আজ শুক্রবার, ২৬ জুন ২০২৬, পবিত্র ১০ই মহররম। সারা বিশ্বের মুসলিম উম্মাহর সাথে বাংলাদেশেও যথাযোগ্য ধর্মীয় মর্যাদা ও ভাবগাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে পালিত হচ্ছে পবিত্র আশুরা। ইসলামের ইতিহাসে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ ও ঘটনাবহুল এই দিনটি ত্যাগ, সত্য ও ন্যায়ের পথে অবিচল থাকার এক মহান শিক্ষা বহন করে।
ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট ও কারবালার শোকাবহ ঘটনা
হিজরি ৬১ সনের এই দিনে ইরাকের ফোরাত নদীর তীরে কারবালা প্রান্তরে মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর প্রিয় দৌহিত্র হযরত ইমাম হোসাইন (রা.) এবং তাঁর পরিবারের সদস্যরা ইয়াজিদ বাহিনীর হাতে নির্মমভাবে শাহাদাত বরণ করেন। সত্য ও ন্যায়ের পক্ষে আপসহীন লড়াই করতে গিয়ে তাঁদের এই আত্মত্যাগ বিশ্বজুড়ে সত্যপিপাসু মানুষের কাছে চিরকাল অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে থাকবে। কেবল কারবালার ঘটনাই নয়, ১০ই মহররমের সঙ্গে জড়িয়ে আছে সৃষ্টির অনেক বিস্ময়কর ইতিহাস। ইসলামি বিশ্বাস অনুযায়ী, এই দিনে পৃথিবী সৃষ্টি, হযরত আদম (আ.)-এর দোয়া কবুল, হযরত নূহ (আ.)-এর মহাপ্লাবন থেকে মুক্তি এবং হযরত মুসা (আ.)-এর ফেরাউনের হাত থেকে রক্ষা পাওয়ার মতো অসংখ্য অলৌকিক ঘটনার সাক্ষী এই পবিত্র আশুরা।
বাংলাদেশে আশুরা পালন
বাংলাদেশে আশুরা অত্যন্ত ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যের সঙ্গে পালিত হয়। শিয়া ধর্মাবলম্বীরা এই দিনটিতে বিশেষ কর্মসূচির আয়োজন করেছেন। বিশেষ করে পুরান ঢাকার হোসেনি দালান থেকে তাজিয়া মিছিলের আয়োজন করা হয়। শোকের এই মিছিলে ইমাম হোসাইন (রা.)-এর স্মরণে ভক্তরা অংশ নিচ্ছেন।
এছাড়া দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা নফল রোজা রাখা, কুরআন তিলাওয়াত, দোয়া-দরুদ পাঠ এবং দান-খয়রাত করার মাধ্যমে দিবসটি পালন করছেন। মহানবী (সা.) হিজরত করার পর ইহুদিদের এই দিনে রোজা রাখতে দেখে মুসলমানদেরও রোজা রাখার নির্দেশ দিয়েছিলেন, যার ধারাবাহিকতায় আজও অনেক মুসলমান এই দিনে রোজা রাখছেন।
নিরাপত্তা ও ডিএমপির নির্দেশনা
আশুরা উপলক্ষে রাজধানীসহ সারা দেশে বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) তাজিয়া মিছিলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কঠোর নির্দেশনা প্রদান করেছে। মিছিলে দা, ছোরা, কাঁচি, বর্শা, বল্লম, তরবারি, লাঠিসহ কোনো প্রকার ধারালো ও আঘাতজনিত সরঞ্জাম বহন এবং আতশবাজি ও পটকা ফোটানো সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। ডিএমপির বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, অতীতে এসব সরঞ্জাম ব্যবহারের ফলে অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি সৃষ্টি হওয়ায় এবং জননিরাপত্তা বিঘ্নিত হওয়ার আশঙ্কায় এই বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে।
শোকের এই দিনে আলেম-উলামারা ধর্মপ্রাণ মুসল্লিদের সত্য ও ন্যায়ের পথে আত্মত্যাগের শিক্ষাকে ধারণ করার আহ্বান জানিয়েছেন। ইসলামি শরিয়ত অনুযায়ী, শোকের নামে বাড়াবাড়ি বা শরীর রক্তাক্ত করার কোনো অবকাশ নেই। কারবালার সেই ত্যাগের মহান শিক্ষাকে ধারণ করে ভ্রাতৃত্ব, সাম্য ও ন্যায়ের পথে জীবন অতিবাহিত করাই আশুরার মূল শিক্ষা—এমনটাই অভিমত ধর্মপ্রাণ মানুষের।