ত পুরো এলাকা এখন থেকে তাদের কঠোর নজরদারি ও নিয়ন্ত্রণের অধীন থাকবে।
ইরানের নতুন নিয়ন্ত্রিত এলাকা ও শর্তাবলী
বুধবার এক্সে (সাবেক টুইটার) দেওয়া এক পোস্টে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে:
নির্ধারিত সীমানা: ইরানের কুহ-ই মুবারক থেকে আমিরাতের ফুজাইরাহর দক্ষিণ প্রান্ত এবং ইরানের কেশম দ্বীপ থেকে আমিরাতের উম্ম আল-কুওয়াইন পর্যন্ত জলসীমা এই নিয়ন্ত্রণের আওতাভুক্ত হবে।
বাধ্যতামূলক অনুমতি: হরমুজ প্রণালি অতিক্রম করতে ইচ্ছুক যেকোনো নৌযানকে এখন থেকে এই কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করে বাধ্যতামূলক পূর্বানুমতি নিতে হবে।
এরই মধ্যে বুধবার ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) জানিয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় তারা তেল ট্যাংকারসহ ২৬টি বাণিজ্যিক জাহাজকে প্রণালি পার হওয়ার অনুমতি দিয়েছে।
আমিরাতের বিকল্প পদক্ষেপ ও উত্তেজনা
যুদ্ধ শুরুর পর থেকে এই প্রণালির নিয়ন্ত্রণ নিয়ে ইরান ও আমিরাতের মধ্যকার দ্বিপাক্ষিক উত্তেজনা চরমে পৌঁছেছে। আমিরাত এই গুরুত্বপূর্ণ প্রণালিতে ইরানের একক আধিপত্যের তীব্র বিরোধিতা করে আসছে। ফলে হরমুজ প্রণালির ওপর নির্ভরতা কমাতে আমিরাত ফুজাইরাহ বন্দরকে কেন্দ্র করে একটি শক্তিশালী বিকল্প কৌশল হাতে নিয়েছে:
নতুন পাইপলাইন নির্মাণ: গত শুক্রবার আমিরাত ‘ওয়েস্ট-ইস্ট’ নামের একটি নতুন পাইপলাইন নির্মাণের ঘোষণা দিয়েছে।
রপ্তানি সক্ষমতা বৃদ্ধি: আবুধাবি মিডিয়া অফিস জানায়, এই পাইপলাইনের মাধ্যমে ফুজাইরাহ বন্দর দিয়ে রাষ্ট্রীয় তেল কোম্পানি ‘আডনক’-এর তেল রপ্তানির সক্ষমতা আগের চেয়ে দ্বিগুণ হবে। আগামী বছর থেকে এটি পুরোদমে চালু হওয়ার কথা রয়েছে।
মূলত ফুজাইরাহ বন্দরটি ওমান উপসাগরের তীরে অবস্থিত। আমিরাত হরমুজ প্রণালির যেকোনো ধরনের ভূ-রাজনৈতিক বাধা এড়াতেই এই বিকল্প রুটের ওপর জোর দিচ্ছে।