১) আমার এক আত্মীয়ের ব্যাপারে খোঁজ নিতে কয়েকজন ভদ্রলোক তাঁর গ্রামে গেলেন। সম্ভবত কোনো সম্বন্ধ করার ব্যাপার ছিল। তাঁরা স্থানীয় কিছু লোককে তাঁর ব্যাপারে জিজ্ঞেস করলেন।
প্রায় সবাই তাঁর প্রশংসাই করলেন। শুধু একজন বললেন, ‘তেঁই মানুষ হারাপ ন, কিন্তু বাড়িত মেজ্জান-টেজ্জান ন দে।’ (তিনি মানুষ খারাপ না, তবে বাড়িতে মেজবান দেন না।)
মেজবান মানে মিনিমাম হাজারখানেক মানুষ খাওয়ানো!
আত্মীয় ভদ্রলোক সৎ মানুষ। তাঁর নিজেরই চলে না। এ আয়োজন তিনি কোত্থেকে করবেন? আর কেনই বা করবেন?
কিন্তু এটাই তাঁর দোষ!
কিছু মানুষ আপনার কোনো না কোনো দোষ খুঁজে বের করবেন।
জানালা দিয়ে বাইরে কিছুক্ষণ তাকান—কিছুক্ষণের মধ্যে এ রকম একজন না একজন চোখে পড়বে।
২) চট্টগ্রামে এক বাড়িতে পাত্রপক্ষ মেয়ে দেখতে এসেছেন ঢাকা থেকে।
পাত্রীর বাবা কয়েকজন আত্মীয়স্বজনকে এ উপলক্ষে দাওয়াত দিলেন। তাঁরা খুব আরাম করে খাওয়া-দাওয়া করলেন—আলোচনায় অংশ নিলেন।
বিদায়ের সময় তাঁদের একজন পাত্রপক্ষকে বললেন, ‘আপনাদের ঢাকার বাসার ঠিকানা দেন। আত্মীয়তা তো হয়েই গেল। পান-তামাক খাওয়ার জন্য মাঝেমধ্যে যাওয়া যাবে। হাহাহা।’
তাঁকে ঠিকানা দেওয়া হলো।
পরদিন গাঁটের পয়সা খরচ করে তিনি ঢাকা রওনা দিলেন। পান-তামাক খেতে নয়। বিয়ে ভাঙানি দিতে।
মহৎ (!) কাজটি শেষ করে তিনি অতি আনন্দিত চিত্তে বাড়ি ফিরে এলেন।
এই বস্তুও আমাদের চারপাশে দুর্লভ নয়।
৩) এ ঘটনাও বিয়েতে ঘটেছিল। পরিচিত এক মেয়ের বিয়ে হচ্ছে। পাত্র বেশ ভালো। শিক্ষিত, ভদ্র, সুদর্শন, ভালো চাকরি করে।
এক প্রতিবেশী খালাম্মা বিয়েতে এলেন। খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে জামাই দেখলেন। তারপর মেয়ের মাকে বললেন, ‘আপা, জামাইয়ের তো চুল মনে হয় পাতলা। অল্প বয়সেই তো টাকলা হয়া যাবে। দেইখ্যা-শুইন্যা এইটা কী জামাই আনলেন? মেয়ে বিয়া দিছে আমার খালাত বোন। জামাই উঁচা-লম্বা, বিরাট ফর্সা, টোকা দিলে মনে হয় শরীর ফাইট্যা রক্ত বাইরাবো। তারা আবার খাঁ বংশ। বিরাট খানদান।’
হাস্যোজ্জ্বল মেয়ের মায়ের চেহারা মুহূর্তে কালো হয়ে গেল। তিনি চেহারা ঘুরিয়ে নিলেন। বিয়ের আলোকসজ্জায় তাঁর চোখের পানি একটু বেশিই চকচক করছে।
এ রকম খালাম্মা হাত বাড়ালেই পাবেন। দুয়ারে দণ্ডায়মান। দরজা খুললেই ভেতরে ঢুকবেন।
এ রকম কারো সাথে আপনার দেখা হয়েছে?
দেখা হলে দূরে থাকুন।
ট্রাকের হাত থেকে থাকবেন এক শ হাত দূরে—এদের হাত থেকে থাকবেন শত মাইল দূরে।
#আসুন মায়া ছড়াই