দীর্ঘ প্রায় ১৯ মাস নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিহীন থাকার পর অবশেষে প্রাণ ফিরছে দেশের স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোতে। আগামী ঈদুল আজহার পর ধাপে ধাপে স্থানীয় সরকার নির্বাচন আয়োজনের নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। স্থানীয় সরকার বিভাগ ও নির্বাচন কমিশন (ইসি) সূত্রে জানা গেছে, প্রথম পর্যায়ে ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) এবং দ্বিতীয় ধাপে পৌরসভা নির্বাচনের মধ্য দিয়ে এই বিশাল কর্মযজ্ঞ শুরু হবে।
নির্বাচন কমিশনের তথ্যমতে, বর্তমানে দেশের ৪,৫৮১টি ইউনিয়ন পরিষদের মধ্যে ৩,৭৫৫টি নির্বাচন উপযোগী হয়ে আছে। আগামী বছরে আরও ৩৪৯টি ইউপি এই তালিকায় যুক্ত হবে। এছাড়া ভেঙে দেওয়া ৩৩০টি পৌরসভা, ৪৯৫টি উপজেলা পরিষদ, ১১টি সিটি করপোরেশন (চট্টগ্রাম ব্যতিত) এবং ৬১টি জেলা পরিষদও নির্বাচনের জন্য প্রস্তুত রয়েছে।
নির্বাচন আয়োজনের পথে প্রধান চ্যালেঞ্জ ছিল অন্তর্বর্তী সরকারের জারি করা স্থানীয় সরকার অধ্যাদেশসমূহ। স্থানীয় সরকার ও পল্লী উন্নয়ন প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম জানিয়েছেন, চলমান সংসদ অধিবেশনে এই অধ্যাদেশগুলো আইনে পরিণত হওয়ার পরপরই নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করা হবে। উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন হিসেবে এবার স্থানীয় সরকার নির্বাচনে দলীয় প্রতীক বাতিল করা হচ্ছে, যা আইনের মাধ্যমে স্থায়ী রূপ দেওয়া হবে।
স্থানীয় সরকার মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর নিশ্চিত করেছেন যে, চলতি বছরের মধ্যেই সব স্থানীয় নির্বাচন সম্পন্ন করার পরিকল্পনা রয়েছে। নির্বাচন কমিশনার আবদুর রহমানেল মাছউদ জানিয়েছেন, ঈদের পর কমিশন সভায় বসে পূর্ণাঙ্গ কর্মপরিকল্পনা সাজানো হবে। ভোটার তালিকা হালনাগাদ ও কেন্দ্র নির্ধারণের কাজও দ্রুত শুরু হবে।
২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থানের পর অধিকাংশ মেয়র, চেয়ারম্যান ও কাউন্সিলরদের অপসারণ বা পলাতক থাকার কারণে প্রশাসক নিয়োগ দিয়ে এসব প্রতিষ্ঠান চালানো হচ্ছিল। গত ১৭ ফেব্রুয়ারি নতুন সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর স্থানীয় পর্যায়ে জনপ্রতিনিধিত্ব ফিরিয়ে আনাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিচ্ছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই নির্বাচনের মাধ্যমে তৃণমূল পর্যায়ে রাজনৈতিক পরিবেশ যেমন সক্রিয় হবে, তেমনি উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডেও গতি ফিরবে।