• সোমবার, ৩১ অগাস্ট ২০২৬, ০৭:০৪ অপরাহ্ন
Headline
রং-বেরঙের বিয়ে এবং পেছনের গল্প রাজবাড়ীতে নারী উদ্যোক্তাকে প্রকাশ্যে মারধর-হেনস্তা, প্রতিষ্ঠান বন্ধ পুশ ইন ও সীমান্ত হত্যা বন্ধে আরও কার্যকর ব্যবস্থার আহ্বান রাষ্ট্রপতির ২০২৩ সালে ধর্মীয়-সামাজিক সংঘাত শীর্ষে ছিল বাংলাদেশ: পিউ রিসার্চ বাংলাদেশের স্বাস্থ্যব্যবস্থা শক্তিশালী করতে ২৪ লাখ ডলারের চিকিৎসা সরঞ্জাম দিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র রংপুরে ৪ খুন: সিদ্ধার্থ-মুগ্ধের ডোপ টেস্টে মাদকের উপস্থিতি মেলেনি রাজনৈতিক আনুগত্যের কাছে জিম্মি উপাচার্য নিয়োগ: নীতিমালার অভাবে অন্ধকারে দেশের উচ্চশিক্ষা শুল্ক হ্রাসের তিন মাস: সিন্ডিকেটের অজুহাত আর অব্যবস্থাপনায় আটকে আছে ভোক্তার স্বস্তি বিশ্বকাপের পর মেসির হ্যাটট্রিক ইউরোপে পরমাণু হামলার কথা ভাবছে যুক্তরাষ্ট্র

ইউপিতে প্রার্থীদের হিড়িক: বিএনপির মূল দুশ্চিন্তা অভ্যন্তরীণ বিদ্রোহ ও একক প্রার্থী নির্ধারণ

Reporter Name / ৩ Time View
Update : রবিবার, ৩০ আগস্ট, ২০২৬

চলতি বছরের শেষ দিকে ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনের মাধ্যমে সারা দেশে স্থানীয় সরকারের পাঁচ স্তরের ভোটযুদ্ধ শুরু করার জোর প্রস্তুতি নিচ্ছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। নির্বাচন কমিশনের প্রাথমিক পরিকল্পনা অনুযায়ী, আগামী সেপ্টেম্বর মাসেই ইউপি নির্বাচনের আনুষ্ঠানিক তফসিল ঘোষণা হতে পারে। তবে কেন্দ্র থেকে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক সাংগঠনিক নির্দেশনা বা প্রার্থী বাছাইয়ের সুনির্দিষ্ট রূপরেখা না এলেও মাঠপর্যায়ে আগাম নির্বাচনী প্রস্তুতি শুরু করে দিয়েছেন বিএনপির সম্ভাব্য প্রার্থীরা। দেশের প্রায় প্রতিটি ইউনিয়ন পরিষদেই চেয়ারম্যান পদে বিএনপির একাধিক প্রভাবশালী নেতা প্রার্থিতার ঘোষণা দিয়ে মাঠে নেমে পড়েছেন। কোনো কোনো ইউনিয়নে চার থেকে নয়জন পর্যন্ত আগ্রহী নেতা জনসংযোগ, পোস্টারিং ও মতবিনিময় শুরু করায় তৃণমূল পর্যায়ে চরম রাজনৈতিক উত্তাপ ও অভ্যন্তরীণ কোন্দলের তীব্র আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। ফলে দল-সমর্থিত একক প্রার্থী চূড়ান্ত করা এবং বাকিদের তাঁর পক্ষে ঐক্যবদ্ধ রাখাই এখন বিএনপির শীর্ষ নেতৃত্বের জন্য সবচেয়ে বড় সাংগঠনিক মাথাব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
তৃণমূলের একাধিক সূত্র নিশ্চিত করেছে যে, কেন্দ্র থেকে এখনো প্রার্থী নির্ধারণ বা নির্বাচনী কৌশল নিয়ে কোনো সুনির্দিষ্ট গাইডলাইন পাঠানো হয়নি। ফলে স্থানীয় নেতারা নিজেদের মতো করেই প্রাথমিক প্রচার-প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন। যেমন ফেনী সদর উপজেলার মোটবী ইউনিয়নে সাবেক চেয়ারম্যান জেলা পরিষদের প্রশাসক মনোনীত হওয়ায় সেই শূন্য পদে দলীয় সমর্থন পাওয়ার দৌড়ে মাঠে নেমেছেন বিএনপির অন্তত নয়জন নেতা-কর্মী ও প্রবাসী সমর্থক। স্থানীয় পর্যায়ে এই ধরনের বহুবিধ প্রার্থিতা দলের ভেতরের সম্প্রীতি নষ্ট করতে পারে বলে মনে করছেন জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের জ্যেষ্ঠ নেতারা। নির্বাচনের আগে আলোচনার মাধ্যমে সবাইকে সমঝোতায় এনে একজনকে মাঠে রাখা সম্ভব না হলে দীর্ঘমেয়াদে দলের সাংগঠনিক ভিত্তি দুর্বল হয়ে পড়ারও গভীর ঝুঁকি রয়েছে।
এই জটিল পরিস্থিতি অনুধাবন করে বিএনপির চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান স্থানীয় সরকার নির্বাচনে ‘একক প্রার্থী’ নিশ্চিত করার ওপর সর্বোচ্চ জোর দিচ্ছেন। রংপুর ও রাজশাহী বিভাগের ১২টি জেলা ও মহানগর নেতাসহ সম্প্রতি বগুড়া জেলা কমিটির সঙ্গে আয়োজিত একাধিক বিশেষ মতবিনিময় সভায় তিনি স্পষ্ট বার্তা দিয়েছেন যে, স্থানীয় সরকার নির্বাচনে তৃণমূলের ঐক্যই বিজয়ের মূল চাবিকাঠি। দলীয় সংসদীয় দলের সভায়ও তিনি সংসদ সদস্যদের তৃণমূলের সঙ্গে দূরত্ব দূর করে ঐক্য ধরে রাখার কঠোর নির্দেশ দিয়েছেন। দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে কেউ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করলে তাঁর বিরুদ্ধে বহিষ্কারসহ কঠোর শাস্তিমূলক সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়ার সুস্পষ্ট বার্তা দেওয়া হয়েছে। তবে আনুষ্ঠানিক নির্দেশনা জারি হওয়ার আগেই একাধিক নেতা মাঠে নেমে পড়ায় শেষ পর্যন্ত সবাইকে একজন প্রার্থীর পক্ষে কতটা নিয়ন্ত্রণে রাখা যাবে, তা নিয়ে শীর্ষ নেতৃত্বের মধ্যেও একধরনের সংশয় কাজ করছে।
বিএনপির কেন্দ্রীয় যুগ্ম মহাসচিব ও ময়মনসিংহ জেলা পরিষদের প্রশাসক এমরান সালেহ প্রিন্স জানিয়েছেন, স্থানীয় পর্যায়ে যাদের দৃশ্যমান জনপ্রিয়তা, পরিচ্ছন্ন ভাবমূর্তি এবং সাধারণ মানুষের কাছে গ্রহণযোগ্যতা রয়েছে, বিএনপি তাদেরই দলগতভাবে সমর্থন দেবে। দলের ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীও নিশ্চিত করেছেন যে, কেন্দ্র থেকে জেলা ও মহানগর পর্যায়ে ইতোমধ্যে দলীয় ঐক্য রক্ষা এবং একক প্রার্থীকে বিজয়ী করার বিষয়ে ধারাবাহিক সাংগঠনিক নির্দেশনা দেওয়া হচ্ছে।
এদিকে নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা গেছে, দেশের সিংহভাগ ইউনিয়ন পরিষদের মেয়াদ চলতি বছরেই শেষ হতে চলেছে। তাই ভোট আগামী বছর পর্যন্ত পিছিয়ে না দিয়ে এ বছরের নভেম্বর মাসের শেষ নাগাদ প্রথম ধাপের উপযোগী ইউপিগুলোতে ভোট সম্পন্ন করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। শারদীয় দুর্গাপূজা, বন্যা পরিস্থিতি, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের বার্ষিক পরীক্ষা এবং আগামী বছরের রমজান ও ঈদুল ফিতরের আগে শুষ্ক মৌসুমের অনুকূল আবহাওয়া কাজে লাগাতেই নভেম্বরের শেষ সপ্তাহকে প্রাধান্য দিচ্ছে ইসি।
দলীয় অন্তর্দ্বন্দ্বের পাশাপাশি বাইরের রাজনৈতিক সমীকরণও ভাবিয়ে তুলছে স্থানীয় বিএনপিকে। বর্তমানে কার্যক্রম নিষিদ্ধ থাকা আওয়ামী লীগের বহু স্থানীয় নেতা-কর্মী প্রকাশ্যে অনুপস্থিত থাকলেও ভেতরে-ভেতরে একজন করে স্বতন্ত্র প্রার্থী দাঁড় করিয়ে মাঠে নামার প্রস্তুতি নিচ্ছেন বলে খবর রয়েছে। অন্যদিকে সংসদের প্রধান বিরোধী দল জামায়াতে ইসলামী ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সম্ভাব্য প্রার্থীরাও আগে থেকেই মাঠপর্যায়ে সক্রিয়ভাবে প্রচারণা চালাচ্ছেন। ফলে দীর্ঘ বিরতির পর শুরু হতে যাওয়া এই স্থানীয় সরকার নির্বাচনে বিএনপিকে যেমন বিরোধী দলগুলোর রাজনৈতিক মোকাবিলার কৌশল সাজাতে হবে, তেমনি ঘরের ভেতরের একাধিক বিদ্রোহী প্রার্থীকে নিবৃত্ত করে একক প্রার্থীর পক্ষে দলীয় শৃঙ্খলা বজায় রাখার কঠিন চ্যালেঞ্জ পার হতে হবে।
তথ্যসূত্র: প্রথম আলো


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category