• শনিবার, ১০ অক্টোবর ২০২৬, ০৩:২১ অপরাহ্ন

কোমর ব্যথায় করণীয়

Reporter Name / ৩ Time View
Update : শনিবার, ১০ অক্টোবর, ২০২৬

রমজান মাস হচ্ছে মহান আল্লাহর নিকটবর্তী হওয়ার মাস। এ মাসে মানুষ
নিজের গুনাহ থেকে ক্ষমা প্রার্থনার বিশেষ সুযোগ পায় এবং আল্লাহর প্রকৃত
বান্দা এ সুযোগকে কাজে লাগিয়ে আগেকার সকল পাপ ও পঙ্কিলতা হতে মুক্ত
হয়ে সুন্দর ভবিষ্যৎ গড়ার দিকে ধাবিত হয়। ফলে এ মাসে সকলেই নামাজের
প্রতি তুলনামূলকভাবে বেশি বেশি গুরুত্ব দেয়। যেহেতু রমজানে তারাবি নামাজ
দীর্ঘসময় ধরে পড়া হয় সেজন্য আমাদের কোমরের মাংসপেশী ও মেরুদণ্ডের
উপরে অতিরিক্ত চাপ পড়ে। ফলে কোমর ব্যথা হতেই পারে। এছাড়া রমজানে
আমরা পানি পান কম করে থাকি ফলে মাংসপেশীতে পানি স্বল্পতা দেখা দেয়,
যা কোমর ব্যথা তৈরি করে বা বাড়িয়ে দেয়। রমজানে সারাদিন সংযমের
পাশাপাশি যে কোনো অসুস্থতাই আমাদের জীবনকে অনেক কষ্টদায়ক করে
তুলতে পারে। তবে সে কষ্ট যদি হয় ব্যথাজনিত অসুস্থতা।
সেজন্য রহমত, বরকত ও নাজাতের দিনগুলো অসহনীয় হতে পারে নিমিষেই।
রমজানে কোমর ব্যথা হওয়ার অন্যতম কারণ হচ্ছে ভুল ভঙ্গি, হঠাৎ
করে বেশি সময় নামাজ আদায় করা, দাঁড়িয়ে থাকা, দিনের বেলায় কম
পানি পান করা। অন্যদিকে রোজা রাখার জন্য ১৬-১৭ ঘণ্টা না খেয়ে থাকতে
হয়, সে কারণে আমাদের শরীরের অধিকাংশ চর্বিগুলো ভেঙ্গে যায়। এ চর্বির
মধ্যে যে টক্সিন থাকে সে টক্সিন আমাদের ব্যাকপেইন তৈরি করে। যেমন:
আমাদের লোয়ার ইন্টেস্টাইনের ব্লাড ভেসেল, লাম্বো স্যাকরাল স্পাইনের
নার্ভের কাছাকাছি থাকে। সেক্ষেত্রে স্পাইনের ব্লাড ভেসেলগুলো তার খাদ্য হিসেবে নিউট্রিশন/ব্লাড-এর পরিবর্তে টক্সিন নিয়ে থাকে। এই টক্সিনই
রমজানে কোমর ব্যথা তৈরি করার কারণগুলোর মধ্যে অন্যতম। ফলে আমরা
কোমর ব্যথায় ভুগে থাকি।
কোমর ব্যথার স্থানে ঠাণ্ডা সেঁক দিন ১৫ মিনিট করে দিনে ২বার। সেঁক
দেয়ার আগে নারিকেল তেল ও রসুন একসঙ্গে গরম করে (কিছুক্ষণ গরম
করার পর ব্রাউন কালার হলে তা ঠাণ্ডা করুন) উক্ত স্থানে হালকা লাগিয়ে
ঠাণ্ডা (ভেজা সুতি কাপড়ের উপর দিয়ে বরফ লাগিয়ে) সেঁক দেবেন।
আমার দীর্ঘ তিন যুগের চিকিৎসার অভিজ্ঞতায় দেশে-বিদেশে দেখেছি
ফিজিওথেরাপি চিকিৎসা রমজানে ব্যথার রোগীর জন্য অত্যন্ত ফলদায়ক।
ফিজিওথেরাপি মোডালিটিস-এর আল্ট্রাসাউন্ড, স্ট্রেসিং, স্ট্রেন্দেনিং,
স্ট্যাবিলাইজেশন, মায়োফেসিয়াল রিলিজ এবং পরিশেষে মাসল অ্যাক্টিভেশন
চিকিৎসা অত্যন্ত কার্যকর।
যেমন— ঠাণ্ডা সেঁক নেয়ার পরে বালিশ ছাড়া
উপুড় হয়ে শোবেন।
এরপর দু’ হাত কোমরের উপর রেখে মাথা এবং কাঁধ ওঠাবেন ১০-১৫বার।
প্রতিবার হোন্ড বা ধরে রাখবে—৫ সেকেন্ড থেকে শুরু করে ১৫ সেকেন্ড
পর্যন্ত। ব্যায়ামটি দিনে দু’বার করুন। এছাড়াও প্রতিটি ভঙ্গি বা মুভমেন্টের
সময় পেটের মাংস শক্ত করে আপনার ভঙ্গি পরিবর্তন করুন।
যেমন: বিছানা থেকে ওঠার সময় পেটের মাংস শক্ত করে উঠে বসুন।
অবশ্যই নিকটস্থ ব্যাকপেইন বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন।
খাদ্য তালিকায় একটু পরিবর্তন আনতে হবে যেমন: ইফতার ও সেহরির
সময় প্রচুর পানি বা জুস পান করুন। অতিরিক্ত তৈলাক্ত ও ভাজা খাবার কম
খান। ধূমপান বর্জন করুন।
ফিজিওথেরাপি বিজ্ঞানী এবং নন সার্জিকেল সলিউশন ফর দ্যা স্পাইন
এর বিশেষজ্ঞদের মতে, এখনও এমন ওষুধ তৈরি হয়নি যে ওষুধ খেলে
আপনার দীর্ঘদিনের ব্যথা কমে যাবে, আপনার মাংসপেশী লম্বা হবে,
শক্তিশালী হবে এবং আপনার জয়েন্ট মবিলিটি বেড়ে যাবে।
তবে ফিজিওথেরাপি বা এক্সারসাইজ ইজ এ মেডিসিন, যা আপনাকে
এসব কষ্ট থেকে মুক্তি দেবে। সুতরাং, সম্পূর্ণ চিকিৎসা পেতে হলে আপনাকে
সঠিক মোবালাইজেশন, স্ট্রেসিং এবং স্ট্রেন্দেনিংয়ের মতো এক্সারসাইজ
করতেই হবে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category