টানা দেড় দশক ধরে শিক্ষার বিভিন্ন সূচকে যে ধারাবাহিক ও ঊর্ধ্বমুখী অগ্রগতি সাধিত হয়েছিল, তা এখন ক্রমশ পেছনের দিকে হাঁটতে শুরু করেছে। প্রাথমিক স্তরে শিক্ষার্থীদের ঝরে পড়ার হার হঠাৎ করেই আশঙ্কাজনকভাবে বেড়ে গেছে। অন্যদিকে উচ্চমাধ্যমিক পর্যায়ে অর্ধেকেরও বেশি আসন ফাঁকা পড়ে থাকছে। কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো বিপুল অবকাঠামোগত উন্নয়ন সত্ত্বেও কাঙ্ক্ষিত শিক্ষার্থী টানতে চরমভাবে ব্যর্থ হচ্ছে। এই সব কটি চিত্রই দেশের সামগ্রিক শিক্ষাব্যবস্থায় একটি গভীর ও কাঠামোগত সংকটের সুস্পষ্ট ইঙ্গিত দিচ্ছে। তীব্র শিক্ষক সংকট, পেশাগত অসন্তোষ, শিক্ষার্থীদের শ্রেণিকক্ষে অনুপস্থিতির ব্যাপক হার, নৈতিক মূল্যবোধের অবক্ষয়, কাঙ্ক্ষিত দক্ষতার অভাব এবং সরকার পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে শিক্ষানীতির বারবার পটপরিবর্তন—সব মিলিয়ে এক চরম বিশৃঙ্খল অবস্থার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে দেশের শিক্ষা খাত।
এমনই এক হতাশাজনক ও উদ্বেগজনক প্রেক্ষাপটের মধ্য দিয়ে দেশজুড়ে পালিত হচ্ছে শিক্ষা দিবস। পাকিস্তানি শাসনমলে শিক্ষাকে বেসরকারিকরণ ও বাণিজ্যিকীকরণের যে হীন চক্রান্ত করা হয়েছিল, তার বিরুদ্ধে গড়ে ওঠা ঐতিহাসিক ছাত্র আন্দোলনের রক্তঝরা স্মৃতিকে ধারণ করেই এই দিবসের উৎপত্তি। কিন্তু অত্যন্ত পরিতাপের বিষয় হলো, সেই ঐতিহাসিক আন্দোলনের ছয় দশক পার হওয়ার পরও দেশের শিক্ষাব্যবস্থার মৌলিক ও গুণগত মান নিয়ে উদ্বেগ আজো কাটেনি।
শিক্ষাব্যবস্থার এই বেহাল দশা সম্পর্কে নটর ডেম কলেজের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক এবং বাংলাদেশ কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির সহপ্রতিষ্ঠাতা এ এন রাশেদা গভীর ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। তাঁর মতে, শিক্ষা খাতকে কখনোই জাতীয় পর্যায়ে প্রকৃত অগ্রাধিকার দেওয়া হয়নি। প্রাতিষ্ঠানিক ও কাঠামোগত উন্নয়নের বদলে সংশ্লিষ্ট নীতিনির্ধারক ও অংশীজনরা শিক্ষাকে কেবল ব্যক্তিগত আর্থিক লাভের হাতিয়ার হিসেবেই বিবেচনা করে এসেছেন। এই বাণিজ্যিকীকরণ ও দুর্নীতির কারণেই পুরো খাতের মান আজ তলানিতে গিয়ে ঠেকেছে। শিক্ষার্থীদের মধ্যে নৈতিকতার চরম অবক্ষয় দেখা দিয়েছে এবং আমরা এমন একটি প্রজন্ম তৈরি করছি যাদের মধ্যে কোনো মৌলিক মূল্যবোধ নেই। তিনি আরও অভিযোগ করেন যে, দশকের পর দশক ধরে চলা রাষ্ট্রীয় অব্যবস্থাপনার কারণেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে অসহিষ্ণুতা বাড়ছে এবং শিক্ষকদের একটি অংশের মধ্যে অপেশাদার আচরণ প্রকট হয়ে উঠেছে। এমনকি অনেক সময় আমলারা শিক্ষকদের বেতনের জন্য বরাদ্দকৃত অর্থও আটকে রেখেছেন এবং বছর শেষে সেই অর্থ অব্যয়িত দেখিয়ে রাষ্ট্রীয় কোষাগারে ফেরত পাঠিয়েছেন। অথচ দীর্ঘমেয়াদি সংস্কারের কথা উঠলেই বাজেটের ঘাটতির খোঁড়া অজুহাত দাঁড় করানো হয়েছে। তিনি জোরালোভাবে বলেন যে, একটি মৌলিক ও কাঠামোগত পরিবর্তন ছাড়া কখনোই নীতিবান সুনাগরিক গড়ে তোলা সম্ভব নয়।
প্রাথমিক শিক্ষার ক্ষেত্রে গত ১৪ বছর ধরে ঝরে পড়ার হার ধারাবাহিকভাবে কমছিল, যা দেশের জন্য একটি বড় অর্জন হিসেবে দেখা হতো। কিন্তু এবার সেই ইতিবাচক ধারায় বড় ধরনের ছন্দপতন ঘটেছে। ২০২৩ সালে প্রাথমিক স্তরে ঝরে পড়ার হার যেখানে ছিল ১৩ দশমিক ১৫ শতাংশ, তা ২০২৪ সালে একলাফে বেড়ে ১৬ দশমিক ২৫ শতাংশে গিয়ে ঠেকেছে। প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের (ডিপিই) অ্যানুয়াল প্রাইমারি স্কুল স্ট্যাটিস্টিকস ২০২৪-এর প্রতিবেদন বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, এই ঝরে পড়ার প্রবণতা ছাত্রদের ক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি। ছাত্রদের ঝরে পড়ার হার ১৪ দশমিক ১২ শতাংশ থেকে বেড়ে ১৯ দশমিক ০২ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। অন্যদিকে ছাত্রীদের ক্ষেত্রে এই হার ১২ দশমিক ৩২ শতাংশ থেকে বেড়ে ১৩ দশমিক ৩৬ শতাংশ হয়েছে। বিশ্লেষকরা আশঙ্কা করছেন, ২০২৫ সালেও এই নেতিবাচক ঊর্ধ্বমুখী ধারা অব্যাহত থাকবে।
এই বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থী ঝরে পড়ার পেছনে মূলত লাগামহীন মূল্যস্ফীতি এবং অর্থনৈতিক সংকটকেই দায়ী করছে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর। মূল্যস্ফীতির কারণে শিক্ষার্থীদের দেওয়া উপবৃত্তির প্রকৃত আর্থিক মূল্য অনেক কমে গেছে, যা দিয়ে তাদের শিক্ষা ব্যয় মেটানো সম্ভব হচ্ছে না। পারিবারিক আয় কমে যাওয়ায় এবং অর্থনৈতিক চাপ বাড়ায় অনেক পরিবার বাধ্য হয়ে তাদের ছেলে সন্তানদের স্কুল থেকে ছাড়িয়ে শিশুশ্রমে যুক্ত করছে। আর মেয়েদের ক্ষেত্রে বাল্যবিবাহের মতো মর্মান্তিক পরিণতি বরণ করতে হচ্ছে। এ বিষয়ে শিক্ষাবিদ রাশেদা মনে করেন, শুধু বিনা মূল্যে পাঠ্যবই বিতরণ করলেই মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত হয় না। সরকারকে অবশ্যই শিক্ষকদের জন্য সম্মানজনক ও প্রতিযোগিতামূলক বেতন-ভাতা নিশ্চিত করতে হবে। পাশাপাশি শিক্ষকদের কঠোর প্রশিক্ষণের আওতায় আনতে হবে এবং বিদ্যালয়গুলোতে পর্যাপ্ত জনবল নিয়োগ দিতে হবে। তিনি আরও প্রস্তাব করেন যে, বাণিজ্যিক ঠিকাদারদের মাধ্যমে নয়, বরং জাপান ও চীনের মডেল অনুসরণ করে বিদ্যালয়গুলোর নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় শিক্ষার্থীদের জন্য দুপুরের খাবারের ব্যবস্থা করা উচিত। বেসরকারি ব্যবসায়ী ও রাজনৈতিক নেতাদের শিক্ষার নামে অর্থ লোপাটের সুযোগ দেওয়া হলে তা দীর্ঘমেয়াদে শিক্ষাব্যবস্থাকে পঙ্গু করে দেবে বলে তিনি সতর্ক করেন।
প্রাথমিকের পর উচ্চমাধ্যমিক স্তরের পরিস্থিতি আরও বেশি ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। আগামী ২৩ সেপ্টেম্বর থেকে একাদশ শ্রেণির ক্লাস শুরু হওয়ার কথা থাকলেও সারা দেশে কলেজগুলোর অন্তত ৬০ শতাংশ আসন এখনো শূন্য পড়ে আছে। সারা দেশে একাদশ শ্রেণিতে ভর্তির জন্য প্রায় ২৫ লাখ আসন রয়েছে, অথচ এ বছর ভর্তির জন্য আবেদন করেছে মাত্র ৯ লাখ ৯৫ হাজার শিক্ষার্থী। সবচেয়ে বড় উদ্বেগের বিষয় হলো, এ বছর এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় উত্তীর্ণ ১১ লাখ ৪৩ হাজার শিক্ষার্থীর মধ্যে প্রায় দেড় লাখ শিক্ষার্থী কলেজ ভর্তির জন্য কোনো আবেদনই করেনি। ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক সৈয়দ আকতারুজ্জামান এই বিপুলসংখ্যক আসন ফাঁকা থাকার পেছনে দীর্ঘদিনের পদ্ধতিগত অবহেলা এবং শিক্ষার্থীদের শ্রেণিকক্ষে উপস্থিত না থাকার প্রবণতাকে দায়ী করেছেন। তিনি জানান, এ বছর এসএসসি পরীক্ষায় ৩৭ শতাংশ পরীক্ষার্থী অকৃতকার্য হয়েছে, যা একটি বড় ধরনের বিপর্যয়। এই বিপর্যয়ের মূল কারণ হলো শিক্ষার্থীদের দীর্ঘস্থায়ী অনুপস্থিতি এবং শিক্ষাব্যবস্থায় দীর্ঘদিনের পুঞ্জীভূত অবহেলা। সরকার শিক্ষাকে যে পরিমাণ গুরুত্ব দেওয়া উচিত ছিল, তা দিতে চরমভাবে ব্যর্থ হয়েছে। তবে যে দেড় লাখ শিক্ষার্থী পাস করার পরও আবেদন করেনি, তাদের মধ্যে অনেকেই হয়তো কারিগরি বা ডিপ্লোমা কোর্সে ভর্তি হয়েছে বলে তিনি ধারণা করছেন। যদি তা-ই হয়, তবে সেটি ইতিবাচক। আর যারা ভুলত্রুটির কারণে আবেদন করতে পারেনি, তাদের পুনরায় সুযোগ দেওয়া হবে বলে তিনি জানান।
এদিকে কারিগরি শিক্ষার ক্ষেত্রে এক অদ্ভুত ও স্ববিরোধী পরিস্থিতি বিরাজ করছে। সরকার দ্রুতগতিতে কারিগরি শিক্ষার অবকাঠামো বাড়ালেও সেখানে শিক্ষার্থী ভর্তির হার চরম হতাশাজনক। বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের ২০২৪ সালের তথ্য অনুযায়ী, দেশে বর্তমানে চালু থাকা ১৪৯টি টেকনিক্যাল স্কুল অ্যান্ড কলেজে প্রায় ১ লাখ ৫৬ হাজার আসন রয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ৬৩ শতাংশ বা ৯৭ হাজার আসনই ফাঁকা পড়ে আছে। অথচ এর মধ্যেই আরও ৩৩৮টি নতুন কারিগরি প্রতিষ্ঠান নির্মাণাধীন রয়েছে, যা চালু হলে মোট আসনসংখ্যা বেড়ে দাঁড়াবে ২ লাখ ৮৫ হাজারে। যেখানে বর্তমান আসনগুলোই পূরণ হচ্ছে না, সেখানে শুধু ভৌত অবকাঠামো বাড়িয়ে শিক্ষার্থী আকৃষ্ট করা সম্ভব কি না, তা নিয়ে বড় ধরনের সংশয় দেখা দিয়েছে। কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের পরিচালক (কারিকুলাম) প্রকৌশলী অনিমেষ পাল অবশ্য জানিয়েছেন যে, সরকারি পলিটেকনিকগুলোতে ডিপ্লোমা কোর্সের ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। সেখানে ৪০ হাজার আসনের বিপরীতে প্রায় ৭০ হাজার আবেদন জমা পড়েছে। কিন্তু বেসরকারি কারিগরি প্রতিষ্ঠানগুলো চরম সংকটে ভুগছে। তিনি এর পেছনে দক্ষ শিক্ষকের অভাব এবং শিক্ষার্থীদের মানসিকতার পরিবর্তনকে দায়ী করেছেন। বর্তমানে শিক্ষার্থীরা হাতে-কলমে কাজ শেখার চেয়ে কোনোমতে একটি সনদ পেতেই বেশি আগ্রহী হয়ে উঠেছে। কারিগরি প্রশিক্ষণ বিশেষজ্ঞ সৈয়দ আজহারুল হক কারিগরি শিক্ষায় পশ্চাৎপদতার কারণ হিসেবে সেকেলে যন্ত্রপাতি এবং দুর্বল পাঠদান পদ্ধতিকে চিহ্নিত করেছেন। তাঁর মতে, আমাদের প্রশিক্ষণ কেন্দ্রগুলোতে আধুনিক কারখানার কোনো যন্ত্রপাতি নেই, অথচ চাকরির বাজারে উচ্চমানের দক্ষতা চাওয়া হয়। নিম্নমানের প্রশিক্ষণের কারণেই শিক্ষার্থীরা দক্ষতা অর্জন করতে পারছে না।
শিক্ষার্থী ভর্তি বা ঝরে পড়ার এসব পরিসংখ্যানের বাইরে শিক্ষাব্যবস্থার সবচেয়ে বড় ও মৌলিক ব্যর্থতা হলো একটি স্থায়ী, সর্বজনীন ও দীর্ঘমেয়াদি জাতীয় শিক্ষানীতির অনুপস্থিতি। ১৯৭২ সালের জুলাই মাসে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ মুজিবুর রহমান প্রখ্যাত বিজ্ঞানী ড. কুদরত-এ-খুদার নেতৃত্বে জাতীয় শিক্ষা কমিশন গঠন করেছিলেন। ১৯৭৪ সালের মে মাসে জমা দেওয়া ওই যুগান্তকারী প্রতিবেদনে অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত অবৈতনিক বাধ্যতামূলক শিক্ষা এবং কারিগরি, বিজ্ঞান ও নারী শিক্ষার ওপর সর্বোচ্চ জোর দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর সেই শিক্ষানীতির বাস্তবায়ন মুখ থুবড়ে পড়ে। এরপর বিভিন্ন সময়ে গঠিত সরকারগুলো আরও সাতটি পৃথক শিক্ষা কমিশন গঠন করেছে। কিন্তু এসব কমিশন কোনো স্থিতিশীল জাতীয় ঐকমত্য গড়ে তোলার বদলে মূলত কুদরত-এ-খুদা কমিশনের কাঠামোটিকেই তৎকালীন ক্ষমতাসীন দলের রাজনৈতিক মতাদর্শ অনুযায়ী রদবদল করেছে। ফলে দেশের শিক্ষা খাত একটি সুসংহত ও দীর্ঘমেয়াদি কৌশল ছাড়াই বছরের পর বছর ধরে পরিচালিত হয়ে আসছে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নন-ফরমাল অ্যান্ড লাইফলং এডুকেশন বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক মোহাম্মদ মজিবুর রহমান মনে করেন, বাংলাদেশের শিক্ষাদর্শন প্রতিটি রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের সঙ্গেই অস্বাভাবিকভাবে বদলে যায়, যা শিক্ষাব্যবস্থার জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর। ভারতের মতো প্রতিবেশী দেশের স্থিতিশীল জাতীয় নীতিমালার উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, সরকার পরিবর্তন হলেও শিক্ষার মূল দর্শন ও কাঠামো অপরিবর্তিত থাকা উচিত। নীতির এই ধারাবাহিকতা রক্ষায় তিনি যোগ্য ও দলনিরপেক্ষ বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে একটি স্থায়ী ও গবেষণানির্ভর শিক্ষা সংস্কার কমিশন গঠনের প্রস্তাব দিয়েছেন, যা সরকারগুলোকে সঠিক দিকনির্দেশনা দেবে। একই সঙ্গে কোনো সুনির্দিষ্ট জাতীয় নীতি ছাড়া যত্রতত্র স্কুল-কলেজ জাতীয়করণ এবং অপরিকল্পিতভাবে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান সম্প্রসারণের বিষয়েও তিনি কড়া সতর্কবার্তা উচ্চারণ করেছেন। সবশেষে অর্থনীতির ক্ষেত্রে সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) মতো শিক্ষা খাতেও একটি স্বাধীন ও নিরপেক্ষ তদারকি সংস্থা বা ওয়াচডগ প্রতিষ্ঠার জোর দাবি জানিয়েছেন তিনি, যা সরকারকে জবাবদিহির আওতায় আনবে এবং নীতি সংস্কারে কার্যকর ভূমিকা পালন করবে।