Husband Things! সেটা আবার কী?
আমার এক বন্ধু। চমৎকার একজন মানুষ। উচ্ছল, প্রাণবন্ত। দুর্দান্ত মেধাবী। সে পড়ত ঢাকায়, আমি চট্টগ্রাম। পত্রমিতালীসূত্রে তার সাথে আমার পরিচয় হয়েছিল। তারপর তা ধীরে ধীরে গাঢ় হয়।
পরিচয়ের কয়েক বছর পর ওর বিয়ে হয়ে যায়। তখন ১৯৯২ সাল। এরপর ও একটি ব্যাংকে জয়েন করে।
২০০০ সালে ও জানাল ওদের বিচ্ছেদ হয়ে গেছে। আমি খুব অবাক হলাম। ওদের যে এত সমস্যা যাচ্ছে, তা জানতাম না।
তখন আমি ঢাকায় বদলি হয়েছি। একদিন সন্ধ্যায় ও আমাকে বাসায় চায়ের দাওয়াত দিল।
স্বাভাবিক ভদ্রতার কারণে আমি ওর ব্যক্তিগত বিষয় নিয়ে কোনো আলাপ তুললাম না। কিন্তু ও নিজেই বলল, ‘আমাদের এমন হলো কেন, তোর জানতে ইচ্ছে করে না?’
আমি বললাম, ‘তোদের নিজস্ব ব্যাপার…।’
সে নিজে থেকেই বলল, ‘হাজব্যান্ডদের কিছু ব্যাপার খেয়াল রাখতে হয়। তা না করলে ওয়াইফের জীবন নরক হয়ে যায়। অনেক সংসার শেষ পর্যন্ত টেকে না। আমি এগুলোকে বলি হাজব্যান্ড থিংস। আমাদের ক্ষেত্রে এটাই ঘটেছিল।’
আমি দীর্ঘ আলাপে যাব না। তার মূল কথাগুলো বলি—
১) বিয়ের পর একটি মেয়ে সম্পূর্ণ অপরিচিত আরেকটি বাড়িতে যায়। সে বাড়ির অনেক কিছুই সে বোঝে না। তাই প্রথম প্রথম কিছু ভুল হয়। হাজব্যান্ডের উচিত এগুলোর জন্য বউকে কেউ যেন কথা না শোনায়। একান্তে ঠিক করার পরামর্শ দেওয়া। ফাটলটা শুরু হয় এসব খোঁটা থেকে।
২) অন্যরা যদি জানে, স্বামী তাকে রক্ষা করবে না—সবাই তার সাথে যাচ্ছেতাই ব্যবহার করবে। তাই হাজব্যান্ডকে বুঝিয়ে দিতে হবে, সে স্ত্রীর প্রটেক্টর। তার অপমান সহ্য করা হবে না।
৩) একজন মেয়েকে ইচ্ছের বিরুদ্ধে কাজ করতে না দিয়ে ঘরে আটকে রাখা মানে তাকে চিড়িয়াখানার খাঁচায় বন্দি করে ফেলা। যার স্ত্রীকে কাজ করতে দেওয়ার ইচ্ছে নেই, তার এমন কাউকে বিয়ে করা উচিত—যে চাকরি-বাকরি করতে চায় না।
৪) ছেলেরা সব ক্ষেত্রে বীর সাজার চেষ্টা করে—কিন্তু একটি ক্ষেত্রে তারা অনেকেই কাপুরুষ। তা হলো, যদি তার সমস্যার কারণে বাচ্চা না হয়, কখনোই তা অন্যের কাছে স্বীকার করে না। এতে তার পুরুষত্বে লাগে। তাই সব দোষ গিয়ে পড়ে মেয়েটির ওপর। সবাই তাকে কথা শোনায়।
৫) অনেকে ভাবে স্ত্রীদের কোনো ইচ্ছে থাকতে নেই। সে যা বলবে, তাকে তা-ই করতে হবে। খুবই অন্যায় চিন্তা। বিয়ে মানে পার্টনার হওয়া—প্রভু হওয়া নয়।
৬) মেয়েরা সব মেনে নেয়—বাপের বাড়ির অপমান মানতে পারে না। কিন্তু অনেকেই কথায় কথায় ঠিক এ নরম জায়গায় আঘাত করে।
৭) প্রতিটি স্ত্রী চায়, সংসারে তার মতামতের মূল্য থাকবে। চাওয়াটা খুব বড় নয়, কিন্তু দাম্পত্য জীবনের জন্য অপরিহার্য।
৮) সবাই স্বামী হতে পারে, কিন্তু প্রেমিক হতে পারে না।
‘ব্যাপারগুলো তোর কাছে খুব গুরুত্বপূর্ণ মনে নাও হতে পারে, কিন্তু এগুলো খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এসব ছাড়া ঠেক দিয়ে সংসার চলে, কিন্তু যে বাঁশ দিয়ে ঠেক দেওয়া হয়, তাতে একসময় ঘুণ ধরে, তখন সেটি ধসে পড়ে।’
‘These are Husband Things.’
‘বুঝেছিস?’