সারাদিনের মধ্যে প্রায় ৭-১০ ঘণ্টা আমরা বসে থাকি। আমাদের জীবনের
প্রতিদিনের ২৪ ঘণ্টা সময়ের মধ্যে অধিকাংশ সময়ই আমরা বসে কাজ
করি। সুতরাং, বসা অবস্থায় আমাদের কোমর বিশ্রামে থাকে না।
বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে, বসে থাকলে যে সমস্ত কারণের জন্য কোমর
ব্যথা হয় তাদের মধ্যে অন্যতম হলো:
মাসলের উপর স্ট্রেস হয়, লোডোর্টিক কার্ড কমে যায় সেজন্য আমাদের
রাউন্ডেড ব্যাক হয়, মাসল স্পাজম, মাসল দুর্বল, ডিস্কের উপর অধিক চাপ
পড়ার ফলে নার্ভে চাপ পড়ে, ভুল ভঙ্গিতে বসা, যা রক্ত সঞ্চালনকে বাধাগ্রস্ত
করে, ভাইটাল অর্গানগুলো পর্যাপ্ত পরিমাণ অক্সিজেন ও পুষ্টি পায় না।
আমরা অধিকাংশ সময়, লাম্বো স্যাকরাল রিজিওনের উপরে বসি,
সেজন্য আমাদের অনেক কষ্ট হয়। আমরা অবশ্যই সিটিং বোনসের উপর
বসবো। তারপর দু’ পায়ের গোড়ালি চেয়ারের ভেতরের দিকে থাকবে।
দু’পা ফাঁকা থাকবে। হিপ জয়েন্ট বরাবর যে ফোল্ড থাকে সে ফোল্ড
অনুযায়ী ভাঁজ করে বসতে হবে, যেন কোমরের লোডোর্টিক কার্ড সঠিক
থাকে। খানিকটা সময় পর পর উঠে দাঁড়াবেন এবং একটু হেঁটে আসবেন
অথবা দাঁড়িয়ে কয়েকবার পিছন দিকে বাঁকা হবেন।
দীর্ঘসময় ধরে কাজের পর বাড়িতে গিয়ে সন্ধ্যা-সকালে ৩০ মিনিট
উপুড় হয়ে শুয়ে থাকবেন। দু’ হাত কোমরে রেখে মাথা-কাঁধ উপরের দিকে
ওঠাবেন ১৫-২০বার। প্রতিবারে উপরের দিকে ধরে রাখুন ৫ সেকেন্ড করে,
আস্তে আস্তে সময় বাড়াবেন। এ কষ্ট থেকে মুক্তি পেতে হলে অবশ্যই সঠিক
ভঙ্গিতে বসতে হবে এবং সঠিক ব্যয়াম করতে হবে। প্রতি দশজন প্রাপ্তবয়স্ক লোকের মধ্যে আটজন জীবনের কোনো না কোনো
সময় কোমর ব্যথায় ভুগে থাকেন। বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে—প্রতি
চারজনের মধ্যে একজন দাঁড়িয়ে কাজ করেন। দাঁড়িয়ে থাকলে বসার চেয়ে
২০% অ্যানার্জি বেশি ব্যবহার হয়। সুতরাং দাঁড়িয়ে থাকলে বেশি ক্লান্ত লাগে। সেজন্য কোমরের ইনজুরি স্পাইনের অন্যান্য জায়গার চেয়ে বেশি
হয়ে থাকে। আমাদেরকে অবশ্যই জানতে হবে কীভাবে কোমর ব্যথা হওয়া
প্রতিরোধ করা যায়।
আমাদের স্পাইন ফ্লেক্সিবল। এখানে ২৪টি ভার্টিব্রা থাকে। প্রতিটা ভার্টিব্রার
মাঝে শক অ্যাবজর্ভ করার জন্য ডিস্ক থাকে। এছাড়াও লিগামেন্ট, মাসল ও
স্পাইনে কার্ড থাকে। আমাদের বসা, ওঠা এবং চলাফেরায় এই কার্ভের
পরিবর্তন হয় এবং কোমরে অনেক চাপ পড়ে। লোয়ার ব্যাক আমাদের
সারাদিনে অনেক ব্যবহার হয়।
যে সমস্ত কারণে দাঁড়িয়ে থাকলে ব্যথা হয় তার মধ্যে—স্ট্রেইন, স্প্রেইন,
স্পাইনের উপরে অনেক বেশি চাপ পড়া। এছাড়াও অন্যান্য কারণগুলোর মধ্যে
অন্যতম হচ্ছে—অনেকক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকা ও হাঁটা, ভুল ভঙ্গিতে অনেকক্ষণ
দাঁড়িয়ে কাজ করা। মাসল টাইটনেস বা খাটো হওয়া, স্পাইনের মধ্যে যে
ক্যানাল থাকে তা চেপে যাওয়া, ডিজেনারেশন, ডিস্ক ও নার্ভের উপর অনেক
চাপ পড়া। এছাড়াও ফ্যাসেট ও স্যাকরো ইলিয়াক জয়েন্টের সমস্যা।
আমাদের কাছে অনেকে প্রশ্ন করেন—কেন দাঁড়িয়ে থাকলে কোমর ব্যথা হয়,
আবার কিছুক্ষণ হাঁটলেও কোমর ব্যথা হয়। যারা ডায়াবেটিস রোগে ভুগছেন
তারা বলেন—হাঁটা অনেক জরুরি, আবার যারা গার্মেন্টস ও অন্যান্য
কর্মক্ষেত্রে দাঁড়িয়ে কাজ করেন তারা বলেন—সারাদিন আমাদের দাঁড়িয়ে
কাজ করতে হয়, সেজন্য দাঁড়িয়ে থাকলে কোমর ব্যথা হলে কী করবো।
দাঁড়িয়ে থাকলে দু’ ধরনের ব্যথা হয়। একটি হলো—কারো ব্যথা কোমরে
থাকে অথবা কারো ব্যথা কোমর থেকে পায়ের দিকে যায়। কিছু কিছু রোগী
আছে হাঁটলে বা দাঁড়িয়ে থাকলে তাদের ব্যথা হয়। তাদের জন্য পরামর্শ
হলো আপনি হাঁটতে থাকেন যতক্ষণ পর্যন্ত পায়ের দিকে ব্যথা নেমে না যায়।
যখন আপনার ব্যথা পায়ের দিকে নেমে যাবে তখন আপনি একটি বেঞ্চ বা
চেয়ারে বসে পড়বেন। যেখানে বেঞ্চ বা চেয়ার নেই সেখানে নিচে বসে
পড়বেন। কিছুক্ষণ বসে থাকার পর আবার কিছুক্ষণ হাঁটবেন। বাড়িতে ২
৩বার ব্যায়াম করবেন—মাথার নিচে বালিশ দিয়ে, চিৎ হয়ে শুয়ে, দুই হাঁটু
ভাঁজ করে বুকের দিকে টেনে এনে পাঁচ সেকেন্ড ধরে রাখবেন। চিৎ হয়ে শুয়ে
লম্বা লম্বা ফুঁ দেবেন। এবার আপনি পা লম্বা করে অর্থাৎ যে পায়ে ব্যথা আসে
অথবা দু’ পায়ে ব্যথা আসলে দু’ পা-এর স্ট্রেচিং করবেন।