ইরানের দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় এক রুদ্ধশ্বাস ও জটিল উদ্ধার অভিযান পরিচালনা করেছে যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ বাহিনী। ভূপাতিত এফ-১৫ (F-15) যুদ্ধবিমানের নিখোঁজ ক্রুকে উদ্ধারে সফল হলেও, কারিগরি জটিলতায় আটকে পড়া নিজেদের দুটি বিশাল পরিবহন বিমান শত্রুর হাত থেকে বাঁচাতে নিজেরাই ধ্বংস করে দিয়েছে মার্কিন বাহিনী।
গত শুক্রবার (৩ এপ্রিল) ভোরে ইরানের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার আঘাতে একটি মার্কিন এফ-১৫ যুদ্ধবিমান বিধ্বস্ত হয়। বিমানে থাকা দুজন ক্রুর মধ্যে একজনকে দ্রুত উদ্ধার করা সম্ভব হলেও দ্বিতীয় জন নিখোঁজ ছিলেন। প্রায় ৩৬ ঘণ্টা পর ইরানের গহীন পাহাড়ি অঞ্চল থেকে তাকে উদ্ধার করা হয়।
নিউ ইয়র্ক টাইমস-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, উদ্ধার অভিযানটি ছিল অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। মার্কিন কমান্ডোরা ইরানের ভেতরে গোপনে একটি অস্থায়ী রানওয়ে তৈরি করে এই অভিযান চালায়।
নিখোঁজ ক্রুকে উদ্ধারের জন্য প্রথমে দুটি সি-১৩০ (C-130) পরিবহন বিমান পাঠায় যুক্তরাষ্ট্র। কিন্তু অবতরণের পর কারিগরি ত্রুটি বা প্রতিকূল পরিবেশের কারণে বিমান দুটি সেখানে আটকে যায়। ইরানি বাহিনী যাতে অত্যাধুনিক এই যুদ্ধবিমানগুলোর প্রযুক্তি বা ধ্বংসাবশেষ কবজা করতে না পারে, সেজন্য মার্কিন কমান্ডোরা নিজেরাই বিমান দুটি ধ্বংস করে দেয়। পরবর্তীতে আরও তিনটি বিমান পাঠিয়ে সফলভাবে সেনা ও ক্রুদের সরিয়ে নেওয়া হয়।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এই অভিযানকে ‘মার্কিন ইতিহাসের অন্যতম দুঃসাহসিক অনুসন্ধান ও উদ্ধার অভিযান’ হিসেবে অভিহিত করেছেন। নিজের সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ তিনি লেখেন:
“আমার নির্দেশে বিশ্বের সবচেয়ে প্রাণঘাতী অস্ত্রে সজ্জিত ডজনখানেক বিমান এই অভিযানে অংশ নিয়েছে। শত্রু পরিবেষ্টিত এলাকা থেকে আমাদের সৈনিককে অক্ষত ফিরিয়ে আনা এক বিশাল বিজয়।”
উদ্ধারকৃত ক্রু সদস্য বর্তমানে কুয়েতে চিকিৎসাধীন রয়েছেন এবং তিনি দ্রুত সুস্থ হয়ে উঠবেন বলে আশা করা হচ্ছে।
উদ্ধারকৃত ক্রু
ওয়েপন সিস্টেম অফিসার (WSO)
ধ্বংসকৃত সম্পদ
২টি সি-১৩০ (C-130) বিমান
অংশগ্রহণকারী সেনা
শত শত বিশেষ কমান্ডো
বর্তমান অবস্থান
কুয়েত (চিকিৎসাধীন)
* মার্কিন ইতিহাসে প্রথমবার শত্রু এলাকায় পৃথকভাবে দুজন পাইলটকে উদ্ধার করা হলো।
ইরানের সংবাদমাধ্যমগুলোও নিশ্চিত করেছে যে, তাদের দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় মার্কিন বাহিনীর অস্থায়ী রানওয়ে স্থাপনের প্রমাণ পাওয়া গেছে। এই ঘটনা মধ্যপ্রাচ্যে চলমান ইরান-মার্কিন উত্তেজনাকে আরও কয়েক গুণ বাড়িয়ে দিল বলে ধারণা করা হচ্ছে।