দেশের অর্থনীতির মূল চালিকাশক্তি বেসরকারি খাত। কিন্তু এই খাতে কর্মরত বিপুল সংখ্যক চাকরিজীবীর চাকরিগত নিরাপত্তা, ন্যায্য অধিকার এবং ভবিষ্যৎ সুরক্ষার বিষয়টি দীর্ঘকাল ধরেই চরম অবহেলিত। সকালে অফিসে গিয়ে বিকেলে চাকরি হারানোর নোটিশ পাওয়া, কর্মক্ষেত্রে বৈষম্য, কিংবা ন্যায্য পাওনা থেকে বঞ্চিত হওয়ার মতো ঘটনা এ দেশের বেসরকারি চাকরিজীবীদের নিত্যদিনের সঙ্গী। এই অমানবিক ও অনিশ্চিত পরিস্থিতির স্থায়ী অবসানের লক্ষ্যে এবং বেসরকারি খাতের চাকরিজীবীদের চাকরির নিরাপত্তা ও ন্যায্য সুযোগ-সুবিধা আইনিভাবে নিশ্চিত করতে যুগোপযোগী ও সমন্বিত ‘বেসরকারি সার্ভিস রুলস’ (Private Service Rules) প্রণয়নের এক যুগান্তকারী উদ্যোগ নিয়েছে সরকার।
জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের প্রত্যক্ষ তত্ত্বাবধানে এই নতুন বিধিমালা তৈরির কাজ ইতোমধ্যে পুরোদমে শুরু হয়েছে। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এই উদ্যোগ সফলভাবে বাস্তবায়িত হলে দেশের কর্মসংস্থান কাঠামোতে এক বৈপ্লবিক পরিবর্তন আসবে, যা বেসরকারি খাতের কর্মীদের জীবনমান উন্নয়নের পাশাপাশি দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।
খসড়া পর্যায় থেকে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, সরকার এমন একটি আইনি কাঠামো তৈরি করতে চাইছে যা কর্মীর নিয়োগ থেকে শুরু করে অবসর পর্যন্ত প্রতিটি ধাপে আইনি সুরক্ষা প্রদান করবে। নতুন এই সার্ভিস রুলসে যে বিষয়গুলোকে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে:
নিয়োগপত্র বাধ্যতামূলক করা: কোনো কর্মীকে নিয়োগপত্র ছাড়া কাজে রাখা যাবে না। নিয়োগপত্রে বেতন, কর্মঘণ্টা ও অন্যান্য সুযোগ-সুবিধার সুস্পষ্ট উল্লেখ থাকতে হবে।
ন্যূনতম বেতন ও কর্মঘণ্টা নির্ধারণ: নির্দিষ্ট কর্মঘণ্টা এবং সরকার নির্ধারিত ন্যূনতম মজুরি কাঠামো কঠোরভাবে বাস্তবায়ন করা।
ছুটির অধিকার নিশ্চিতকরণ: নৈমিত্তিক, চিকিৎসা এবং বিশেষ করে নারী কর্মীদের জন্য সবেতন মাতৃত্বকালীন ছুটি নিশ্চিত করা।
চাকরির স্থায়িত্ব ও ছাঁটাই নীতি: বিনা কারণে বা খেয়ালখুশি মতো কর্মী ছাঁটাই বন্ধ করা। ছাঁটাই করতে হলে সুনির্দিষ্ট কারণ ও পূর্ব নোটিশ বাধ্যতামূলক করা।
সার্ভিস বেনিফিট প্রদান: দীর্ঘমেয়াদে কর্মরতদের জন্য প্রভিডেন্ট ফান্ড, গ্র্যাচুইটি এবং অন্যান্য টার্মিনাল বেনিফিট বা চাকরি শেষের সুবিধা নিশ্চিত করা।
শ্রম বৈষম্য ও হয়রানি রোধ: কর্মক্ষেত্রে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ বৈষম্য দূরীকরণ, জোরপূর্বক শ্রম আদায় বন্ধ এবং সব ধরনের হয়রানি প্রতিরোধের জন্য প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থা গ্রহণ।
গত ১০ মে সচিবালয়ে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মো. এহছানুল হকের সভাপতিত্বে এই বিষয়ে একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের শীর্ষ কর্মকর্তা, ব্যবসায়িক চেম্বার এবং বেসরকারি খাতের প্রতিনিধিত্বকারী বিভিন্ন সংগঠনের নেতারা উপস্থিত ছিলেন। দীর্ঘ আলোচনার পর সিদ্ধান্ত হয় যে, একটি সর্বজনীন ও কার্যকর বিধিমালা প্রণয়নের জন্য সকল পক্ষের মতামত নেওয়া অপরিহার্য।
এরই ধারাবাহিকতায়, সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোকে তাদের সুচিন্তিত মতামত লিখিতভাবে জানানোর জন্য ১৫ কর্মদিবস সময় বেঁধে দিয়ে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে আনুষ্ঠানিক চিঠি পাঠানো হয়েছে। সবার মতামতের ভিত্তিতে বিদ্যমান ‘বাংলাদেশ শ্রম আইন-২০০৬’ ও ‘বাংলাদেশ শ্রম বিধিমালা-২০১৫’-এ প্রয়োজনীয় ও যুগোপযোগী সংশোধন বা সংযোজন আনা হবে। এই পুরো প্রক্রিয়াটি সুচারুভাবে সম্পন্ন করার জন্য জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (বিধি অনুবিভাগ) মোস্তফা জামানকে প্রধান করে একটি বিশেষ উচ্চ পর্যায়ের কমিটি গঠন করা হয়েছে।
গত মঙ্গলবার (২০ মে) কমিটির প্রধান মোস্তফা জামান গণমাধ্যমকে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে বলেন, “বর্তমান সরকারের নির্বাচনী ইশতেহারের অন্যতম প্রধান প্রতিশ্রুতি ছিল বেসরকারি চাকরিজীবীদের জীবনমান উন্নয়ন। সেই প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের লক্ষ্যেই এই সমন্বিত উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।”
তিনি আক্ষেপ করে বলেন, “বেসরকারি খাতের চাকরিজীবীদের চাকরির নিরাপত্তাকে সরকার বর্তমানে সবচেয়ে বেশি অগ্রাধিকার দিচ্ছে। কারণ আমরা প্রায়ই দেখতে পাই, বিভিন্ন কোম্পানি বা প্রতিষ্ঠান সম্পূর্ণ নিজেদের সুবিধামতো, কোনো যৌক্তিক কারণ ছাড়াই নির্বিচারে কর্মী ছাঁটাই করছে। বয়সের দোহাই দিয়ে অনেক অভিজ্ঞ কর্মীকে জোরপূর্বক চাকরি থেকে বের করে দেওয়া হচ্ছে। নারীরা তাদের আইনগত অধিকার মাতৃত্বকালীন ছুটি থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। এমনকি জীবনের সোনালি সময় একটি প্রতিষ্ঠানে দেওয়ার পরও কর্মীরা কোনো সার্ভিস বেনিফিট পাচ্ছেন না। এই চরম নৈরাজ্য দূর করতেই নতুন রুলস তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।”
তিনি আরও স্পষ্ট করেন যে, যদিও বর্তমান শ্রম আইনে বেসরকারি চাকরিজীবীদের সুরক্ষায় নানা বিধান রয়েছে, তবে আইনের ফাঁকফোকর বা প্রয়োগের অভাবে কর্মীরা পদে পদে বঞ্চিত হন। তাই একটি নিশ্ছিদ্র ও সমন্বিত সার্ভিস রুলস অত্যন্ত জরুরি।
নতুন এই বিধিমালা প্রণয়নের কাজ জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় শুরু করলেও, চূড়ান্ত হওয়ার পর এর প্রয়োগ ও বাস্তবায়নের দায়িত্ব শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়কে দেওয়া হতে পারে বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন মোস্তফা জামান। এর কারণ হিসেবে তিনি উল্লেখ করেন, শ্রম মন্ত্রণালয়ের অধীনে নিজস্ব শ্রম ট্রাইব্যুনাল ও আদালত রয়েছে। কোনো কর্মী যদি নতুন এই বিধিমালা অনুযায়ী তার ন্যায্য অধিকার থেকে বঞ্চিত হন, তবে তিনি সরাসরি এই ট্রাইব্যুনালের মাধ্যমে দ্রুত আইনি প্রতিকার চাইতে পারবেন।
উল্লেখ্য, বর্তমান ক্ষমতাসীন দল বিএনপির নির্বাচনী ইশতেহারেও স্পষ্টভাবে প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল যে, বেসরকারি চাকরিজীবীরা যাতে তাদের প্রাপ্য আইনি ও ন্যায্য সুযোগ-সুবিধা থেকে কোনোভাবেই বঞ্চিত না হন, তার জন্য একটি শক্তিশালী ‘বেসরকারি সার্ভিস রুল’ প্রণয়ন করা হবে। সরকার এখন সেই রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতিরই বাস্তবায়ন করতে যাচ্ছে।
গত বুধবার (২০ মে) শ্রম মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব মোহাম্মদ কুদ্দুস আলী সরকার এ বিষয়ে কথা বলেন। তিনি জানান, “আমাদের দেশের শ্রম আইন-২০০৬ এবং শ্রম বিধিমালা-২০১৫ আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা (আইএলও) কর্তৃক অনুমোদিত। এছাড়া আন্তর্জাতিক বিভিন্ন কনভেনশনও এই আইনকে স্বীকৃতি দিয়েছে। এত শক্তিশালী একটি আইন থাকার পরও দেশের বেসরকারি খাতে এর যথাযথ প্রয়োগ হচ্ছে না, যা অত্যন্ত হতাশাজনক।”
তিনি আরও বলেন, “আইন থাকা সত্ত্বেও বেসরকারি খাতের কর্মীদের বেআইনি চাকরিচ্যুতি ঠেকানো যাচ্ছে না। মালিকপক্ষের যখন যাকে খুশি চাকরিচ্যুত করার এই সংস্কৃতি ভাঙতে হবে। বর্তমান আইন ও বিধিমালার যেসব জায়গায় কর্মীদের স্বার্থ সুরক্ষায় ঘাটতি বা অস্পষ্টতা রয়েছে, সেখানে নতুন ও কঠোর বিধান যুক্ত করে বিধিমালাটি হালনাগাদ করার পক্ষে শ্রম মন্ত্রণালয় জোরালো মত দিয়েছে।”
এই নতুন উদ্যোগের অন্যতম চমকপ্রদ দিক হলো আধুনিক ‘গিগ ইকোনমি’ বা চুক্তিভিত্তিক সেবা খাতের কর্মীদের সুরক্ষার আওতায় আনার চিন্তাভাবনা। মোহাম্মদ কুদ্দুস আলী সরকার অত্যন্ত প্রাসঙ্গিক একটি বিষয় তুলে ধরে বলেন, বর্তমানে দেশে উবার, পাঠাও, ফুডপান্ডা কিংবা সহজ-এর মতো অসংখ্য অনলাইন প্ল্যাটফর্মভিত্তিক প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠেছে। এসব প্রতিষ্ঠানে লাখ লাখ তরুণ কাজ করলেও, তাদের জন্য সুনির্দিষ্ট কোনো সার্ভিস রুলস বা চাকরির আইনি কাঠামো নেই। তাদেরকে ‘কর্মী’ হিসেবে স্বীকৃতি না দিয়ে ‘অংশীদার’ বা ‘স্বাধীন ঠিকাদার’ বলে আইনি দায়ভার এড়ানো হয়। একই অবস্থা ফ্রিল্যান্সিং বা গিগভিত্তিক সেবাদাতাদের ক্ষেত্রেও। নতুন এই বিধিমালায় আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর এসব কর্মীদের আইনি সুরক্ষার বিষয়টি কীভাবে অন্তর্ভুক্ত করা যায়, তা নিয়ে প্রাথমিক পর্যায়ে নীতিনির্ধারণী আলোচনা শুরু হয়েছে।
বেসরকারি খাতের জন্য কেন এমন একটি আইনি কাঠামো অপরিহার্য, তা অনুধাবনের জন্য পরিসংখ্যানের দিকে তাকানো প্রয়োজন। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) সর্বশেষ ‘শ্রমশক্তি জরিপ ২০২৪’-এর তথ্য অনুযায়ী, দেশে বর্তমানে কর্মরত মোট মানুষের সংখ্যা ৬ কোটি ৯০ লাখ ৯০ হাজার।
এই বিশাল কর্মবাহিনীর মধ্যে ৪৮ দশমিক ২ শতাংশ মানুষই বেসরকারি, যৌথ উদ্যোগ ও বিভিন্ন ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানে কর্মরত। এর বাইরে আরও ১৮ দশমিক ২ শতাংশ মানুষ অন্যান্য বেসরকারি প্রাতিষ্ঠানিক ও অপ্রাতিষ্ঠানিক উদ্যোগে নিয়োজিত। অর্থাৎ, দেশের মোট কর্মশক্তির বিপুল অংশ, প্রায় ৬৬ দশমিক ৪ শতাংশ কর্মীই সরাসরি বেসরকারি খাতের ওপর নির্ভরশীল।
বিপরীতে, সরকারি খাতে কর্মরত আছেন মাত্র ৪ দশমিক ৭ শতাংশ মানুষ। বাকি কর্মীরা মূলত খানাভিত্তিক প্রতিষ্ঠান বা পারিবারিক কৃষিকাজে নিয়োজিত। বর্তমানে সরকার ৪৭টি খাতের জন্য ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণ করে দিয়েছে। তবে আরও বেশ কয়েকটি নতুন খাতকে আনুষ্ঠানিক শিল্প খাত হিসেবে ঘোষণা করা হলেও, সেখানে এখন পর্যন্ত কার্যকর কোনো প্রাতিষ্ঠানিক সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করার উদ্যোগ দেখা যায়নি। দেশের ৬৬ শতাংশ মানুষের জীবনজীবিকার নিশ্চয়তা না থাকলে একটি কল্যাণকামী রাষ্ট্র গঠন কখনোই সম্ভব নয়।
দেশের এই যুগান্তকারী উদ্যোগ নিয়ে মালিকপক্ষ ও ব্যবসায়ী সমাজের মধ্যেও মিশ্র প্রতিক্রিয়া ও সমর্থন লক্ষ্য করা যাচ্ছে। দেশের শীর্ষস্থানীয় একটি ব্যবসায়ী সংগঠনের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বেসরকারি খাতের অভ্যন্তরীণ করুণ চিত্র তুলে ধরেন। তিনি বলেন, “ব্যবসায়ী সংগঠনগুলোতে প্রায়শই বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কর্মীরা করুণ অভিযোগ নিয়ে আসেন। তারা জানান যে, কোনো যুক্তিসঙ্গত কারণ বা পূর্ব নোটিশ ছাড়াই তাদের চাকরিচ্যুত করা হয়েছে। আবার অনেকেই অভিযোগ করেন, বছরের পর বছর বিশ্বস্ততার সাথে কাজ করার পরও চাকরি ছাড়ার সময় প্রতিষ্ঠান তাদের ন্যায্য পাওনা, বকেয়া বেতন বা সার্ভিস বেনিফিট আটকে রেখেছে।”
ওই ব্যবসায়ী নেতা আরও বলেন, “অনেক কর্পোরেট প্রতিষ্ঠান কর্মীদের বছরের পর বছর শিক্ষানবিশ বা অস্থায়ী চুক্তিতে ঝুলিয়ে রাখে, কখনোই স্থায়ী করে না। অনেক জায়গায় সামান্য মাসিক বেতনের বাইরে যাতায়াত ভাতা, চিকিৎসা ভাতা বা অন্য কোনো সুবিধা নেই। এমনকি ঈদ বোনাসের মতো উৎসব ভাতাও অনেক ক্ষেত্রে মালিকের মর্জিমাফিক কোনো নিয়মনীতি ছাড়াই দেওয়া হয়। বর্তমান শ্রম আইনের দুর্বলতা এবং চাকরিগত অস্পষ্টতার সুযোগ নিয়েই কিছু অসাধু মালিক কর্মীদের ন্যায্য সুবিধা থেকে বঞ্চিত করেন। তাই সব খাতের কর্মীদের জন্য একটি সমন্বিত ও কঠোর বিধিমালা এখন সময়ের দাবি।”
তবে এই বিধিমালা প্রণয়নের ক্ষেত্রে চ্যালেঞ্জের কথাও স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। বাংলাদেশ এমপ্লয়ার্স ফেডারেশনের সাবেক সভাপতি ফজলুল হক মনে করেন, একটি সমন্বিত সার্ভিস রুলস তৈরি করা গেলে তা দেশের অর্থনীতি ও কর্মপরিবেশের জন্য অবশ্যই একটি ইতিবাচক মাইলফলক হবে।
তবে তিনি সতর্ক করে বলেন, “আমাদের বেসরকারি খাত অত্যন্ত বৈচিত্র্যময় ও বহুমুখী। একটি তৈরি পোশাক কারখানার কাঠামো, একটি বহুজাতিক আইটি ফার্মের কাঠামো এবং একটি বেসরকারি হাসপাতালের জনবল ব্যবস্থাপনা সম্পূর্ণ ভিন্ন প্রকৃতির। ফলে সব ধরনের খাতের জন্য একটিমাত্র ‘অভিন্ন সার্ভিস রুলস’ তৈরি করা বেশ বড় একটি আইনি ও প্রায়োগিক চ্যালেঞ্জ।”
তিনি পরামর্শ দেন যে, এই ধরনের সংবেদনশীল ও বিশদ সার্ভিস রুলস চূড়ান্ত করার আগে সরকার, মালিকপক্ষ, শ্রমিক সংগঠন, চেম্বার অব কমার্স এবং বেসরকারি খাতের সকল স্তরের অংশীজনদের (Stakeholders) অন্তর্ভুক্ত করে ব্যাপকভিত্তিক আলোচনা করতে হবে। জোর করে কোনো আইন চাপিয়ে না দিয়ে, বাস্তবতার নিরিখে সবার মতামতের ভিত্তিতে এটি প্রণয়ন করা হলেই তা দীর্ঘমেয়াদে টেকসই হবে।
পরিশেষে বলা যায়, বেসরকারি চাকরিজীবীদের জন্য ‘সার্ভিস রুলস’ প্রণয়নের এই উদ্যোগ বাংলাদেশের কর্মসংস্থানের ইতিহাসে একটি নতুন অধ্যায়ের সূচনা করতে যাচ্ছে। এটি শুধু কর্মীদের অধিকারই রক্ষা করবে না, বরং কর্মীদের মধ্যে কাজের প্রতি সন্তুষ্টি ও মনোযোগ বাড়াবে, যা চূড়ান্তভাবে প্রতিষ্ঠানগুলোর উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি এবং দেশের অর্থনৈতিক চাকাকে আরও গতিশীল করতে সাহায্য করবে।
তথ্যসূত্র: আজকের কাগজ ও দ্যা বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড