দীর্ঘ অভিনয় ও নির্মাণের ক্যারিয়ারে দুই ডজনেরও বেশি জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারসহ অসংখ্য সম্মাননা নিজের ঝুলিতে পুরেছেন প্রখ্যাত ব্যক্তিত্ব গাজী রাকায়েত। আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও তার নির্মিত কাজগুলো ব্যাপক প্রশংসা কুড়িয়েছে। তবে শোবিজ অঙ্গনের বর্ণিল পথপরিক্রমায় তিনি অতীতে যতটা না আলোচিত হয়েছেন, সম্প্রতি একটি পডকাস্টে এসে ইসলাম ধর্ম ও পবিত্র কোরআন নিয়ে নিজের অভিজ্ঞতার কথা জানিয়ে তার চেয়েও বেশি আলোড়ন তুলেছেন নেট দুনিয়ায়। তার এই আধ্যাত্মিক উপলব্ধির গল্প এখন নেটিজেনদের হৃদয় ছুঁয়ে যাচ্ছে।
ব্যক্তিগত জীবনে একসময় নিজের ধর্মীয় বিশ্বাস নিয়ে গভীর সংশয়ে ভুগতেন এই গুণী নির্মাতা। এমনকি পবিত্র কোরআনের বিভিন্ন আয়াতের মাঝে ভুল ও অসঙ্গতি বের করারও জোর চেষ্টা চালিয়েছিলেন তিনি। কিন্তু আশ্চর্যের বিষয় হলো, সেই ত্রুটি খুঁজতে যাওয়ার অনুসন্ধিৎসাই তার জীবনের মোড় ঘুরিয়ে দেয়। শুরুতে ভাসাভাসা জ্ঞানের ওপর ভিত্তি করে তিনি যেসব বিষয়কে ভুল ভেবেছিলেন, পরবর্তীতে গভীরভাবে কোরআন অধ্যয়ন, তাফসির ও প্রেক্ষাপট বিশ্লেষণের মাধ্যমে তিনি এর পেছনের অন্তর্নিহিত তাৎপর্য অনুধাবন করতে সক্ষম হন। তিনি বুঝতে পারেন, যেকোনো ধর্মীয় বিষয়কে সঠিকভাবে বিচার করতে হলে এর পেছনের গভীর জ্ঞান ও প্রেক্ষাপট জানা অপরিহার্য। নিজের দৃষ্টিভঙ্গির এই আমূল পরিবর্তনকে তিনি পরম সত্যের কাছে ‘আত্মসমর্পণ’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন।
ওই পডকাস্টে স্রষ্টার সৃষ্টির নানা উদাহরণ টেনে তিনি জানান, আধুনিক বিজ্ঞান আজ যেসব যুগান্তকারী আবিষ্কার করছে, পবিত্র কোরআনে বহু আগেই সেসব বিষয়ের সুস্পষ্ট ইঙ্গিত দেওয়া রয়েছে। এই ঐশী গ্রন্থের গাণিতিক বিন্যাস ও নিখুঁত গঠনশৈলী এতই চমৎকার যে, কোনো সাধারণ মানুষের পক্ষে তা রচনা করা একেবারেই অসম্ভব। এ বিষয়ে তিনি প্রয়োজনে বিশ্বের বড় বড় গণিতবিদদের প্রতিও চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়েছেন। বিনোদন জগতের এই দাপুটে তারকার এমন আধ্যাত্মিক রূপান্তর বর্তমানে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তুমুল আলোচনার জন্ম দিয়েছে। অনেকেই তার এই নতুন পথচলাকে অত্যন্ত ইতিবাচক ও অনুপ্রেরণামূলক হিসেবে দেখছেন, যদিও এর পাশাপাশি কিছু সমালোচনাও চোখে পড়ছে। তবে সব বিতর্ক ছাপিয়ে একসময়ের সংশয়বাদী এই নির্মাতা এখন নিয়মিত ধর্মকর্ম পালনেই নিজের জীবনের প্রশান্তি খুঁজে পেয়েছেন।