• রবিবার, ১৯ এপ্রিল ২০২৬, ০৬:২৯ অপরাহ্ন
Headline
প্রধানমন্ত্রী ও জাইমা রহমানকে বাফুফেতে আমন্ত্রণ জানালেন অধিনায়ক আফিদা হাম-রুবেলার প্রাদুর্ভাব ঠেকাতে কাল থেকে সারা দেশে টিকাদান কর্মসূচি শুরু আ. লীগকেও পুনর্বাসনের সুযোগ দেওয়া উচিত: রাশেদ খান জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধির সঙ্গে আইএমএফের শর্তের কোনো সম্পর্ক নেই: অর্থমন্ত্রী সংসদে সরকারি দলের এমপিদের অঙ্গভঙ্গি: তীব্র ক্ষোভ ও নিন্দা জামায়াত আমিরের ‘সরকার জ্বালানি সংকট নিয়ে মিথ্যাচার করছে’: সংসদে রুমিন ফারহানা কিউবার সার্বভৌমত্ব রক্ষায় একজোট মেক্সিকো, স্পেন ও ব্রাজিল ইসরায়েলের অকুণ্ঠ প্রশংসায় ট্রাম্প, ঘনাচ্ছে নতুন বিতর্ক ‘ইরানকে অধিকার থেকে বঞ্চিত করার ট্রাম্প কে?’: পেজেশকিয়ান আলোচনায় অগ্রগতি না হলে কয়েক দিনের মধ্যেই ফের যুদ্ধ: মার্কিন কর্মকর্তা

প্রশাসকের চেয়ার থেকেই মেয়র প্রার্থী হওয়ার দৌড়ে বিএনপি নেতারা

নিজস্ব প্রতিবেদক / ৬ Time View
Update : রবিবার, ১৯ এপ্রিল, ২০২৬

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে এখন স্থানীয় সরকার নির্বাচন নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। সরকারের দায়িত্ব গ্রহণের পর জনগণের কাছে দেওয়া নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নেই বর্তমানে সর্বোচ্চ মনোযোগ দিচ্ছে বিএনপি। আগামী কয়েক মাসের মধ্যে এসব প্রতিশ্রুতির দৃশ্যমান বাস্তবায়ন ঘটিয়ে, তৃণমূল সংগঠন গোছানোর পর স্থানীয় সরকার নির্বাচনে পূর্ণ মনোযোগ দিতে চায় দলটি।

সরকারের একাধিক দায়িত্বশীল সূত্রের তথ্যমতে, আগামী এক থেকে দেড় বছরের আগে সিটি করপোরেশন নির্বাচন হওয়ার সম্ভাবনা নেই। তবে চলতি বছরের শেষ নাগাদ ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের মাধ্যমে এই প্রক্রিয়া শুরু হতে পারে। তার আগে জাতীয় সংসদে ফয়সালা হবে স্থানীয় নির্বাচন দলীয় নাকি নির্দলীয় প্রতীকে হবে।

প্রশাসক নিয়োগ: ‘পরীক্ষার আগে পরীক্ষা’

গত ৫ আগস্ট গণঅভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর সিটি করপোরেশনগুলোতে রদবদল আসে। সম্প্রতি ঢাকার দুই সিটিসহ দেশের ১১টি সিটি করপোরেশনে দলীয় নেতাদের প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ দিয়েছে বর্তমান বিএনপি সরকার। দলীয় নেতাদের এই নিয়োগ নিয়ে কিছু সমালোচনা হলেও সরকারের দাবি—রাজনৈতিক নেতারা জনপ্রতিনিধি হিসেবে সরকারি কর্মকর্তাদের চেয়ে জনগণের কাছাকাছি থেকে ভালোভাবে কাজ করতে পারবেন।

বিএনপির একাধিক দায়িত্বশীল নেতা জানিয়েছেন, মূলত মাঠ গোছানোর দায়িত্ব দিয়েই এসব নেতাকে প্রশাসক হিসেবে পাঠানো হয়েছে। বড় কোনো দুর্নীতি বা অপকর্মে না জড়ালে এই প্রশাসকরাই আগামী নির্বাচনে দলের মূল মেয়র প্রার্থী হিসেবে আবির্ভূত হবেন।

ঢাকা দক্ষিণ সিটির বর্তমান প্রশাসক ও বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আব্দুস সালাম বলেন, “মেয়র নির্বাচন করার জন্যই তো এখানে এসেছি। অতীতে ভারপ্রাপ্ত মেয়র হিসেবে কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে। এই দায়িত্বটিকে আমি ‘পরীক্ষার আগে পরীক্ষা’ হিসেবে দেখছি। নাগরিক সেবা নিশ্চিত করতে পারলে দল যদি মনোনয়ন দেয়, তবে নির্বাচন করব।”

ঢাকায় মেয়র পদে আলোচনায় যারা

ঢাকার দুই সিটিতে বর্তমান প্রশাসকদের পাশাপাশি আরও বেশ কয়েকজন হেভিওয়েট নেতা দলীয় মনোনয়নের অপেক্ষায় রয়েছেন:

  • ঢাকা দক্ষিণ সিটি: বর্তমান প্রশাসক আব্দুস সালামের পাশাপাশি এখানে সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে জোরালো আলোচনায় আছেন—মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী প্রকৌশলী ইশরাক হোসেন, দলের যুগ্ম মহাসচিব হাবিব-উন-নবী খান সোহেল, সাবেক ডেপুটি মেয়র কাজী আবুল বাশার, যুবদল সভাপতি আব্দুল মোনায়েম মুন্না, মহিলা দল সভাপতি আফরোজা আব্বাস এবং মহানগর দক্ষিণ বিএনপির সদস্য সচিব তানভীর আহমেদ রবিন।

  • ঢাকা উত্তর সিটি: বর্তমান প্রশাসক শফিকুল ইসলাম খান মিল্টন ছাড়াও এখানে মনোনয়ন দৌড়ে আছেন—সাবেক মেয়র প্রার্থী তাবিথ আউয়াল, ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির সাবেক সভাপতি এমএ কাইয়ূম, সদস্য সচিব মোস্তফা জামান, যুগ্ম আহ্বায়ক এবিএমএ রাজ্জাক এবং এম কফিল উদ্দিন আহমেদ।

অন্যান্য সিটিতে যারা প্রশাসকের দায়িত্বে (সম্ভাব্য প্রার্থী):

ঢাকার বাইরে আরও ৯টি সিটি করপোরেশনে বিএনপির প্রভাবশালী নেতাদের প্রশাসকের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে, যারা আগামীতে মেয়র প্রার্থী হওয়ার দৌড়ে সবচেয়ে এগিয়ে আছেন।

 

 

 

 

সিটি করপোরেশন প্রশাসকের দায়িত্বপ্রাপ্ত বিএনপি নেতা দলীয় পদবি/পরিচয়
খুলনা নজরুল ইসলাম মঞ্জু মহানগর বিএনপির সাবেক সভাপতি
সিলেট আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী জেলা বিএনপির সভাপতি
নারায়ণগঞ্জ মো. সাখাওয়াত হোসেন খান মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক
গাজীপুর মো. শওকত হোসেন সরকার মহানগর বিএনপির সভাপতি
বরিশাল বিলকিস জাহান শিরীন বরিশাল বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক
রাজশাহী মাহফুজুর রহমান মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক
ময়মনসিংহ রুকুনোজ্জামান রোকন দক্ষিণ জেলা বিএনপির সদস্য সচিব
রংপুর মাহফুজ উন নবী চৌধুরী মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব
কুমিল্লা ইউসুফ মোল্লা মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক

বিএনপির নীতিনির্ধারকরা মনে করছেন, প্রশাসক হিসেবে দায়িত্ব পালনের এই সুযোগ কাজে লাগিয়ে নেতারা যদি জনগণের আস্থা অর্জন করতে পারেন, তবে আগামী সিটি করপোরেশন নির্বাচনে দলের জয়লাভের পথ অনেকটাই সুগম হবে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category