গত পরশু রাতের একটি অভিজ্ঞতা থেকে এ লেখা মাথায় এলো। অভিজ্ঞতাটির কথা এ লেখার শেষের দিকে বলব।
বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে পনের-বিশ বছর ধরে কাজ করছেন এমন অনেকেই তাঁদের একটি দুশ্চিন্তার ব্যাপারে আমাকে বলেন। সেটি হলো, দীর্ঘ দিন কাজ করার পর হঠাৎ তাঁরা দেখতে পাচ্ছেন, AI দক্ষতা না থাকায় তাঁরা গুরুত্ব হারাচ্ছেন।
আমি AI বিশেষজ্ঞ নই—কিন্তু এটি দিয়ে মোটামুটি কাজ চালানোর দক্ষতা আমার আছে। তাই বিশেষজ্ঞ মতামত না দিয়ে একদম শিক্ষানবিশের ভাষায় AI ভীতি কাটিয়ে ওঠার জন্য তাঁদের কিছু পরামর্শ দিতে চাই।
১) কী চান তা বুঝিয়ে বলুন
AI ব্যবহার করার প্রথম শর্ত হলো, আপনি যা চাইছেন তা বুঝিয়ে বলা।
AI-কে নির্দেশ বা প্রম্পট দেওয়ার সময় তিনটা জিনিস খেয়াল রাখুন—কী চান, কার জন্য চান, কীভাবে চান।
তাহলেই ৮০% যুদ্ধ জয় করা হয়ে যাবে।
২) প্রথমে সহজ কাজ দিন
শুরু করুন AI-কে ছোট ছোট প্রশ্ন করে। সহজ প্রশ্ন। যেমন, ‘আমাকে নেলসন ম্যান্ডেলা সম্পর্কে বলুন।’
৩) কাজসংশ্লিষ্ট প্রশ্নে যান
প্রথমে নিজের পছন্দমতো প্রশ্ন করে অভ্যস্ত হলে নিজের কাজ সম্পর্কিত প্রশ্নে যান। যেমন ধরুন, আপনি বগুড়ায় একটি রেস্টুরেন্ট খুলতে চান। সেক্ষেত্রে আপনি AI-কে জিজ্ঞেস করতে পারেন, বগুড়ার মানুষ কী ধরনের খাবার পছন্দ করেন।
৪) এবার একটু কঠিন কাজে হাত দিন। ইমেইল, অফিসিয়াল চিঠি—এগুলোর ড্রাফট AI-কে চেক করান। ভুল হলে ঠিক করতে বলুন।
৫) এরপর আরও গুরুত্বপূর্ণ কাজে হাত দিন। মিটিংয়ের এজেন্ডা বানানো, কোনো বিষয়ের প্রাথমিক তথ্য সাজানো, বাংলা-ইংরেজি অনুবাদ—এগুলো AI-কে দিয়ে করান।
৬) এবার বিভিন্ন প্রেজেন্টেশন AI দিয়ে বানান। এক্ষেত্রে আগে নিজে প্রেজেন্টেশন বানান—তারপর AI-কে ফাইন-টিউনিং করতে বলুন।
৭) এরপর পাওয়ার প্রেজেন্টেশন নিজে না বানালেও চলবে। শুধু AI-কে টপিক বা বিষয়বস্তু লিখে দিলে সে নিজেই বানিয়ে দেবে।
৮) এ পর্যায়ে এসে আপনার AI ভীতি কেটে যাবে। এখন শেখার পালা শেষ করে দক্ষ হওয়ার পালা। তাই AI সম্পর্কিত কোনো উপযুক্ত কোর্সে ভর্তি হতে পারেন।
৯) সবশেষে গুরুত্বপূর্ণ একটি কথা বলি। তা হলো, AI-এর তথ্য সঠিক কি না বিভিন্ন সোর্সে রিচেক করুন।
এবার যে অভিজ্ঞতার আলোকে এটি লেখা, সেটি বলি। আমার আম্মার রাতে ঘুম হয় না। প্রায় সারারাত জেগে থাকেন, ভোরের দিকে তাঁর ঘুম আসে। আমি মাঝে মাঝে ঘুম থেকে উঠে তাঁকে দেখতে যাই।
পরশু মাঝরাতে তাঁর রুমের বাইরে থেকে শুনি, তিনি কাকে যেন বলছেন, ‘বাংলাদেশে এখন রাত দুইটা, নিউইয়র্কের টাইম কত?’
আমি অবাক হলাম। আম্মা কার সাথে এত রাতে কথা বলছেন?
রুমে ঢুকে দেখি, তিনি চ্যাটজিপিটিকে নিউইয়র্কের সময় জিজ্ঞেস করছেন! কারণ সেখানে আমার বোন থাকেন, তিনি তাঁর সাথে কথা বলতে চান!
আমার ভাতিজা এক মাস বাসায় ছিল। সে আম্মাকে চ্যাটজিপিটি শিখিয়েছে!
আমার বৃদ্ধা মা যদি AI দিয়ে কাজ চালাতে পারেন, আমরা পারব না?
#আসুন মায়া ছড়াই