• সোমবার, ০৩ অগাস্ট ২০২৬, ০৩:৪২ পূর্বাহ্ন
Headline
সিআইডি প্রধান হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করলেন অ্যাডিশনাল আইজিপি ব্যারিস্টার মোহাম্মদ মোশাররফ হোছাইন গৃহশিক্ষক নির্বাচন: কিছু অভিজ্ঞতা, কিছু পরামর্শ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে কৃষিভিত্তিক স্থাপনা স্থাপন করতে চাই: মির্জা ফখরুল ৩০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে রিটার্ন দিলেই মিলবে ২৫ হাজার টাকা পর্যন্ত ছাড় ঢাকায় ফের ওয়াটার বাস চালুর উদ্যোগ, যুক্ত হতে পারে বেসরকারি খাত বাণিজ্য সম্প্রসারণ ও রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন নিয়ে বাংলাদেশ-মিয়ানমার বৈঠক সব প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পর্যায়ক্রমে স্কুল মিল চালু করা হবে: গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ঢাকার চারপাশের নৌপথ সচলের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর ২৪ ঘণ্টায় হাম ও উপসর্গে ৪ জনের মৃত্যু ঠাকুরগাঁওয়ে বজ্রাঘাতে দুইজনের মৃত্যু

এটিএম বুথে তীব্র নগদ টাকার সংকট, অন্য ব্যাংকের কার্ডে লেনদেন বন্ধ রাখায় ভোগান্তি চরমে

Reporter Name / ৪৩ Time View
Update : বুধবার, ১৭ জুন, ২০২৬

রাজধানীর এটিএম (অটোমেটেড টেলার মেশিন) বুথগুলোতে হঠাৎ করেই তীব্র নগদ টাকার সংকট দেখা দিয়েছে। ব্যাংকগুলোর বুথে পর্যাপ্ত টাকা না থাকায় চরম ভোগান্তি ও বিপাকে পড়েছেন সাধারণ গ্রাহকেরা। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে ঠেকেছে যে, ডাচ-বাংলা, সিটি এবং কমার্শিয়াল ব্যাংকের মতো বড় বড় বেসরকারি ব্যাংকগুলো নিজেদের গ্রাহকদের সেবা নিশ্চিত করতে সাময়িকভাবে অন্য ব্যাংকের গ্রাহকদের কার্ডের (Interbank Transaction) প্রবেশাধিকার সম্পূর্ণ বন্ধ বা সীমিত করে দিয়েছে। ফলে এক বুথ থেকে অন্য বুথে ঘুরেও টাকা না পেয়ে অনেক গ্রাহক অতিরিক্ত ‘ক্যাশ আউট চার্জ’ গুনে মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে টাকা তুলতে বাধ্য হচ্ছেন।

গত কয়েক দিন ধরে রাজধানীর মোহাম্মদপুর, মিরপুর-১, ২ ও ১০, কাজীপাড়া, শেওড়াপাড়া, টেকনিক্যাল, কল্যাণপুর, শ্যামলী, আগারগাঁও, ৬০ ফিট সড়ক এবং পান্থপথসহ বিভিন্ন এলাকা ঘুরে গ্রাহক ভোগান্তির এই বাস্তব চিত্র দেখা গেছে। একই অবস্থার দেখা মিলেছে সাভারের বিভিন্ন এলাকায়।

বুথ সচল থাকলেও মিলছে না টাকা, বন্ধ অন্য কার্ডের সুবিধা

ভুক্তভোগী গ্রাহকদের অভিযোগ, বুথগুলোতে ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়েও শেষ পর্যন্ত টাকা পাওয়া যাচ্ছে না। মোহাম্মদপুরের বাসিন্দা আরশাদ হোসেন জানান, গত বুধবার ২০ হাজার টাকা তোলার জন্য তিনি এলাকার ছয়টি বুথ ঘুরেছেন, কিন্তু কোনোটিতেই টাকা পাননি। বাধ্য হয়ে তিনি অনলাইন ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে মোবাইল ব্যাংকিং অ্যাকাউন্টে টাকা ট্রান্সফার করে ক্যাশ আউট করেছেন, যাতে তাঁর অতিরিক্ত আর্থিক ক্ষতি হয়েছে।

আগারগাঁও অফিস পাড়া ও ৬০ ফিট সড়ক জুড়ে থাকা ডাচ-বাংলা এবং সোনালী ব্যাংকের বুথগুলোতেও একই চিত্র দেখা গেছে। ৬০ ফিট সড়কের ডাচ-বাংলা বুথের ফাস্ট ট্র্যাক অফিসার সুমন হাওলাদার জানান, মে মাসের শেষের দিকে ঈদ এবং জুনের শুরুতে মাসের নিয়মিত খরচের কারণে টাকা উত্তোলনের ব্যাপক চাপ ছিল। কিন্তু অন্য ব্যাংকের গ্রাহকেরা এসে বিপুল পরিমাণ টাকা তুলে নিয়ে যাওয়ায় ডাচ-বাংলার নিজস্ব গ্রাহকেরা টাকা পাচ্ছিলেন না। তাই ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের মৌখিক নির্দেশনায় আপাতত অন্য ব্যাংকের কার্ডের সুবিধা বন্ধ বা সীমিত রাখা হয়েছে।

অনুরূপ চিত্র দেখা গেছে শেওড়াপাড়ার সিটি ব্যাংক এবং কাজীপাড়ার কমার্শিয়াল ব্যাংকের বুথেও। কমার্শিয়াল ব্যাংকের বুথে নিজস্ব গ্রাহকেরা সর্বোচ্চ ৫০ হাজার টাকা তুলতে পারলেও অন্য কার্ডের ব্যবহার সম্পূর্ণ বন্ধ রাখা হয়েছে। সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন ইসলামী ব্যাংকের গ্রাহকেরা। আগারগাঁও ও ৬০ ফিট এলাকার ইসলামী ব্যাংকের বুথগুলোতে গত ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টা ধরে কোনো টাকা নেই। মিরপুর-১০ নম্বরের বুথে টাকা থাকলেও গ্রাহকপ্রতি সর্বোচ্চ ১০ হাজার টাকার সীমা বেঁধে দেওয়া হয়েছে এবং পাশের আরেকটি বুথ ‘যান্ত্রিক ত্রুটি’র নোটিশ ঝুলিয়ে বন্ধ করে রাখা হয়েছে।

ব্যাংকের তারল্য সংকট ও গ্রাহকদের আস্থা হীনতা

গ্রাহক ও নিরাপত্তাকর্মীদের মতে, মে মাসের শেষের দিকে ঈদুল আজহার কেনাকাটা এবং জুন মাসের শুরুতে বেতন ও পারিবারিক খরচের কারণে একযোগে বিপুল পরিমাণ টাকা উত্তোলনের চাপ তৈরি হয়। তবে ব্যাংক কর্মকর্তাদের একাংশ বলছেন, আসল সংকট অন্য জায়গায়। ডাচ-বাংলা ব্যাংকের একটি জোনের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জানান, ঈদের আগে হঠাৎ করেই অন্য ব্যাংকের গ্রাহকদের টাকা তোলার হার প্রায় ২৫ থেকে ৩০ শতাংশ বেড়ে যায়। নিজেদের গ্রাহকদের চাহিদা মেটাতো হিমশিম খাওয়ায় তারা এই সাময়িক কড়াকড়ি আরোপ করতে বাধ্য হয়েছেন। যদিও ডাচ-বাংলা ব্যাংকের জনসংযোগ বিভাগ দাবি করেছে, কেন্দ্রীয়ভাবে এমন কোনো নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়নি।

সার্বিক এই সংকট নিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ শাহাদাত হোসেন সিদ্দিকী গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেন, “সাম্প্রতিক সময়ে দেশের বিভিন্ন ব্যাংকে অভ্যন্তরীণ অস্থিতিশীলতা এবং বিপুল পরিমাণ ঋণখেলাপির খবরের কারণে ব্যাংকিং খাতের ওপর সাধারণ গ্রাহকদের আস্থার জায়গাটা মারাত্মকভাবে সংকীর্ণ হয়েছে। অনেক মানুষ এখন ব্যাংকে টাকা গচ্ছিত রাখতে ভয় পাচ্ছেন এবং নিজেদের সঞ্চয় তুলে নিচ্ছেন। এই আস্থাহীনতার কারণেই ব্যাংকিং খাতে এক ধরনের কৃত্রিম বা বাস্তব তারল্য সংকট দেখা দিয়েছে, যার সরাসরি প্রভাব পড়েছে এটিএম বুথগুলোতে।” তবে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে কেন্দ্রীয় ব্যাংক (বাংলাদেশ ব্যাংক) নানামুখী পদক্ষেপ নিচ্ছে, যা ইতিবাচক বলে মনে করেন এই অর্থনীতিবিদ।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category