টানা সংঘাত, প্রাণহানি ও চরম উত্তেজনার মধ্যেই নতুন দফার শান্তি আলোচনায় বসতে যাচ্ছে ইসরাইল ও লেবানন। যুক্তরাষ্ট্রের রাজধানী ওয়াশিংটন ডিসিতে আগামী সপ্তাহে এই গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। রয়টার্স ও এএফপিসহ একাধিক কূটনৈতিক সূত্রের তথ্যমতে, আগামী ১৪ ও ১৫ মে দুই দেশের প্রতিনিধিরা মার্কিন মধ্যস্থতায় এই আলোচনায় অংশ নেবেন। কয়েক দশকের বৈরিতার পর এটি হতে যাচ্ছে দুই দেশের মধ্যকার তৃতীয় সরাসরি বৈঠক।
আলোচনার মূল এজেন্ডা
দীর্ঘদিন ধরে চলা রক্তক্ষয়ী সংঘাতের প্রেক্ষাপটে এই বৈঠককে একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক অগ্রগতি হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা। আসন্ন এই আলোচনার মূল বিষয়বস্তু হিসেবে থাকছে—
সীমান্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।
লেবাননের ভূখণ্ড থেকে ইসরাইলি বাহিনীর সম্পূর্ণ প্রত্যাহার।
সংঘাতের কারণে বাস্তুচ্যুত মানুষদের নিজ এলাকায় নিরাপদ প্রত্যাবর্তন।
যুদ্ধবিধ্বস্ত অঞ্চলগুলোর দ্রুত পুনর্গঠন।
যুদ্ধবিরতির চেষ্টার মধ্যেও অব্যাহত হামলা
মার্কিন মধ্যস্থতায় এর আগে যুদ্ধবিরতির নানা প্রচেষ্টা হলেও বাস্তবে লেবাননের দক্ষিণাঞ্চলে ইসরাইলি বাহিনীর তীব্র হামলা এখনও অব্যাহত রয়েছে। গত বৃহস্পতিবারও (৭ মে) দেশটির একাধিক শহর লক্ষ্য করে বিমান ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর বাহিনী। এতে বেশ কয়েকজন হতাহত হওয়ার পাশাপাশি বহু ঘরবাড়ি ও মসজিদ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এমনকি ইসরাইলি বাহিনীর নির্দেশনায় কয়েকটি শহরের বাসিন্দাদের বাধ্য হয়ে এলাকা ছাড়তে হয়েছে।
লেবানন কর্তৃপক্ষের দেওয়া তথ্যমতে, গত ২ মার্চ থেকে শুরু হওয়া ইসরাইলি হামলায় দেশটিতে এখন পর্যন্ত অন্তত ২ হাজার ৭২৭ জন নিহত হয়েছেন এবং আহত হয়েছেন প্রায় সাড়ে ৮ হাজার মানুষ।
পাল্টাপাল্টি দাবি ও নেতানিয়াহুর হুঁশিয়ারি
হামলার জবাবে ইসরাইলি বাহিনীর ওপর একাধিক গোলাবর্ষণের দাবি করেছে লেবাননের সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহ। তবে তেল আবিবের দাবি, গত এক সপ্তাহে তারা হিজবুল্লাহর অন্তত ২০ যোদ্ধাকে হত্যা করেছে এবং ২০০টির বেশি সামরিক স্থাপনা ধ্বংস করে দিয়েছে। একই সঙ্গে উত্তর লেবানন সীমান্তে পরিস্থিতি মূল্যায়ন অব্যাহত রাখার কথাও জানিয়েছে তারা।
হিজবুল্লাহর ‘রাদওয়ান ফোর্স’-এর এক শীর্ষ কমান্ডার নিহত হওয়ার একদিন পর ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু নতুন করে কড়া হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। তিনি বলেন, “শত্রুরা যত সুরক্ষিত জায়গায়ই লুকিয়ে থাকুক না কেন, তারা নিরাপদ নয়। আমাদের অভিযান চলবে। আমি শত্রুদের স্পষ্টভাবে বলতে চাই, সন্ত্রাসীদের কোনো নিরাপত্তা নেই। যে ইসরাইলকে হুমকি দেবে, তাকে এর চরম মূল্য দিতে হবে।”
বিশ্লেষকদের প্রত্যাশা
ইসরাইল ও লেবাননের মধ্যে সরাসরি কোনো আনুষ্ঠানিক কূটনৈতিক সম্পর্ক না থাকায় এই আলোচনার বিষয়টি এখনও অত্যন্ত সংবেদনশীল একটি পর্যায়ে রয়েছে। তবে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, সংঘাত ও চরম উত্তেজনার এই পরিস্থিতিতে ওয়াশিংটন ডিসির আসন্ন বৈঠক থেকে অন্তত একটি স্থিতিশীল যুদ্ধবিরতির কাঠামো বা সমাধানের শক্ত ভিত্তি গড়ে উঠতে পারে।